ভাইরাসের
ক্রমবিবর্তনের ধারায়- বাদুর এবং বিভিন্ন পাখির দ্বারা এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল
৩৩০০ থেকে ২৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে। এদের দ্বারা মানুষ সংক্রামিত
হওয়ার পর এরা বহুবার তাদের জিনোম পাল্টে নতুন নতুন রূপ লাভ করেছে।
বোভাইন এবং মানব করোনাভাইরাস ওসি৪৩ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল ১৮৯০
খ্রিষ্টাব্দের দিকে। অন্যদিকে ১৮ শতকের শেষদিকে বোভাইন করোনাভাইরাস
ছড়িয়েছিল ইকুয়াইন করোনাভাইরাস প্রজাতি থেকে।
মানব করোনাভাইরাস এনএল৬৩ এবং বাদুড়ের করোনাভাইরাসের এমআরসিএ ৫৬৩-৮২২ বছর আগে উৎপত্তি লাভ করে।
আলপাকা করোনাভাইরাস এবং মানব করোনাভাইরাস ২২৯ই-এর উদ্ভব হয়েছিল ১৯৬০
খ্রিষ্টাব্দের দিকে। আর
১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বাদুড় করোনাভাইরাস এবং সার্স-কোভির সাথে সম্পর্কযুক্ত ভাইরাস উৎপত্তি লাভ করেছিল।
করোনা ভাইরাস যে সকল প্রজাতি মানুষের ক্ষতি করে থাকে তাকে দুটি
ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। এই ভাগ দুটি হলো-
- কম ক্ষতিকারক
- মানব করোনাভাইরাস ২২৯ই (এইচকোভি-২২৯ই)
- মানব করোনাভাইরাস ওসি৪৩ (এইচকোভি-ওসি৪৩)
- মানব করোনাভাইরাস এনএল৬৩ (এইচকোভি-এনএল৬৩, নিউ হ্যাভেন করোনাভাইরাস)
- মানব করোনাভাইরাস এইচকেইউ১
- মারত্মক ক্ষতিকারক
- সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স-কোভি বা সার্স ক্ল্যাসিক)
- মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম-সম্পর্কিত করোনাভাইরাস (মার্স-কোভি), আগে “নোভেল করোনাভাইরাস ২০১২” এবং “এইচকোভি-ইএমসি” হিসেবে পরিচিত ছিল
- কোভিড ১৯। সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস ২ (সার্স-কোভি-২), পূর্বে “২০১৯-কোভি” বা “নোভেল করোনাভাইরাস ২০১৯” হিসেবে পরিচিত ছিল
কোভিড-১৯-এর আত্মপ্রকাশ ও মহামারীতে রূপ লাভ
- novel coronavirus(2019-nCoV)
। চীনের হুবেই প্রদেশের বৃহত্তম শহর উহানে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের
ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে এই ভাইরাস স্থানীয় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমে ক্রমে মহামারীতে রূপ লাভ
করে। সে সময়ে সাধারণভাবে এই ভাইরাসকে অভিহিত করা হয়েছিল 'উহান ভাইরাস'। এই ভাইরাসটি
করোনা ভাইরাসের
একটি প্রকরণ হিসেবে চিহ্নিত করার পর, নামকরণ করা হয়, উহান করোনা ভাইরাস
(Wuhan coronavirus )
। প্রথম দিকে একে
Coronaviridae
গোত্রের অন্তর্গত
Betacoronavirus
গণের ভাইরাস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
পরে এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিচার করে, একে
Betacoronavirus
গণের অন্তর্গত Sarbecovirus
উপগণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছ।
প্রাথমিকভাবে এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগীদের পর্যবেক্ষণ করে, ধারণা করা হয়েছিল-
এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়েছিল উহান শহরের একটি খাবারের বাজারে মাংসের দোকানগুলো থেকে।
সে সময় মনে করা হয়েছিল এই ভাইরাস বন্যপশু বা সামুদ্রিক সাপের মাংস থেকে সংক্রামিত হয়েছিল। এরপর
কিছু গবেষকের সন্দেহ করেন যে, এই ভাইরাসটি মানুষের দেহে আশ্রয় নিয়েছিল বাদুর থেকে।
২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর শুরুর দিকে এই ভাইরাসের দ্বারা স্থানীয় কিছু মানুষ আক্রান্ত হলেও,
এর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। প্রথম দিকে আক্রান্ত মানুষের জ্বর, কাশি
ও শ্বাস-কষ্ট দেখে ডাক্তাররা প্রথমে ভেবেছিলেন ডিসেম্বরের ঠাণ্ডা থেকে
সৃষ্ট সাধারণ রোগ। কিন্তু যখন আক্রান্তদের কেউ কেউ নিউমোনিয়া এবং ফুসফসের
প্রদাহে মৃত্যুবরণ করতে থাকে, তখন চিকিৎসক এবং জীবাণু গবেষকরা এর কারণ
অনুসন্ধান শুরু করে। এই সূত্রে জানা যায়, এ সকল রোগের প্রধান কারণ
করোনা ভাইরাস।
চীনা কর্তৃপক্ষ এই করোনা ভাইরাসজনিত
এই রোগ হিসেবে প্রথম শনাক্ত করেছিলেন ৩১শে জানুয়ারি।
চীনের লি ওয়েনলিয়াং নামের
একজন চিকিৎসক সর্বপ্রথম এই
প্রাণঘাতী ভাইরাস সম্পর্কে জানতে পারেন এবং বিপদের সতর্কবাণী করেছিলেন। পরে
তিনিও এ ভয়ংকর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন। উল্লেখ্য, সে সময়ে
পুলিশ ডাক্তার লি’কে এই ভাইরাস সম্পর্কে মুখ বন্ধ করে রাখতে বলেছিলেন।
২০২০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি প্রথম দিকে ক্রমে ক্রমে উহান শহরে এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১১
জানুয়ারি প্রথম একজন বয়স্ক পুরুষ মানুষ এই ভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর চীন এই রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তারপরেও দ্রুত ভাইরাসটি উহান এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে থেকে।
এ এ ছাড়া
চীনের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরের সাথে বিমান পথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ থাকার কারণে,
এই ভাইরাস চীনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসজনীত রোগে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়,
চীনের উহান শহরের বাইরের এলাকা, জারমানি, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান, নেপাল, ভারত, মালোয়েশিয়া
ইত্যাদি দেশে। এবং দেখা যায় এ সকল রোগিদের সাথে উহান শহরের প্রত্যক্ষ সংম্পর্ক ছিল।
২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
WHO
বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৭ জন আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। আর মৃত্যুর
সংখ্যা ছিল ৩৬১ জন। তবে চীনের সরকারিভাবে দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল
না।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে চীনে
দুই সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং ৮০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়।
এই
সময়
চীনে এই
রোগের সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও- চীনের বাইরে ৩০টি দেশে
এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এর ভিতরে ২৭ জনের মৃত্যু ঘটে এবং
হাজার হাজার লোক আক্রান্ত হয়। এর ভিতরে দক্ষিণ কোরিয়া,
ইরান ও ইতালিতে এই ভাইরাসে কয়েকজনের মৃত্যু হলে, ওই সব দেশে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তবে এই তিনটি দেশে এই রোগের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
করোনা ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিরোধ
জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাএই ভাইরাস আক্রান্ত
রোগীদের যে লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছে, তা হলো- প্রাথমিকভাবে জ্বর, হাঁচি, শুষ্ক কাসি,
গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হয়। এবং চূড়ান্ত অবস্থায়
তা নিউমোনিয়াতে রূপ লাভ করে। এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে থাকে। তবে এই ভাইরাস আক্রান্ততের
মৃত্যুর হার মাত্র ২%। দুর্বল শ্বাসন্তের অধিকারী, বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
এই ভাইরাস আক্রান্ত রোগের কাশির সাথে এই রোগ ছাড়ায়। তাই এর প্রাথমিক প্রতিরোধের জন্য মাস্ক
ব্যবহার করা সঙ্গত। এছাড়া আক্রান্ত এলাকায় বিভিন্ন স্থানে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এ সব জায়গার
দ্রব্যাদি স্পর্শ করলে হাতে এই ভাইরাস চলে আসে। এই অবস্থায় হাত দিয়ে নাক, মুখ স্পর্শ করলে, ভাইরাস
দ্বারা সংক্রামণের সম্ভাবনা থাকে। তাই হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার না করে, মুখ বা নাক স্পর্শ করতে
নিষেধ করা হয়।
চীনে আটকা পরা বাংলাদেশের নাগরিক
ব্যবসা, শিক্ষাগ্রহণ, ভ্রমণ ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশী নাগরিক থেকে চীনে নিয়মিত যাতাওয়াত করে থাকেন।
চীনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে বহু বাংলাদেশী নাগরিক চীনে আটকা পড়ে। প্রথম দিক এক্ষেত্রে চীন স্বাস্থ্যগত
নিরাপত্তার কারণে এদের চীন ত্যাগ করার অনুমতি দেয় নি। পরে বাংলাদেশের উদ্যোগে এদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা
করা হয়। প্রথমে উহানে থাকা ৩৬১ জন বাংলাদেশী দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেন।
শেষ পর্যন্ত ৩১৪ জনের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত হলেও দু’জনের শরীরে অধিক তাপমাত্রা থাকায় তাদের রেখে আসা হয়। ফলে
৩১২ জন নাগরিক ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে উহান থেকে ৩১২ যাত্রী নিয়ে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছায়। এরপর বিআরটিসির ৮টি বাসে ৩০২ জনকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাদেরকে ১৪ দিনের জন্য চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ফিরে আসা যাত্রীদের মধ্যে ৭ জনের শরীরের জ্বর থাকায়,
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হয়।
পরে এদের দেহে কোনো করোনা না পাওয়ায় সবাইকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার
অনুমতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর বিস্তার
বাংলাদেশে 'কোভিড-১৯'-এর বিস্তার এবং তৎসম্পর্কিত সংবাদ সরকারিভাবে পরিবেশন শুরু
হয় ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ থেকে। আইইডিসিআর-এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা
আনুষ্ঠানিকভাবে 'কোভিড-১৯' সম্পর্কে প্রথম বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাংবাদিক সম্মেলনে।
এরপর থেকে প্রতিদিন বাংলাদেশে 'কোভিড-১৯' সম্পর্কিত তথ্যাদি উপস্থাপনের ব্যবস্থা
রাখা হয়। নিচের এর কালানুক্রমিক বিবরণ তুলে ধরা হলো-
১০ মার্চ: আক্রান্তের সংখ্যা ৩। [ঘোষণা: মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা]
১১ মার্চ: ১০ মার্চের পরীক্ষায় আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুই জন সুস্থ হয়েছেন এবং তাদের ছাড়পত্র প্রদান করা হবে।
[ঘোষণা: মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা]
১২ মার্চ: দুইজন কোভিড-১৯ রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে, পরীক্ষা করে তাঁদের শরীরে কোভিড-১৯ পাওয়া যায়নি। আইইডিসিআর ছাড়পত্র দিয়ে তাদের বাড়িতে যেতে অনুমতি দেয়া
হয়েছে। [ঘোষণা: মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা]
১৪ মার্চ: ২ জন কোভিড-১৯ রোগী আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। [ঘোষণা: মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা]
১৬ মার্চ: ৩ জন কোভিড-১৯ রোগী আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত
বন্ধ ঘোষণা। ১৮ মার্চ হতে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষিত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর স্থগিত করা হয়।
[ঘোষণা: মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা]
১৭ মার্চ: ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। [ঘোষণা: মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা]
১৮ মার্চ, ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় আরও ৪ জন, এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ তে পৌছায়।[৩৭][৩৮] আইইডিসিআর কর্তৃক বলা হয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর প্রথম মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বয়স ছিল ৭০ বছর। মারা যাওয়া ব্যক্তি বিদেশ থেকে আসা ও সংক্রমিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।[৩৯]
১৯ মার্চ, বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় আরও ৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা মোট ১৭ জনে পৌঁছায়। নতুন করে যে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন, তারা ইতালিফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।[৪০] ঐদিন বিকালে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা লক ডাউন তথা ওষুধ, কাঁচামাল, মুদি দোকান বাদে সব দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।[৪১][৪২] ঢাকা থেকে রাজশাহী এবং রাজশাহী থেকে ঢাকার সকল বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।[৪৩] সচিবালয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রস্তুতি বিষয় জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান করোনাভাইরাসের কারণে সঙ্গনিরোধ (কোয়ারেন্টিন) ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকাজে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে তুরাগতীরের মাঠ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।[৪৪] বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে সকল প্রকার ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।[৪৫]
২০ মার্চ, বাংলাদেশে নতুন করে তিনজন আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা সংবাদ সম্মেলনে জানান এদের সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রবাসীর সংস্পর্শে ছিলেন।[৪৬]
২১ মার্চ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২য় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরো ৪ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪।[৪৭] এদিন মধ্যরাত থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ১০ রুটের সব ধরণের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়ে।[৪৮]
২২ মার্চ, নতুন করে আরো ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। আগের তিনজনসহ মোট পাঁচজন সুস্থতা লাভ করে।[৪৯] পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।[৫০][৫১] বিকালে এক ঘোষণায় দোকান মালিক সমিতি ২৫শে মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব বিপণিবিতান বন্ধ ঘোষণা করে।[৫২]
২৩ মার্চ, নতুন করে আরও ৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং ১ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩ এ।[৫৩] মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণায় ২৯শে মার্চ থেকে ২রা এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষিত হয়। সাপ্তাহিক ছুটি সহ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কাঁচাবাজার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাসপাতালসহ জরুরি সেবা বিভাগ বাদে সকল সরকারি অফিস বন্ধ হয়। একই সাথে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।[৫৪]
২৪ মার্চ, নতুন ৬ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তার মধ্যে একজন ছিলেন বিদেশী প্রত্যাবাসী। ৭০ বছর বয়সী একজন কোভিড-১৯-এ মারা যান।[৫৫]
২৫ মার্চ, নতুন কোনো আক্রান্তের ঘটনা ঘটেনি, নতুন একজন মৃত্যুবরণ করেন।[৫৬]
২৬ মার্চ, নতুন ৫ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৪৪-এ পৌঁছায়। এর মধ্যে ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।[৫৭]
২৭ মার্চ, নতুন আরো ৪ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮-এ পৌঁছালো। এর মধ্যে ২ জন চিকিৎসক।[৫৮]
২৮ মার্চ, নতুন করে ০ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা এখনো ৪৮ জন। এর মধ্যে ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।[৫৯]
২৯ মার্চ, নতুন কোনো আক্রান্তের ঘটনা ঘটেনি, এমনকি কোনো রোগী সুস্থ বা মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি।[৬০]
৩০ মার্চ, নতুন ১ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন, যার মধ্যে ১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং এর মধ্যে ৩ জন ষাটোর্ধ ব্যাক্তিও আছেন।[৬১]
৩১ মার্চ, নতুন করে আরও ২ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫১ জনে। সুস্থ হয়েছেন আরও ৬ জন, মোট সুস্থের সংখ্যা এখন ২৫ জন।[৬২]
১ এপ্রিল, নতুন করে আরও ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৪-এ। এছাড়াও আইসোলেশনে রয়েছেন ৭৩ জন।[৬৩]
২ এপ্রিল, আরোও ২ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৬ জন। নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতোই ৬ জনে রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।[৬৪]
৩ এপ্রিল, আরোও ৫ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬১ জন। নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯ জন, যার মধ্যে ৭ জন নিজ বাসায় এবং ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।[৬৫]
৪ এপ্রিল, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭০। মোট মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ জন।[৬৬]
৫ এপ্রিল, একদিনেই নতুন ১৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৮৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে, দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ জন। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মত নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এটাই ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা।[৬৭]
৬ এপ্রিল, করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ১২ জন। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ জন। ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর এটাই প্রথম সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত করা হলো। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জন। [৬৮] আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার ৬৪,নারায়নগঞ্জ এর ২০, মাদারীপুরের ১১ এবং গাইবান্ধা জেলার ৫ জন ব্যক্তি ছিলেন। IEDCR কর্তৃক ৫টি জেলাকে ক্লাস্টার বা গুচ্ছ সংক্রমণের কেন্দ্র বলা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মূল সংক্রমণ এই পাঁচ জেলাতেই হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। এছাড়াও, কয়েকটি জেলায় গুচ্ছ সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে যেগুলোতে এরই মধ্যে একাধিক আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ২, জামালপুরে ৩, কুমিল্লায় ২,চুয়াডাঙ্গায় ১ ও সিলেটে ১ জন সহ সারা বাংলাদেশের ১৫ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে বলা গেছে।[৩]
৭ এপ্রিল, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ জনে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে আরো ৪১ জন, যা এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১৬৪ জন।[৬৯]
৮ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ২০। এ ছাড়া, নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।[৭০]
৯ এপ্রিল, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ১১২ জন। আজ ১ জনের মৃত্যু দিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২১ জন। দেশে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ৩৩০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।[৭১]
১০ এপ্রিল, দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৭ জনে পৌঁছালো। এছাড়াও নতুন করে আরো ৯৪ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২৪।[৭২]
১১ এপ্রিল, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩০ জন। এ সময়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। সব মিলে দেশে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ৪৮২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩ জন।[৭৩]
১২ এপ্রিল, দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪ জনে পৌঁছালো। এছাড়াও নতুন করে আরো ১৩৯ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬২১। নতুন করে ৩ জন সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯।[৭৪]
১৩ এপ্রিল, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। এসময়ের মধ্যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৮২। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮০৩। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৭০টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০,৬২৩টি।[৭৫]
১৪ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪৬। এ ছাড়া, নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২০৯ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১,০১২ জনে দাঁড়িয়েছে।[৭৬]
১৫ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মঈন উদ্দিন, যিনি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা একমাত্র ডাক্তার।[৭৭] এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২১৯ জন। এ নিয়ে করোনায় মোট মারা গেলেন ৫০ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১,২৩১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ৪৯ জন।[৭৮]
১৬ এপ্রিল, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জন মারা গেছেন। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৩৪১ জন। দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬০ জন। দেশে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ১,৫৭২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।[৭৯]
১৭ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৫। এ ছাড়া, নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৬ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১,৮৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।[৮০]
১৮ এপ্রিল, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৬ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত হলেন ২,১৪৪ জন এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সর্বমোট ৮৪ জনের। এছাড়াও নতুন করে ৮ জন সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৬।[৮১]
১৯ এপ্রিল, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জন মারা গেছেন। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৩১২ জন। দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯১ জন। দেশে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ২,৪৫৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে ৯ জন সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৫ জন।[৮২]
২০ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১০১। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯২ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২,৯৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ১০ জন। এ নিয়ে মোট ৮৫ জন করোনা রোগী সুস্থ হলেন।[৮৩]
২১ এপ্রিল, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১০ জনের। এসময়ের মধ্যে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৩৪ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩,৩৮২ জন। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ২ জন। এ নিয়ে মোট ৮৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২,৯৭৪টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৯,৫৭৮টি।[৮৪]
২২ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২০। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩৯০ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩,৭৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৫ জন। এ নিয়ে মোট ৯২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩,০৯৬টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২,৬৭৪টি ।[৮৫]
২৩ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২৭। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪১৪ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪,১৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ১৬ জন। এ নিয়ে মোট ১০৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলেন।[৮৬]
২৪ এপ্রিল,করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪ জন মারা গেছেন। দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ১৩১ । গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪ জন। এখন পর্যন্ত দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১২ জন।[৮৭]
২৫ এপ্রিল, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪০ জন। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৩০৯ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ৪,৯৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মোট সুস্থের সংখ্যা ১১২ জন।[৮৮]
২৬ এপ্রিল, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪৫ জনের। এসময়ের মধ্যে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫,৪১৬ জন। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৯ জন। এ নিয়ে মোট ১২২ জন করোনা রোগী সুস্থ হলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩,৪৭৬টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৬,৫৮৯টি।[৮৯][৯০]
২৭ এপ্রিল, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৭ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫২ জনের। এসময়ের মধ্যে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৯৭ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫,৯১৩ জন। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৯ জন। এ নিয়ে মোট ১৩১ জন করোনা রোগী সুস্থ হলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩,৮১২টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫০,৪০১টি।[৯১]
২৮ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৫৫। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫৪৯ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬,৪৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৮ জন। এ নিয়ে মোট ১৩৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলেন।গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪,৩৩২টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪,৭৩৩টি।[৯২]
২৯ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬৩। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৬৪১ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭,১০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ১১ জন। এ নিয়ে মোট ১৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলেন।গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪,৯৬৮টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯,৭০১টি।[৯৩]
৩০ এপ্রিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬৮। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫৬৪ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭,৬৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ১০ জন। এ নিয়ে মোট ১৬০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলেন।গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪,৯৬৫টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৪,৬৬৬টি।[৯৪]
১ মে, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭০ জন। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৫৭১ জন। আজ দেশে প্রথম কোনো সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যার নাম মো. শহীদুজ্জামান সরকার এবং তিনি নওগাঁ–২ আসনের সংসদ সদস্য। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪ জন। এ নিয়ে মোট ১৭৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলেন।[৯৫][৯৬]
২ মে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৭৫। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫৫২ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৮,৭৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে মোট ১৭৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫,৮২৭টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৬,০৬৬টি।[৯৭]