বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম:
তোমার কালো রূপে যাক না ডুবে সকল কালো মম
তোমার কালো রূপে যাক না ডুবে সকল কালো মম,
হে কৃষ্ণ প্রিয়তম!
নীল সাগর-জলে হারিয়ে যাওয়া নদীর জলের সম॥
কৃষ্ণ নয়ন-তারায় যেমন আলোকিত হেরি ভুবন,
তেমনি কালো রূপের জ্যোতি দেখাও নিরুপম॥
যাক মিশে আমার পাপ-গোধূলি তোমার নীলাকাশে,
মোর কামনা যাক ধুয়ে তোমার রূপের শ্রাবণ মাসে।
তোমায় আমায় মিলন থাকুক (যেমন) নীল সলিলে সুনীল শালুক
তুমি জড়িয়ে থাকো (গো) আমার হিয়ায় গানের সুরের সম॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে কবি শ্যামসুন্দর কৃষ্ণ -প্রেমের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ,
পাপমোচন এবং পরম সত্তার সঙ্গে চিরন্তন মিলনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। সমগ্র গানে
কবির গভীর প্রেম, ভক্তি ও আত্মনিবেদনের ভাব উদ্ভাসিত হয়েছে।
যেমন নীল সাগরের জলে মিশে গিয়ে নদী তার স্বতন্ত্র সত্তা হারায়, তেমনি কবিও কৃষ্ণের
গাঢ় কালো রূপে নিজের সমস্ত পাপ, দুঃখ ও অশুদ্ধতার কালিমা বিলীন করতে চান। এই
বিলীনতার মধ্য দিয়েই তিনি আত্মশুদ্ধি ও পরিশুদ্ধতার পথ খুঁজে পান।
কৃষ্ণের নয়ন-তারায় যেমন সমগ্র বিশ্বলোক আলোকিত হয়ে ওঠে, তেমনি তাঁর কালো রূপের
মধ্যেই কবি এক অনির্বচনীয় জ্যোতির প্রকাশ দেখতে পান। এখানে ‘কালো’ কোনো অন্ধকারের
প্রতীক নয়; বরং এটি এক রহস্যময়, মোহনীয় ও চিরসুন্দর আলোর প্রতিরূপ।
গানের পরবর্তী অংশে কবি তাঁর জীবনের ‘পাপ-গোধূলি’—অর্থাৎ জীবনের সায়াহ্নে সঞ্চিত
সকল পাপ ও মলিনতাকে কৃষ্ণের নীল আকাশে বিলীন করতে চান। তাঁর সকল কামনা-বাসনা যেন
কৃষ্ণরূপী শ্রাবণধারায় ধুয়ে নির্মল হয়ে যায়—এই তাঁর আন্তরিক প্রার্থনা।
শেষাংশে কবি তাঁর ও কৃষ্ণের মিলনকে তুলনা করেছেন নীল জলে ফুটে থাকা সুনীল শালুকের
সঙ্গে, যা জলের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। আবার যেমন গানের বাণী ও সুর একত্রে মিশে
মধুর ঐক্য সৃষ্টি করে, তেমনি কবিও চান কৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর মিলন হোক এক চিরন্তন,
গভীর প্রেমময় যুগলবন্ধনে।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৩) মাসে এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৭ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি
২০১২। গান সংখ্যা ৫৩৩। ]
- রেকর্ড: এইচএমভি। অক্টোবর ১৯৩৬ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৩)। এন ৯৭৮৮। যূথিকা রায়
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
নীলিমা দাস।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, ঊনত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। শ্রাবণ ১৪১৩/আগষ্ট
২০০৬] ১৫ সংখ্যক গান।
যূথিকা রায়-এর রেকর্ডে গাওয়া গান অনুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
[নমুনা]
- সুরকার:
কমল দাশগুপ্ত
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম, বৈষ্ণব। কৃষ্ণ।
প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: পা