বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: প্রিয় কোথায় তুমি কোন গহনে
প্রিয় কোথায় তুমি কোন গহনে
কোন্ ধ্রুবলোকে কোন্ দূর গগনে॥
খোঁজে কানন তোমায় মেলি' কুসুম-আঁখি,
'তুমি কোথায়' বলি' ডাকে বনের পাখি।
আছ ঠাকুর হয়ে কোন্ দেবালয়ে
কোন্ শ্রাবণ-মেঘে দখিনা পবনে॥
সিন্ধু-বুকে মুখে লুকায়ে নদী
'তুমি কোথায়' বলি' কাঁদে নিরবধি।
জ্বালি' তারার বাতি
খোঁজে আধার রাতি,
তোমার খুজিয়া নিভিল জ্যোতি মোর নয়নে॥
-
ভাবসন্ধান: কবি পরমসত্তার সন্ধান করেছেন এই গানে। এখানে 'প্রিয়' হলো- পরমপ্রিয় পরমসত্তা। গানের শুরুতেই কবি
অনুসন্ধানের ভাবাবেগে প্রশ্ন করেছেন- প্রিয় কোথায়, কোন গহনে, কোন ধ্রুবলোকে কিংবা কোন সুদূর গগনে তিনি অবস্থান করছেন। এই প্রশ্ন কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সন্ধান নয়; বরং অধরা প্রিয়তমকে খুঁজে না পাওয়ার গভীর বেদনা ও হৃদয়ের অস্থিরতার প্রকাশ। প্রিয়ের অনুপস্থিতিতে ভক্ত মন সর্বত্র তাঁরই সন্ধান করে বেড়ায়।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি প্রকৃতিকে এই অনুসন্ধানের সহযাত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ফুল যেন তার পাপড়িকে চোখের মতো মেলে প্রিয়কে খুঁজছে, বনের পাখিরাও যেন
'তুমি কোথায়' বলে ডেকে চলেছে। এমনকি কবির মনে হয়, প্রিয় হয়তো কোনো দেবালয়ে পূজিত হচ্ছেন, অথবা শ্রাবণের মেঘে কিংবা দক্ষিণা সমীরণে আত্মগোপন করে আছেন। এই চিত্রকল্পে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের মধ্যে প্রিয়তমের উপস্থিতি অনুভব করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
নদী ও সমুদ্রের রূপকের মাধ্যমে বিরহের গভীরতা আরও তীব্রতরভাবে উপস্থাপিত
হয়েছে। নদী যেমন সমুদ্রে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় নিরন্তর ধাবিত হয়, তেমনি বিচ্ছিন্ন হৃদয়ও প্রিয়তমের মিলনের জন্য অবিরাম অশ্রু বিসর্জন দেয়। এখানে নদীর কান্না প্রেমিকের অন্তহীন বিরহবেদনার প্রতীক।
গানের শেষাংশে রাতের অন্ধকারে তারারা যেন প্রদীপ জ্বেলে প্রিয়কে খুঁজছে। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনুসন্ধানের পর কবির নিজের চোখের আলোই নিভে আসে। অর্থাৎ অবিরাম অন্বেষণেও প্রিয়তমের সাক্ষাৎ না পেয়ে তিনি হতাশ, ক্লান্ত ও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছেন।
'নিভিল জ্যোতি মোর নয়নে' শুধু দৃষ্টিশক্তি ম্লান হওয়ার কথা নয়; এটি বিরহজনিত গভীর বেদনা, আশা-নিরাশার দ্বন্দ্ব এবং প্রিয়ের অভাবে জীবনের আনন্দ নিভে যাওয়ার প্রতীক। জীবন সায়াহ্নে এসে
পরমসত্তাকে না পাওয়ার বেদনা গভীর হাতাশাতে রূপ লাভ করেছে।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি
(মাঘ-ফাল্গুন ১৩৪৫) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি গানটি প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর
৮ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট।
তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০০৩। গান সংখ্যা ২৫৩
- রেকর্ড: টুইন। ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ (মাঘ-ফাল্গুন ১৩৪৫)। এফটি ১২৭০৯।
নীলিমা চৌধুরী (স্বর্ণ)
- সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম।
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
সুধীন দাশ।
[নজরুল-সঙ্গীত
স্বরলিপি, সপ্তম খণ্ড নজরুল ইন্সটিটিউট ১১
জ্যৈষ্ঠ,
১৩৯৯ বঙ্গাব্দ/ ২৫শে মে, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ। ১৪ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৭৬-৭৮]
[নমুনা]
- পর্যায়:
ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পর্মসত্তা। অন্বেষণ- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
কাহারবা
- গ্রহস্বর:
পদা