রাম দাশ

চণ্ডীগড় যাদুঘরে রক্ষিত, জলরঙে আঁকা তাঁর ছবি

১৫৩৪-১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দ
শিখ ধর্মের চতুর্থ ধর্মগুরু।

১৫৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর , পাঞ্ঝাবের লাহোরের মাণ্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম হরি দাশ এবং মায়ের নাম অনুপ দেবী (দয়া কউর)।   গুরু অমর দাশ-এর কনিষ্ঠা কন্যা বিবি বানি ছিলেন তাঁর স্ত্রী। তাঁদের তিন পুত্র ছিলেন- পৃথ্বী চাঁদ, মহাদেব ও গুরু অর্জন।

শিখ ধর্মগ্রন্থ গ্রন্থসাহিবের পূর্ণাঙ্গ সংকলন তিনিই তৈরিই করেন। একই সাথে তিনি শিখ সমাজের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছিলেন। তিনি শিখ বিবাহের চারটি মন্ত্র রচনা করেছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে নব দম্পতি গুরু রাম দাসের স্তবকগুলির একটি করে পাঠ করেন এবং গুরু গ্রন্থ সাহিবকে কেন্দ্র করে একটি করে পাক ঘুরে আসেন। প্রথম পাকটি, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, গৃহস্থ জীবনে প্রবেশ করার জন্য। দ্বিতীয় পাকে ঈশ্বরের ইচ্ছায় দুটি প্রাণের মিলনের জন্য। তৃতীয় পাকে, নবদম্পতিকে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হিসাবে বর্ণনা করা হয়, যেহেতু তারা গুরুর সান্নিধ্যে ঈশ্বরের প্রার্থনা করেছেন। চতুর্থ পাকে, বর্ণিত হয় যে দম্পতিরা তাদের ইচ্ছা অনুসারে একে অপরকে পেয়েছেন এবং অভিনন্দিত হয়েছেন। শিখ বিবাহকে একটি আধ্যাত্মিক মিলন হিসাবে, সংজ্ঞায়িত করেছিলেন। তাঁর রচিত স্তবকের দুটি  পঙ্‌ক্তিতে বলা হয়েছে- 'যাঁরা নিছক একসঙ্গে বসবাস করে, তাদের স্বামী ও স্ত্রী, বলা যায় না, তাদের একা বলা যায়। কিন্তু যাঁরা এক আত্মা দুই দেহ অর্থে একত্রে বাস করেন- তাঁদের স্বামী ও স্ত্রী, বলা যায়।'

১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ) গুরু রাম দাশ সুলতানবিন্দ গ্রামের কাছাকাছি সন্তোকসর সরোবর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন।

লাহোরে রামদাশের সাথে সম্রাট আকবরের সাক্ষাৎ হলে, উভয়ের মধ্যে ধর্মবিষয়ক আলোচনা হয়। আলোচনায় সন্তুষ্ট হয়ে- আকবর তাঁকে কিছু ভূমিদান করেন। ঐ ভূমি গোলাকার হওয়ায়, এর নাম হয়েছিল 'চক্র রামদাস'। রামদাসের শিষ্যদের সাহায্য রামদাস। এর কিছুদিন পর তিনি এই স্থানে একটি দীঘি খনন করান। এই দীঘির চার দিকে কিছু মন্দির নির্মাণ করেন এবং কিছু শিষ্যদের জন্য কিছু বাড়ি নির্মাণ করে দেন।
তখন লোকমুখে এর প্রচলিত ছিল 'গুরু দা চক'। ১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শিখদের চতুর্থ গুরু রাম দাশ  গুরুনানক -এর স্বপ্নপূরণের জন্য টাং গ্রামের মালিকের কাছ থেকে ৭০০ টাকায় জমি কিনে সেখানে বেশ কয়েকটি শিখ মন্দির তৈরি করেন। তখন এই স্থানের নামকরণ করা হয়েছিল রামদাশপুর।

১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর তিনি অমৃতসর শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর গুরু পদ লাভ করেন তাঁর পুত্র অর্জন দাশ