বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আকাশে ভোরের তারা মুখ পানে চেয়ে আছে
আকাশে ভোরের তারা মুখ পানে চেয়ে আছে
ঝরা-ফুল অঞ্জলি পড়ে আছে, পা'র কাছে।
দেবতা গো, জাগো জাগো জাগো॥
আঁধার-ঘোমটা খুলি শতদল আঁখি তুলি'
পৃথিবী প্রসাদ যাচে দেবতা গো, জাগো॥
কপোত-কণ্ঠে শোন তব বন্দনা বাজে
তোমারে হেরিতে ঊষা দাঁড়ায় বধূর সাজে।
দেবতা, তোমার লাগি' আজি আছি নিশি জাগি'
ভীরু এ মনের কলি হের, দল মেলিয়াছে।
দেবতা গো, জাগো॥
- ভাবানুসন্ধান: ভোরের সূর্যদেবতার উদয়ে প্রতীক্ষায় সমগ্র প্রকৃতি।
ভোরের শুকতারা তার শেষ বিদায়ের জন্য তার প্রতীক্ষারত। প্রকৃতি তার ঝরা ফুলের
অঞ্জলি সূর্য দেবতার পায়ে নিবেদন করেছে। কবির মতই এরা সানুনয়ে সবাই তাকে আহ্বান
করে বলছে- 'দেবতা গো, জাগো জাগো জাগো'।
আঁধারের ঘোমাটা সরিয়ে পদ্ম তাঁর আঁখি তুলে প্রতীক্ষারত। পৃথিবীও নবোদিত
সূর্য-দেবতার প্রসাদ লাভের প্রতীক্ষায় তাকে আহ্বান করছে- 'দেবতা জাগো'।
ভোরের সূর্যালোকের বন্দনা ধ্বনিত কপোতের ডাকে, ঊষা (সূযোদয়ের প্রাক্-কাল) যেন
তাঁকে দেখার প্রতীক্ষায় সারারাত জেগে বধূর সাজে অপেক্ষারত। তার ভীরু মনের কলি
দল মেলেছে তার আরাধ্য দেবতার পায়ে নিজেকে বিলিয়ে দিতে। তাই তার প্রার্থনা-
'দেবতা গো, জাগো'।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে
(অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৭) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে।
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৬ মাস।
- রেকর্ড: এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৪০ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৭)। এন ২৭০৫৬। শিল্পী: সুধা
বন্দ্যোপাধ্যায়। সুর শৈলেশ দত্তগুপ্ত ]
[শ্রবণ
নমুনা]
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
সুধীন দাশ ।
নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি তৃতীয়
খণ্ড। প্রথম প্রকাশ, দ্বিতীয় মুদ্রণ
[কবি
নজরুল ইন্সটিটিউট। বৈশাখ ১৪০২। এপ্রিল
১৯৯৬। ২য় গান।
পৃষ্ঠা ৩১-৩৩]
[নমুনা]
- সুরকার: শৈলেশ দত্ত
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধর্ম। বন্দনা, স্বতন্ত্র,
প্রভাতী সূর্যদেবতা।
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: সা