১. হ্রস্ব উদাত্ত ২. হ্রস্ব অনুদাত্ত ৩. হ্রস্ব স্বরিত |
৪. দীর্ঘ উদাত্ত
৫. দীর্ঘ অনুদাত্ত ৬. দীর্ঘ স্বরিত |
৭.
প্লুত উদাত্ত
৮. প্লুত অনুদাত্ত ৯. প্লুত স্বরিত |
শব্দের (Word) ক্ষেত্রে
|
|
আন্তর্জাতিক ধ্বনিলিপি অনুসারে এর চিহ্ন
একটি অ-ধ্বনি= অ (অ মেয়ে কি করিস ?)শব্দে অ-ধ্বনির অবস্থান:
ক (এ বিষয় কি বলার আছে, ক)
দুটি অ-ধ্বনি= অত, কত, শত ইত্যাদি।
তিনটি অ ধ্বনি=অমল, কতক, শতক ইত্যাদি।
চারটি অ ধ্বনি =অবনত, শতদল ইত্যাদি।
অমল= শেষের ল ধ্বনি রুদ্ধ হয়।অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ও-কার যুক্ত করে সমস্যা দূর করা যায়, এবং তা কেউ কেউ করেও থাকেন। যেমন 'কোন' শব্দটি 'কোন্' না 'কোনো' উচ্চারণ করা হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি হতেই পারে। তাই অনেক সময় -লিখিত রূপে কোনো' বানান অনুসরণ করা হয়। সাধারণত বাংলা শব্দে শব্দের মাঝখানে 'মুক্ত অ' থাকে না। কিছু বিদেশী শব্দে অনেকে শব্দের মাঝখানে 'মুক্ত অ' ব্যবহৃত হয়। যেমন ― সফ্টঅয়্যার। কিন্তু কারচিহ্ন-বিহীন ব্যঞ্জনবর্ণ প্রচুর শব্দ রয়েছে। এ সকল শব্দের কারচিহ্ন-বিহীন বর্ণগুলোকে মুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। যেমন ― কমল, কতক ইত্যাদি। আবার একাধিক বর্ণ নিয়ে গঠিত শব্দের শেষে অবস্থিত 'মুক্ত অ' এবং 'ব্যঞ্জনবর্ণযুক্ত অ'। আধুনিক বাংলায় শব্দের শেষে মুক্ত-অ ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু মধ্যযুগীয় বাংলায় 'অ' ক্রিয়া-বিভক্তি হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। যেমন ― হঅ গরুর রাখোআল, বোল আকাশ পাতাল/শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
কত= শেষের ত ধ্বনি ওকারান্ত হয়।
বল= আদ্য ব ধ্বনি অর্ধ-বিবৃত হয়।
কবি= আদ্য ক ধ্বনি অর্ধ-সংবৃত হয়। ফলে 'ক' হয়ে যায় 'কো'।
১. অ-ধ্বনির সংখ্যা: এক বা একাধিক অ-ধ্বনিযুক্ত শব্দ থাকতে পারে। এর ভিতরে একক অ ধ্বনি অ-ধ্বনির উচ্চারণ অর্ধ-বিবৃত অ (ɔ) হয়। এই সূত্র অন্যান্য কোনো সূত্রের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করে না।
২.১.আদ্য অ ধ্বনি:− 'অকুমারী' শব্দের অ-ধ্বনি। এর না-বোধক অর্থ হলো 'কুমারী নয়'। হিন্দু শাস্ত্রমতে ১২ বৎসর (তন্ত্রমতে ১৬ বৎসর) পর্যন্ত অবিবাহিতা কন্যাকে কুমারী বলা হয়। এর চেয়ে বেশি বয়সী অবিবাহিতা কন্যা কুমারী নয়। এই অর্থে অকুমারীর অর্থ দাঁড়ায় 'খাঁটি কুমারী'। কিন্তু সাধারণভাবে কুমারী শব্দ ব্যবহার করা হয় অবিবাহিতা কন্যাকে। এর সাথে বয়সের কোনো সম্পর্ক নেই।
একাধিক অ-ধ্বনিযুক্ত শব্দের শুরুতে যে অ-ধ্বনিটি থাকবে, তাকেই আদ্য অ-ধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই অ-ধ্বনি অর্ধ-বিবৃত (অ) বা অর্ধ-সংবৃত (ও) হতে পারে। অ-ধ্বনির এই পরিবর্তন সংঘটিত হতে পারে- অ-এর নঞর্থকতার বিচারে বা পরবর্তী স্বরধ্বনির দ্বারা প্রভাবে।
২.১.১. নঞর্থক অ: এই অ-ধ্বনি সকল সময় মুক্ত 'অ' হিসেবে থাকে এবং এই অ-ধ্বনি কোনো কোনো শব্দের মূল অর্থকে ভিন্নার্থে প্রকাশ করে। এই অর্থে এই অ-ধ্বনি নঞর্থক। নয় অর্থে না-বোধক হলেও সকল অর্থে নয়। যেমন
ɔkumari): অ (নয়) কুমারীঅকুমারী (
২.১.৩.১ পরবর্তী স্বরধ্বনির প্রভাব বিধি:―
শব্দের আদিতে যদি মুক্ত 'অ' বা ব্যঞ্জনযুক্ত ধ্বনি থাকে এবং এর পরবর্তী ধ্বনি হিসেবে 'ই, উ, ঋ ধ্বনি থাকলে, অ 'অর্ধ-সংবৃত' হবে। যেমন
ই ধ্বনি: এই ধ্বনি বানানের বিচারে ই, ই-কার , ঈ, ঈ-কার হিসেব থাকতে পারে।― অই>ওই (oi)
- আদি বর্ণ মুক্ত 'অ' এবং পরবর্তী বরর্ণের সাথে ই আছে। যেমন
কিছু ব্যতিক্রমধর্মী শব্দও পাওয়া যায়। যেমন- বন্ধ্যা (বন্ধা)।কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতির সিদ্ধান্ত অনুসারে, বর্তমানে রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না। ফলে বর্তমানে রেফ্-যুক্ত য-এর সাথে য-ফলা বসে না। কিন্তু ওই সকল ক্ষেত্রে য-ফলা না বসলেও অ-এর উচ্চারণ ও-কারের মতোই হবে। যেমন
― চর্যাপদ ( corɟɟapɔd)।২.২ মধ্য-অ [তিন বা ততোধিক বর্ণ নিয়ে গঠিত শব্দের আদি এব্ং অন্ত্য বর্ণের মধ্যবর্তী সকল বর্ণকে মধ্যবর্তী বর্ণ হিসেবে]–
২.২.১. শব্দের মাঝখানে সাধারণত মুক্ত অ থাকে না। কিন্তু কেউ কেউ বিদেশী শব্দের মাঝে মুক্ত অ ব্যবহার করে থাকেন। উচ্চারণের স্বার্থে এই জাতীয় শব্দে শব্দের মাঝখানে মুক্ত অ বসে। এক্ষেত্রে বিদেশী শব্দের ধ্বনি রীতিই অনুসরণ করা হয়। যেমন
আনত আ-নতো (a-nɔt̪o )।
২.৩.শব্দান্ত অ : শব্দান্ত অ-এর উচ্চারণে নিয়ম আছে আবার ব্যতিক্রমও প্রচুর। কিছু সূত্র আছে, যাদেরকে নির্ভেজাল সূত্রে বাঁধা যায়। যেমন–