বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম: তোমারি মহিমা গাই বিশ্বপালক করতার
তোমারি মহিমা গাই বিশ্বপালক কর্তার
করুণা কৃপার তব নাহি সীমা নাহি পার॥
রোজ-হাশরের বিচার-দিনে তুমিই মালিক এয়্ খোদা,
আরাধনা করি প্রভু, আমরা কেবলি তোমার॥
সহায় যাচি তোমারি নাথ, দেখাও মোদের সরল পথ,
সেই পথেতে চালাও খোদা বিলাও যাদের পুরস্কার।
অবিশ্বাসী ধর্মহারা যাহারা সে ভ্রান্ত-পথ,
চালায়ো না তাদের পথে, এই চাহি পরওয়ারদিগার॥
- ভাবসন্ধান: এই গানটিতে মানুষের পরম আত্মসমর্পণ, একত্ববাদী বিশ্বাস
এবং মহান আল্লাহর নিকট সৎপথের দিশা লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। এটি মূলত
পবিত্র আল-ফাতিহা-এর ভাবধারার কাব্যিক
রূপ, যেখানে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর করুণার মাহাত্ম্য, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা
এবং সরল পথে পরিচালিত হওয়ার আবেদন ব্যক্ত হয়েছে।
গানটির স্থায়ী অংশে সূরা
আল-ফাতিহার দ্বিতীয় ও তৃতীয় আয়াতের ভাব কাব্যিকভাবে রূপায়িত হয়েছে। উল্লেখ্য,
সূরাটি শুরু হয়েছে— 'পরম করুণাময়, অতি
দয়ালু আল্লাহর নামে"। দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে— "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সমগ্র জগতের
পালনকর্তা" এবং তৃতীয় আয়াতে— তিনি
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু'। গানের স্থায়ী অংশে এই দুই আয়াতের ভাবই প্রতিফলিত
হয়েছে।
গানটির অন্তরা অংশ সূরার
চতুর্থ আয়াতের ভাবানুসারে রচিত। উক্ত আয়াতে আল্লাহকে
'বিচার-যুগের মালিক" (প্রচলিত অনুবাদে
'বিচার দিবসের মালিক') হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কবি এর সঙ্গে ভক্তিসুলভ নিবেদন
হিসেবে যুক্ত করেছেন- ' আরাধনা
করি প্রভু, আমরা কেবলি তোমার'
গানটির সঞ্চারী ও আভোগ অংশে সূরার পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আয়াতের ভাব প্রতিফলিত হয়েছে। পঞ্চম আয়াতে বলা হয়েছে- 'আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি"; ষষ্ঠ আয়াতে— "আমাদের সরল ও সঠিক পথে পরিচালিত করো'; এবং সপ্তম আয়াতে-
'সেই সব মানুষের পথে, যাদের তুমি অনুগ্রহ ও পুরস্কার দান করেছ; তাদের পথে নয়, যারা তোমার ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং তাদের পথেও নয়, যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে'। গানের শেষাংশে এই আয়াতগুলোর আবেদন, প্রার্থনা ও পথনির্দেশনার ভাব কাব্যিক রূপে প্রকাশিত হয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। জয়তী পত্রিকার বৈশাখ ১৩৩৯
(এপ্রিল-মে ১৯৩২) সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩২ বৎসর ১১ মাস।
- পত্রিকা: জয়তী [বৈশাখ ১৩৩৯
(এপ্রিল-মে ১৯৩২)]
-
গ্রন্থ:
- জুলফিকার
- প্রথম প্রকাশ। ১৫ অক্টোবর ১৯৩২
(শনিবার ২৯ আশ্বিন ১৩৩৯)। মান্দ-কার্ফা
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। চতুর্থ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ
১৪১৪, মে ২০০৭। জুলফিকার।
৮ সংখ্যক গান। মান্দ-কার্ফা। পৃষ্ঠা: ২৯৪-২৯৫]
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২। গান সংখ্যা ৮৫৩ গান।
রেকর্ড:
এইচএমভি। নভেম্বর ১৯৩২ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৩৯)।
এন ৭০৫৬। শিল্পী:
কাশেম মল্লিক]
স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি, ছাব্বিশ খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। আশ্বিন, ১৪১২ বঙ্গাব্দে
/সেপ্টেম্বর ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ]
নবম গান।
[নমুনা]
পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। হামদ (সুরা আল ফাতিহা-ভিত্তিক)।
বন্দনা
- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল:
তালবিহীন
- গ্রহস্বর: রা