বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: প্রণমামী শ্রীদুর্গে নারায়ণী গৌরী শিবে সিদ্ধি বিধায়িনী
প্রণমামী শ্রীদুর্গে নারায়ণী গৌরী শিবে সিদ্ধি বিধায়িনী
মহামায়া অম্বিকা আদ্যাশক্তি ধর্ম-অর্থ-কাম মোক্ষ-প্রদায়িনী॥
শুম্ভ নিশুম্ভ বিমর্দিনী চণ্ডী নমো নমঃ দশপ্রহরণ ধারিণী
দেবী সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়-বিধাত্রী জয় মহিষাসুর সংহারিণী।
জয় দুর্গে, জয় দুর্গে॥
যুগে যুগে দনুজ দল-নী মহাশক্তি যোগনিদ্রা মধুকৈটভ নাশিনী
বেদ-উদ্ধারিণী মণি-দীপ বাসিনী শ্রীরাম অবতারে বরাভয় দায়িনী।
জয় দুর্গে, জয় দুর্গে॥
- ভাবসন্ধান: এই স্তোত্রধর্মী গানে দেবী দুর্গা-কে আদ্যাশক্তি, বিশ্বজননী এবং সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিশক্তি হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে। কবি তাঁকে নারায়ণী, গৌরী, শিবে, অম্বিকা, মহামায়া প্রভৃতি নামে সম্বোধন করে বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই সব নাম একই পরম দেবীশক্তির বিভিন্ন রূপ। তিনি মানবজীবনের চার পুরুষার্থ- ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ- প্রদানকারী কল্যাণময়ী মাতৃশক্তি।
গানের প্রথম অন্তরাতে দেবী দুর্গার মহাশক্তিরূপ বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভ দানবের বিনাশকারিণী চণ্ডী, দশপ্রহরণধারিণী এবং মহিষাসুরসংহারিণী। এই পরিচয়গুলোর মাধ্যমে দেবীকে অশুভ, অন্যায় ও অধর্মের বিরুদ্ধে ন্যায় ও ধর্মের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়-বিধাত্রী বলা হয়েছে, অর্থাৎ বিশ্বসৃষ্টির সূচনা, তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রলয়ের নিয়ন্ত্রণ- সবই তাঁর মহাশক্তির প্রকাশ।
তাই দেবীর উদ্দেশ্যে জয়ধ্বনি দেওয়া হয়েছে।
গানের দ্বিতীয় অন্তরাতে কবি দেবীর চিরন্তন ও সর্বযুগব্যাপী কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেছেন। যুগে যুগে যখন অসুরশক্তি পৃথিবীতে অত্যাচার চালিয়েছে, তখন তিনি বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়ে তাদের দমন করেছেন। তিনি যোগনিদ্রা রূপে ভগবান বিষ্ণুর অন্তর্নিহিত শক্তি হিসেবে বিরাজমান থেকে মধু-কৈটভ অসুরবধে সহায়তা করেন। আবার বেদ-উদ্ধারিণী রূপে তিনি জ্ঞান, সত্য ও ধর্মকে রক্ষা করেন। তাঁকে মণিদ্বীপবাসিনী বলা হয়েছে, যা শক্ততত্ত্বে দেবীর চিরদিব্য অধিষ্ঠানের প্রতীক।
তিনি রাবণবধের পূর্বে বিষ্ণুর অবতার রাম-এর পূজায় সন্তুষ্ট হয়ে বরাভয় ও বিজয়ের আশীর্বাদ দান করেছিলেন।
যুগে যুগে ন্যায়, সত্য ও ধর্মের পথে যিনি চলেছেন, দেবী তাঁকে শক্তি, সাহস ও বিজয়ের আশীর্বাদ প্রদান করেছেন।
তাই দেবীর উদ্দেশ্যে জয়ধ্বনি দেওয়া হয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের
সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৪)
মাসে এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি এই গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৮৫৩। তাল: কাহার্বা। পৃষ্ঠা: ২৬২।
- দেবীস্তুতি। [নজরুল রচনাবলী জন্মশতবর্ষ সংকলন। অষ্টম খণ্ড (১২ ভাদ্র ১৩১৫, ২৭শে আগষ্ট ২০০৮)। বাংলা
একাডেমী ঢাকা। প্রস্তাবনা। পৃষ্ঠা: ২৪৩]
- পত্রিকা: বেতার জগৎ
[১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮
খ্রিষ্টাব্দ (রবিবার, ২ মাঘ ১৩৪৪)]। 'আমাদের কথা' বিভাগে।
[সূত্র:
বেতার জগৎ। ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা। প্রচ্ছদ ও
পৃষ্ঠা:৪৫।
- বেতার:
- দেবীস্তুতি
- প্রথম প্রচার। কলকাতা বেতার কেন্দ্র। ২৭ জানুয়ারি ১৯৩৮ (বৃহস্পতিবার
১৩ মাঘ ১৩৪৪)। শিল্পী: গীতা মিত্র
[সূত্র:
- বেতার জগৎ। ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা। প্রচ্ছদ ও পৃষ্ঠা:৪৫।
-
The Indian listener. Vol III. No II, (7th January, 1938) Page 121
- দ্বিতীয় প্রচার। কলকাতা বেতার কেন্দ্র। ২৫ জুলাই ১৯৩৯ (মঙ্গলবার, ৯ শ্রাবণ ১৩৪৬)।
[সূত্র: বেতার জগৎ-পত্রিকার ৯ম বর্ষ ১২শ সংখ্যা। পৃষ্ঠা ৫৩৩]
- রেকর্ড:
- এইচএমভি [সেপ্টেম্বর ১৯৩৭ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৪)। এন ৯৯৪৬। শিল্পী: বাংলার
ছেলেমেয়ে (কমল দাশগুপ্ত, সুবল দাশগুপ্ত, সুধীরা সেনগুপ্ত, ইন্দিরা দাশগুপ্ত)। সুর
কমল দাশগুপ্ত]
- সুরকার:
কমল দাশগুপ্ত
-
স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। দুর্গা। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: রাগাশ্রয়ী