নাথ সম্প্রদায়
ভারত ও নেপালের সনাতন হিন্দু ধর্মের একটি শাখা।  এর বিকাশ ঘটেছিল খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর ভিতরে।

বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখার শূন্যবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নাথধর্ম। আদি দেবতা ছিলেন নিরঞ্জন। নিরঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়েছিল শৈবশক্তির ভাবনা। তাই শিবকে নাথপন্থীরা আদি গুরু হিসেবে আদিনাথ বলা হয়। আদিনাথ-রূপী শিবের শিষ্য ছিলেন মীননাথ বা  মৎস্যেন্দ্রনাথ। তাই পার্থিব জগতে নাথ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয় এই মীননাথকেই ধরা হয়।

কথিত আছে- এদের ধর্মদর্শনের আদি গুরু
মৎস্যেন্দ্রনাথ শিবের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করেছিলেন।  তিনি তাঁর অন্যতম শিষ্য গোরক্ষনাথকে এই বিদ্যা দান করেন। গোরক্ষনাথকে এই মতাদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই সূত্রে নাথ সম্প্রদায় একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এই কারণে অনেকে গোরক্ষনাথকেই আদি গুরু বলে থাকেন।

নাথ মতাদর্শে অনুশীলনের অন্যতম অংশ হঠ যোগ। এর মাধ্যমে যোগীরা নিজেদের শরীর ও মনকে সিদ্ধ দশায় নিয়ে থাকেন।  যাঁরা এই সিদ্ধ দশার চরমতম অধ্যায়ে পৌঁছাতে পারেন, তাঁদেরকে বলা হয় মহাসিদ্ধ। নাথ মতে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছিলেন ৮৪ জন।  এই সিদ্ধনাথরা শৈবপন্থী এবং সহজিয়া বৌদ্ধদের কাছে নমস্য ছিলেন।

নাথ সম্প্রদায়ের ৮৪ সিদ্ধাচার্যার নাম
১.
গোরক্ষনাথ
২. মৎস্যেন্দ্রনাথ
২. দারিক পা

বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের মধ্যে চুরাশীজন মহাসিদ্ধ রয়েছেন
১.  অচিন্ত্য, 'অবাধ্য মুনি'
২. অযোগী, 'প্রত্যাখ্যাত অকর্মণ্য'
৩. অনঙ্গপা, 'সুদর্শন মূর্খ'
৪. আর্যদেব (কর্ণরিপা), 'এক-চক্ষুবিশিষ্ট'
৫. বভহ, 'মুক্ত প্রেমিক'
৬. ভদ্রপা, 'অদ্বিতীয় ব্রাহ্মণ'
৭. ভাণ্ডেপা, "ঈর্ষান্বিত ঈশ্বর"; ভীক্ষণপা, "দ্বি-দন্তবিশিষ্ট সিদ্ধ"; ভুসুকুপা (শান্তিদেব), "অলস সাধু"; চর্মরীপা, "স্বর্গীয় চর্মকার"; চম্পক, "ফুলের রাজা"; চর্বরীপা (চর্পতি) "প্যাট্রিফায়ার"; চত্রপা, "ভাগ্যবান ভিক্ষুক"; চৌরঙ্গীপা, "বিভাজিত সতীনপুত্র"; চেলুকপা, "পুনর্জাগরিত পুংসধুপ"; দাড়িকপা, "মন্দির-গণিকার দাসরাজা"; ডেঙ্গীপা, "নগরবধূর ব্রাহ্মণ দাস"; ঢহুলীপা, "ফোস্কা পড়া দড়ি-নির্মাতা"; ধর্মপা, "চিরন্তন ছাত্র" (৯০০ খ্রিঃ); ঢিলীপা, "প্রমোদপ্রিয় বণিক"; ধোবীপা, "জ্ঞানী ধোপা"; ঢোকরীপা, "পাত্র-বাহক"; ডোম্বীপা হেরুক, "ব্যাঘ্র আরোহী"; দুখণ্ডী, "মেথর"; ঘণ্টাপা, "অকৃতদার ঘণ্টা-বাদক"; ঘর্বরী বা ঘর্বরীপা, "অনুতপ্ত পণ্ডিত" গোধূরীপা, "পক্ষী বন্দীকারী "; গোরক্ষ, "অমর গোরক্ষক"; ইন্দ্রভূতি, "আলোকপ্রাপ্ত সিদ্ধ-রাজা"; জলন্ধর, "ডাকিনীর নির্বাচিত একজন"; জয়ানন্দ, "কাক প্রভু"; যোগীপা, "সিদ্ধ-তীর্থযাত্রী"; কলপা, "সুদর্শন পাগল"; কম্পরীপা, "কর্মকার"; কম্বল (লভপা), "কালো-কম্বল-পরিহিত যোগিন"; কণাখলা*, কনিষ্ঠা ছিন্নমস্তা বোন; কাহ্নপা (কৃষ্ণাচার্য্য), "কৃষ্ণাঙ্গ সিদ্ধ"; কঙ্কণ, "সিদ্ধ-রাজা"; কঙ্করীপা, "প্রণয়পীড়িত বিপত্নীক"; কন্তলীপা, "ন্যাকড়াধারী-দর্জি"; কপালপা, "মাথার খুলি বাহক"; খড়্গপা, "নির্ভীক চোর"; কিলকিলপা, "নির্বাসিত বাক্যবাগীশ"; কিরপলপা (কিলপা), "অনুতপ্ত বিজয়ী"; কোকিলীপা, "আত্মসন্তুষ্ট কলাবিদ্যাবিশারদ"; কোটালীপা (বা টগ শে পা, "কৃষক গুরু"); কুচীপা, "গলগণ্ড-গ্রীবাযুক্ত যোগিন"; কুক্কুরীপা, (অন্ত্য নবম/দশম শতক), "সারমেয় প্রেমিক"; কুম্ভরীপা, "কুমোর"; লক্ষ্মীঙ্করা*, "পাগল রাজকন্যা"; লীলপা, "রাজকীয় আনন্দবাদী দার্শনিক"; লুচিকপা, "পলায়নপর"; লুইপা, "মৎস্য-অন্ত্র ভক্ষণকারী"; মহীপা, "মহান"; মণিভদ্রা*, "সুখী গৃহবধূ"; মেধিনী, "ক্লান্ত কৃষক"; মেখলা*, জ্যেষ্ঠা ছিন্নমস্তা বোন; মেকোপা, "ভীতিপ্রদ-দৃষ্টি গুরু"; মীনপা, "মৎস্য-সংগ্রাহক"; নাগবোধি, "লাল-শিংযুক্ত চোর'"; নাগার্জুন, "দার্শনিক ও রসায়নবিদ"; নলীনপা, "আত্মবিশ্বাসী যুবরাজ"; নির্গুণপা, "আলোকপ্রাপ্ত নির্বোধ"; নারোপা, "নির্ভীক"; পচরীপা, "ময়রা"; পঙ্কজপা, "পদ্ম-জাত ব্রাহ্মণ"; পুতলীপা, "ভিক্ষাজীবী মূর্তি-বাহক"; রাহুল, "পুনঃশক্তিপ্রাপ্ত বৃদ্ধ"; সরহ, "মহান ব্রাহ্মণ"; সকর বা সরোরুহ; সমুদ্র, "মুক্তা ডুবুরী"; শান্তিপা (বা রত্নাকরশান্তি), "আত্মসন্তুষ্ট ধর্মপ্রচারক"; সর্বভক্ষ, "পেটুক"; শবরীপা, "শিকারি", Drukpa Künleg রূপে অবতীর্ণ; শিয়ালীপা, "শিয়াল যোগিন"; তান্তেপা, "জুয়ারি"; তান্তিপা, "জরাগ্রস্ত তাঁতি"; ঠগনপা, "বাধ্যতামূলক মিথ্যাবাদী"; তিলোপা, "মহান আত্মত্যাগী" উধিলীপা, "পক্ষী-মানব"; উপনহ, "জুতোনির্মাতা"; বীণাপা, "সঙ্গীতজ্ঞ"; বিরূপা, "ডাকিনী প্রভু"; ব্যালীপা, "বারাঙ্গনার রসায়নজ্ঞ"।


সূত্র :