অমর দাশ

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে অঙ্কিত চিত্র

১৫০৯-১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দ
শিখ ধর্মের তৃতীয় ধর্মগুরু।

১৫০৯ খ্রিষ্টাব্দের ৫ মে মার্চ দিল্লী সালতানাতের বাসারকিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম তেজবান দাস ও মায়ের নাম লক্ষ্মী দেবী। জন্মগত সূত্রে ইনি ছিলেন হিন্দু ক্ষত্রিয় জাতিগোষ্ঠীর বল্ল গোত্রের।

শিখদের দ্বিতীয় গুরু অঙ্গদের কন্যা আমরো ছিলেন অমর দাশের ভাতজার স্ত্রী। আমরোর কাছে গুরুনানকের একটি স্তোত্র শুনে, শিখ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন। অমর দাশের পীড়াপীড়িতে আমরো তাঁর পিতা অঙ্গদের সাথে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে অঙ্গদের সাথে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অঙ্গদের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে শিখ ধর্মের পণ্ডিত হয়ে ওঠেন। ১৫৫২ খ্রিষ্টাব্দে  অঙ্গদের মৃত্যুর পূর্বে, তিনি অমর দাশকে শিখ গুরুর দায়িত্ব প্রদান করেন।

অমর দাশ গুরুদের শিক্ষাদানের পদ্ধতির পরিবর্তন করেন। তিনি প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছকর্মী দ্বারা মঞ্জি ব্যবস্থা নবতর লঙ্গর ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। একই সাথে দীপাবলি এবং বৈশাখী উৎসব প্রবর্তন করেন। তবে সবচেয়ে বড় কল্যাণকর বিষয় ছিল- তিনি সতীদাহ প্রথা এবং পর্দা প্রথা রদ করেন।

১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন।  মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর জামাতা ভাই জেতাকে গুরুপদ দান করে যান।  পরবর্তী সময়ে জেতা, রাম দাশ নামে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল- মনসা দেবী। তাঁর সন্তানরা ছিলেন-  ভাই মোহন (১৫০৭ - ১৫৬৭) , ভাই মোহির (১৫১৪ - ১৫৬৯), বিবি দানি (১৫২৬ - ১৫৬৯) ও  বিবি ভানি (১৫৩২ - ১৫৯৮)