বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম:
আয় মা ডাকাত কালী আমার ঘরে কর ডাকাতি
আয় মা ডাকাত কালী আমার ঘরে কর ডাকাতি
যা আছে সব কিছু মোর লুটে নে মা রাতারাতি॥
আয় মা মশাল জ্বেলে, ও তোর ডাকাত ছেলে ভৈরবেরে করে সাথি
জমেছে ভবের ঘরে অনেক টাকা যশঃখ্যাতি
কেড়ে মোর ঘরের চাবি, নে মা সবই পুত্র কন্যা স্বজন জ্ঞাতি॥
মায়ার দুর্গে আমার দুর্গা নামও হার মেনেছে
ভেঙে দে সেই দুর্গ আয় কালিকা তা থৈ নেচে, আয় আয় আয়।
রবে না কিছুই যখন রইবি শুধু মা ভবানী
মুক্তি পাব সেদিন টানবো না আর মায়ার ঘানি
খালি হাতে তালি দিয়ে কালী বলে উঠবো মাতি
কালী কালী কালী বলে উঠবো মাতি
কালী কালী কালী বলে, খালি হাতে তালি দিয়ে উঠবো মাতি॥
- ভাবসন্ধান: লোভ-লালসায় ভরা মনের ঘরে জমে হিংসা,
বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদির পাহাড়। পাপের এ ঘরে বন্দী সাধক,
সে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসতে
পারছেন না। তাই মাতৃরূপিণী কালীর কাছে তাঁর সকাতর আবেদন, তিনি যেন ডাকাতের মতো তাঁর
মনের সকল অশুভ সম্পদ লুটে নিয়ে তাঁকে মুক্ত করেন।
মা কালী তাঁর সঙ্গী ভৈরবপুত্রদের (ডাকাত কালীর সহচরবৃন্দ) সাথে
নিয়ে, অজ্ঞানতার কালিমায় অন্ধকারাচ্ছন্ন সাধকের মনের ঘরে, জ্ঞানের মশাল জ্বেলে দিক-
সাধকের এটাই একান্ত কামনা। পাপীর ভবের ঘরে (পার্থিব সংসারে) বহু সম্পদ, খ্যাতি
সঞ্চিত হয়েছে। জমেছে তাঁর পুত্র-কন্যা-স্বজন-জ্ঞাতির
প্রতি মোহমায়া, তাদের জন্য এ দুরাচার। তাই সাধক এসব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সবকিছু
হরণ করার জন্য কালীর কাছে প্রারর্থনা করেছেন। মায়াময় অসুর দুর্গমকে পরাভূত করে,
আদ্যাশক্তি কালী দর্গা নামপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। সাধক এতদিনে যে মায়ার দুর্গ তৈরি করেছে,
তা দুর্গম অসুরের মায়াশক্তির চেয়েও প্রবল। সাধক কালিকার বিনাশিনী নৃত্যে সেই
অটল দুর্গব ধ্বংসের জন্য তাঁকে আহ্বান করছেন এই গানে।
সাধক কবি মনে করেন, সবকিছু হারিয়ে যখন তাঁর কিছুই থাকবে না, মুক্ত জীবনে তাঁকে
মায়ার ঘানি টানতে হবে না, এই সর্বাহারা কছে তখন একমাত্র সহায় হয়ে থাকবেন মা
ভবানী (জাগতিক সকল কিছু ভব, আর ভবের অধিকর্তী হলেন- ভবানী। এই অর্থে ভবানী হলেন
দুর্গা)। তখন সাধক খালি হতে (সহায়-সম্পদহীন হাত) তালি দিয়ে কালীর নামেই মাতোয়ারা হয়ে
রইবেন। সাধক মনে করেন, এই নামে তাঁর মুক্তি। যেন এই নামের জন্য তাঁর সব কিছুর
বিসর্জন। জীবনের সকল বাসনার বিসর্জনে নিঃস্বতাকে পূর্ণ করে দেবে এই নাম।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের
জুন (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৭)
মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড
প্রকাশ করেছিল।
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ১ মাস।
- রেকর্ড:
এইচএমভি
। জুন ১৯৪০ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৭)। এন ১৭৪৬৫। মৃণালকান্তি ঘোষ।
শ্যামাসঙ্গীত।
[শ্রবণ নমুনা]
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৭০৩। পৃষ্ঠা: ২১৪।
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
আহসান মুর্শেদ।
নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি (ঊনবিংশ খণ্ড)।
চতুর্থ গান]
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম।
শাক্তসঙ্গীত। আত্মনিবরদন
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: দ্রুত
দাদরা
- গ্রহস্বর: ধ্