বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: আহার দিবেন তিনিই রে মন জীব দিয়াছেন যিনি
আহার দিবেন তিনিই রে মন জীব দিয়াছেন যিনি।
তোরে সৃষ্টি ক'রে তোর কাছে যে আছেন তিনি ঋণী॥
সারা জীবন চেষ্টা ক'রে, ভিক্ষা-মুষ্টি আনলি ঘরে
(ও মন) তাঁর কাছে তুই হাত পেতে দেখ্ কি
দান দেন তিনি॥
না চাইতে ক্ষেতের ফসল পায় বৃষ্টির জল
তুই যে পেলি পুত্র-কন্যা তোরে কে দিল তা বল।
যাঁর করুণায় এত পেলি, তাঁরেই কেবল ভুলে গেলি
(তোর) ভাবনার ভার দিয়ে তাঁকে ডাক্রে
নিশিদিন-ই॥
- ভাবসন্ধান: জগতের পরমসত্তারূপী সৃষ্টিকর্তা জীবজগতের প্রতিটি প্রজাতির আহার ও জীবনধারণের ব্যবস্থা করেই তাদের সৃষ্টি করেছেন। তাই স্রষ্টার দান মানুষের বা কোনো জীবের নিজস্ব অর্জনের তুলনায় অসীম ও অপরিমেয়। এই দানের মহিমা বোঝাতেই কবি বলেছেন—স্রষ্টা জীব সৃষ্টি করে তাদের আহারের ব্যবস্থা করেছেন; যেন সৃষ্টির প্রতি তাঁর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানুষের সারাজীবনের চেষ্টা ও উপার্জন সেই অসীম দানের তুলনায় নিতান্তই সামান্য। তাই কবি মানুষকে আহ্বান করেছেন—পরমসত্তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে তাঁর দানের মহিমা উপলব্ধি করতে।
মানুষের প্রত্যক্ষ প্রার্থনা ছাড়াই তিনি ক্ষেতের ফসলের জন্য বৃষ্টির জল বর্ষণ করেন। তাঁরই দানে মানুষ পুত্র-কন্যা ও জীবনের নানা প্রাপ্তি লাভ করে। অথচ তাঁর এত করুণা ও দান লাভ করেও মানুষ প্রায়ই সেই পরমদাতাকেই বিস্মৃত হয়। কবি তাই মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—জীবনের সকল ভাবনা ও উদ্বেগের ভার পরমস্রষ্টার ওপর অর্পণ করে অহর্নিশি তাঁকে স্মরণ করতে। মানুষের কর্তব্য কেবল নিজের সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করা নয়; বরং স্রষ্টার অসীম করুণার প্রতি আস্থা রেখে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ ও সমর্পিত থাকা।
-
রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৮ খ্রিষ্টাবদের মার্চ মাসে (ফাল্গুন- চৈত্র ১৩৪৪) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে।
এই
সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর
৯ মাস।
-
রেকর্ড:
এইচএমভি। মার্চ ১৯৩৮ (ফাল্গুন- চৈত্র ১৩৪৪)। এন ১৭০৫৪। শিল্পী: কে মল্লিক
[শ্রবণ
নমুনা]
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
সুধীন দাশ।
নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি তৃতীয় খণ্ড (নজরুল ইন্সটিটিউট)।
৫ম গান। পৃষ্ঠা ৪১-৪৪]
[নমুনা]
- সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: রাগাশ্রয়ী
- রাগ: ভৈরবী
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: ণ্।