বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ওরে ও দরিয়ার মাঝি!
ওরে ও দরিয়ার মাঝি! মোরে নিয়ে যা রে মদিনা।
তুমি মুর্শিদ হয়ে পথ দেখাও ভাই আমি যে পথ চিনি না॥
আমার প্রিয় হজরত সেথায়
আছেন নাকি ঘুমিয়ে ভাই,
আমি প্রাণে যে আর বাঁচি না রে আমার হজরতের দরশ বিনা॥
নদী নাকি নাই ও দেশে, নাও না চলে যদি
-
আমি চোখের সাঁতার পানি দিয়ে বইয়ে দেব নদী।
ঐ মদিনার ধূলি মেখে
কাঁদবো
ইয়া মোহাম্মদ ডেকে ডেকে রে -
কেঁদেছিল কারবালাতে, (ওরে) যেমন বিবি সাকিনা॥
- ভাবসন্ধান: জীবন-নদীর মাঝি হলো মন। কবি সেই মনমাঝিকে ইসলাম
ধর্মের তীর্থক্ষেত্র মদিনাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকাতর অনুরোধ করছেন। এখানে
মদিনার পথ হলো ইসলাম ধর্মের আদর্শিক পথ। কবির কোনো মুর্শিদ (ধর্মগুরু)
নেই। তাই, মনকেই মুর্শিদ হয়ে মদিনার না-চেনা পথে জীবন-তরী পরিচালিত করার জন্য
তাঁর এই আবেদন।
কবি জাননে তাঁর প্রিয় নবি হজরত মুহম্মদ সাঃ ঘুমিয়ে আছেন মদিনার কবরখানায়। সেই
নবিকে দেখতে না পেয়ে কবি মৃত্যুদশায় পতিত। কবি শুনেছেন- আরব দেশে নদী নাই।
তাই তাঁর ভক্তি ও প্রেমের বেদনা অশ্রুধারায় সে দেশে নদী প্রবাহিত করবেন। তিনি
মদিনার ধূলি গায়ে মেখে ইয়া মোহাম্মদ (হে মোহম্মদ) বলে কাঁদবেন। যেমন করে বিবি
সকিনা কেঁদেছিলেন কারবালার যুদ্ধের পর। উল্লেখ্য, হজরত সাকিনা (রাঃ) ছিলেন ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর কন্যা। তিনি ছিলেন কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
ইমাম হুসাইন রাঃ যখন কারবালার যুদ্ধে শহিদ হন, তখন সাকিনার বয়স ছিল আনুমানিক ৪-৫ বছর।
যুদ্ধের পর তাঁকে বন্দি করে কুফায় রাখা হয়, তারপর তাঁকে দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই শিশু বয়সে তাঁর ওপর নেমে
এসেছিল অকল্পনীয় কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা। বিশেষ করে, তাঁর পিতার জন্য অবিরাম
কাঁদতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত দামেস্কের কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু
হয়েছিল।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ ১৩৪২) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। গান সংখ্যা ৫৬২।
- রেকর্ড: টুইন [জানুয়ারি ১৯৩৬
(পৌষ-মাঘ ১৩৪২)। এফটি ৪২১৬। শিল্পী:
আব্বাসউদ্দীন আহমদ]
- সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
- সুরকার: শৈলেশ দত্তগুপ্ত
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: নীলিমা দাস।
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, বত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন ১৪১৫। ফেব্রুয়ারি
২০০৯] ২৫ সংখ্যক গান। রেকর্ড
আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে।
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি গান। তীর্থক্ষেত্র। মদিনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: পর্সা