বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: মার্হাবা সৈয়দে মক্কী-মদনী আল্-আরবী।
মার্হাবা সৈয়দে মক্কী-মদনী আল্-আরবী।
বাদ্শারও বাদশাহ্ নবীদের রাজা নবী॥
ছিলে মিশে আহাদে, আসিলে আহমদ হয়ে
বাঁচাতে সৃষ্টি খোদার, এলে খোদার সনদ ল'য়ে,
মানুষে উদ্ধারিলে মানুষের আঘাত সয়ে-
মলিন দুনিয়ায় আনিলে তুমি যে বেহেশ্তী ছবি॥
পাপের জেহাদ-রণে দাঁড়াইলে তুমি একা
নিশান ছিল হাতে ‘লা-শরীক আল্লাহ্, লেখা,
গেল দুনিয়া হতে ধুয়ে মুছে পাপের রেখা-
বহিল খুশির তুফান উদিল পুণ্যের রবি॥
- ভাবসন্ধান: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির মুক্তিদাতা, শান্তির দূত এবং আল্লাহর একত্ববাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচারক। তাঁর আত্মত্যাগ, ধৈর্য, মানবপ্রেম ও নৈতিক আদর্শ পৃথিবীকে অজ্ঞতা ও পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সত্য, ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের নতুন যুগের সূচনা করেছে।
এই আদর্শে রচিত এই গানে কবি আল্লাহর প্রতি এক দরিদ্র, বিনম্র ও ব্যাকুল ভক্তের হৃদয়ের আকুতি
উপস্থাপন করেছেন। বাহ্যিক জীবনে সাফল্য ও প্রাচুর্য থাকলেও তাঁর অন্তর আধ্যাত্মিকভাবে শূন্য। সেই শূন্যতাকে আল্লাহর প্রেম, স্মরণ ও হেদায়েত দিয়ে পূর্ণ করে দেওয়ার জন্যই তিনি প্রার্থনা করছেন।
গানের শুরুতেই কবি বলেন, তাঁর মাঠে প্রচুর ফসল ফলেছে, অর্থাৎ পার্থিব জীবনে কিছু সাফল্য ও প্রাপ্তি এসেছে; কিন্তু তাঁর মনের ফসল ফলে নি। এখানে মনের ফসল বলতে ঈমান, আল্লাহর প্রেম, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতাকে বোঝানো হয়েছে। তাই তিনি শূন্য হৃদয় নিয়ে আল্লাহর দিকে চেয়ে থাকেন এবং তাঁর রহমতের অপেক্ষা করেন।
এরপর কবি একটি সুন্দর রূপকের আশ্রয়ে বলেন, আল্লাহ যেমন আরবের অনুর্বর মরুভূমিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়ে সেই অঞ্চলকে ঈমান ও হেদায়েতের আলোয় আলোকিত করেছিলেন, তেমনি তাঁর নিজের হৃদয়ও যেন এক মরুভূমি। তিনি প্রশ্ন করেন-
'হে আল্লাহ, আমার অন্তরকে কেন অনুর্বর রেখেছ? আমি কি দরিদ্র বলে তোমার বান্দা নই?' এই প্রশ্নে কোনো অভিযোগের সুর নেই; বরং রয়েছে করুণাভরা মিনতি এবং আল্লাহর রহমত লাভের আকাঙ্ক্ষা।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি জানান, তিনি পৃথিবীর যশ, সম্মান বা ধনসম্পদ চান না। তাঁর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর নামের
'সরবত'। এখানে সরবত রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; এটি আল্লাহর স্মরণ, প্রেম ও আত্মিক প্রশান্তির প্রতীক। যেমন সরবত তৃষ্ণা নিবারণ করে, তেমনি আল্লাহর স্মরণ মানুষের আত্মার তৃষ্ণা দূর করে এবং অন্তরে শান্তি এনে দেয়।
গানের শেষাংশে কবি আল্লাহর অসীম দয়ার ওপর ভরসা রেখে বলেন, মানুষ যা আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা দান করেন। তাই তিনি নিজের মানত পূর্ণ করার এবং তাঁর প্রাণকে আধ্যাত্মিকভাবে সঞ্জীবিত করার আবেদন জানান। তাঁর শেষ কামনা- সমস্ত জীবন যেন আল্লাহর নামের তাসবিহ হয়ে কাটে; অর্থাৎ তাঁর চিন্তা, বাক্য ও কর্ম সর্বদা আল্লাহর স্মরণে নিবেদিত থাকুক।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। '
গুলবাগিচা'
গীতি-সংকলনের প্রথম সংস্করণে [১৩ আষাঢ় ১৩৪০, ২৭ জুন ১৯৩৩] গানটি
প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ:
-
গুলবাগিচা
- প্রথম সংস্করণ [১৩ আষাঢ় ১৩৪০, ২৭ জুন ১৯৩৩। বেহাগ-কার্ফা। পৃষ্ঠা:
১০৬]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংকলন। পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী। ঢাকা।
জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ মে, ২০১১। গুল-বাগিচা। গান সংখ্যা ৮৫। বেহাগ-কার্ফা। পৃষ্ঠা ২৭৮]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
১৭০২। রাগ:
রাগ: বেহাগ, তাল: কাহার্বা। পৃষ্ঠা:
৫০৭-৫০৮।]
- রেকর্ড: এইচএমভি [আগষ্ট ১৯৩৩ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪০)] । এন
৭১৩৫। শিল্পী গণি মিঞা
(ধীরেন দাস)
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
ইদ্রিস আলী।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, পঞ্চাশতম খণ্ড, কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, কার্তিক ১৪২৬। জুন নভেম্বর ২০১৯।
পঞ্চম গান। রেকর্ডে গণি মিঞা (ধীরেন দাস) -এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে [নমুনা]
- পর্যায়: ধর্মসঙ্গীত। ভক্তি [ইসলামী]