ভাষাংশ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনাসংগ্রহের সূচি
বলাকা


               

        ২

এবার যে ওই সর্বনেশে গো।

         বেদনায় যে বান ডেকেছে

                  রোদনে যায় ভেসে গো।

রক্ত-মেঘে ঝিলিক মারে,

বজ্র বাজে গহন-পারে,

কোন্ পাগল ওই বারে বারে

               উঠছে অট্টহেসে গো।

এবার যে ওই এলো সর্বনেশে গো।

 

জীবন এবার মাতল মরণ-বিহারে।

        এইবেলা নে বরণ ক’রে

             সব দিয়ে তোর ইহারে।

      চাহিস নে আর আগুপিছু,

রাখিস নে তুই লুকিয়ে কিছু,

চরণে কর্ মাথা নিচু

                সিক্ত আকুল কেশে গো।

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।

 

পথটাকে আজ আপন করে নিয়ো রে।

   গৃহ আধাঁর হল, প্রদীপ

         নিবল শয়ন-শিয়রে।

ঝড় এসে তোর ঘর ভরেছে,

এবার যে তোর ভিত নড়েছে,

শুনিস নি কি ডাক পড়েছে

           নিরুদ্দেশের দেশে গো।

এবার যে ওই এলো সর্বনেশে গো।

ছি ছি রে ওই চোখের জল আর ফেলিস নে।

     ঢাকিস নে মুখ ভয়ে ভয়ে

           কোণে আঁচল মেলিস নে।

কিসের তরে চিত্ত বিকল,

ভাঙুক না তোর দ্বারের শিকল,

বাহিরপানে ছোট্ না, সকল

     দু্ঃখসুখের শেষে গো।

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।

 

কণ্ঠে কি তোর জয়ধ্বনি ফুটবে না।

      চরণে তোর রুদ্র তালে

              নূপুর বেজে উঠবে না?

এই লীলা তোর কপালে যে

লেখা ছিল-সকল ত্যেজে

রক্তবাসে আয় রে সেজে

            আয় না বধূর বেশে গো।

ওই বুঝি তোর এল সর্বনেশে গো।

                                        রামগড়

                                     ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৩২১