বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: সুদূর মক্কা মদিনার পথে আমি রাহি মুসাফির
সুদূর মক্কা মদিনার পথে আমি রাহি মুসাফির,
বিরাজে রওজা মুবারক যথা মোর প্রিয় নবীজীর॥
বাতাসে যেখানে বাজে অবিরাম
তওহিদ বাণী খোদার কালাম,
জিয়ারতে যথা আসে ফেরেশ্তা শত আউলিয়া পীর॥
মা ফাতেমা আর হাসান হোসেন খেলেছেন পথে যার,
কদমের ধূলি পড়েছে যথায় হাজারো আম্বিয়ার।
সুরমা করিয়া কবে সেই ধূলি
মাখিব নয়নে দুই হাতে তুলি',
কবে এ দুনিয়া হতে যাবার আগে রে কাবাতে লুটাব শির॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা এবং হজ ও জিয়ারতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। ঈমান, ভক্তি, বিনয় ও আধ্যাত্মিক তৃষ্ণাই এই গানের মূল প্রতিপাদ্য।
এই ভাবাদের্শে রচিত কবি এই গানে একজন মুমিনের হৃদয়ে মক্কা-মদিনার প্রতি গভীর ভালোবাসা, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সীমাহীন ভক্তি এবং পবিত্র ভূমি জিয়ারতের তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে আবেগঘন ভাষায় প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা নয়; বরং আত্মার এক আধ্যাত্মিক যাত্রার আকুল আবেদন।
গানের শুরুতে কবি নিজেকে 'রাহি মুসাফির' বা পথিক হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর গন্তব্য সুদূর মক্কা ও মদিনা—সেই পবিত্র ভূমি, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মুবারক অবস্থিত। তাঁর সমস্ত মন-প্রাণ সেই পবিত্র স্থানের দিকে ধাবিত হয়েছে। এই যাত্রা পার্থিব কোনো ভ্রমণ নয়; বরং ঈমান, ভালোবাসা ও আত্মশুদ্ধির এক মহৎ অভিযাত্রা।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি মদিনার পবিত্র পরিবেশের বর্ণনা দেন। সেখানে যেন সর্বদা আল্লাহর একত্ববাদের বাণী এবং পবিত্র কোরআনের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়। সেই রওজা মুবারক জিয়ারত করার জন্য ফেরেশতা, আউলিয়া ও পীরগণও আগমন করেন- এমন কাব্যিক চিত্রের মাধ্যমে কবি স্থানটির আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও পবিত্রতাকে তুলে ধরেছেন।
এরপর কবি স্মরণ করেন সেই ঐতিহাসিক ভূমিকে, যেখানে মহানবীর প্রিয় কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.) এবং তাঁর দুই নাতি হজরত হাসান (রা.) ও হজরত হুসাইন (রা.) শৈশব কাটিয়েছেন। একই সঙ্গে এটি সেই পবিত্র ভূমি, যেখানে অসংখ্য নবীর পদধূলি লেগে আছে। এই স্মৃতি কবির হৃদয়কে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আপ্লুত করে।
গানের শেষাংশে কবি গভীর আবেগে বলেন, তিনি সেই পবিত্র ধূলিকে সুরমার মতো নিজের চোখে ধারণ করতে চান। এটি তাঁর বিনয়, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক ভালোবাসার প্রতীক। তিনি আরও প্রার্থনা করেন, এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আগে যেন অন্তত একবার কাবা শরিফে গিয়ে আল্লাহর ঘরের সামনে সিজদাবনত হতে পারেন। এটাই তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল (চৈত্র ১৩৪২-বৈশাখ
১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ১০ মাস।
-
গ্রন্থ:
-
জুলফিকার
- দ্বিতীয় সংস্করণ [ডিসেম্বর, ১৯৫২ (পৌষ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ)]
- নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২।
জুলফিকার দ্বিতীয় খণ্ড। ১০। পৃষ্ঠা ৯৫-৯৬]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৫৪৫]
রেকর্ড: এইচএমভি [এপ্রিল ১৯৩৬ (চৈত্র ১৩৪২-বৈশাখ ১৩৪৩)। এন ৯৭১১। শিল্পী:
মহ. কাশেম]
- সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
- সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: নীলিমা দাস।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, বত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন ১৪১৫। ফেব্রুয়ারি
২০০৯] ২০ সংখ্যক গান। কাশেম মল্লিকের গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
[নমুনা]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল:
দাদরা
- গ্রহস্বর: র্সা