বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা :
শিরোনাম:
এসো হে গৃহদেবতা
পাঠ ও পাঠভেদ:
১৪
এসো হে গৃহদেবতা
এ ভবন পুণ্যপ্রভাবে করো পবিত্র।
বিরাজো জননী, সবার জীবন ভরি–
দেখাও আদর্শ মহান চরিত্র॥
শিখাও করিতে ক্ষমা, করো হে ক্ষমা,
জাগায়ে রাখো মনে তব উপমা,
দেহো ধৈর্য হৃদয়ে–
সুখে দুখে সঙ্কটে অটল চিত্ত।।
দেখাও রজনী-দিবা বিমল বিভা,
বিতরো পুরজনে শুভ্র প্রতিভা–
নব শোভাকিরণে
করো গৃহ সুন্দর রম্য বিচিত্র॥
সবে করো প্রেমদান পূরিয়া প্রাণ–
ভুলায়ে রাখো, সখা, আত্মাভিমান।
সব বৈর হবে দূর
তোমারে বরণ করি জীবনমিত্র॥
প্রথম
ছত্রের পাঠান্তর : এসো আশ্রমদেবতা। [পৃষ্ঠা ২১, স্বরবিতান ২৭]
তথ্যানুসন্ধান
ক.
রচনাকাল ও স্থান:
গানটি রবীন্দ্রনাথের
৩২ বৎসর
বয়সের রচনা।
(সূত্র : গীতবিতান কালানুক্রমিক সূচী/প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়)
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ অষ্টমখণ্ড (মজুমদার লাইব্রেরি, ১৩১০)
কাব্যগ্রন্থ ১০ম খণ্ড (ইন্ডিয়ান প্রেস ১৩২৩)
কাব্যগ্রন্থাবলী [আদি ব্রাহ্মসমাজ প্রেস, ১৩০৩। ব্রহ্মসঙ্গীত। রাগিণী আনন্দ ভৈরবী, তাল কাওয়ালি। পৃষ্ঠা: ৪৬৬-৪৬৭] [নমুনা: প্রথমাংশ, দ্বিতীয়াংশ]
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ [বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৩৩৮, কাব্য-গ্রন্থাবলী (১৩০৩ বঙ্গাব্দ)-এর ব্রহ্মসঙ্গীত অংশ থেকে গৃহীত হয়েছিল। পৃষ্ঠা: ১৭৭-১৭৮] [নমুনা: প্রথমাংশ, শেষাংশ]
দ্বিতীয় খণ্ড (বিশ্বভারতী ১৩৪৮)
অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ (বিশ্বভারতী ১৩৮০)। আনুষ্ঠানিক ১৪।
গীতিচর্চ্চা (বিশ্বভারতী ১৩৩২)
ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি প্রথম ভাগ (১ মাঘ ১৩১১ বঙ্গাব্দ)। আনন্দ ভৈরবী-কাওয়ালি। কাঙ্গালীচরণ সেন-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
পত্রিকা:
তত্ত্ববোধিনী (ফাল্গুন ১৩০০)
সঙ্গীত-প্রকাশিকা (কার্তিক ১৩০৯)। আনন্দ ভৈরবী-কাওয়ালী। কাঙ্গালীচরণ সেন কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
পরিবেশনা:
১৩০০ সালে কলকাতার আদি ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরের মাঘোৎসব উপলক্ষে গীত হয়েছিল।
গ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
ভাঙা গান:
এটি একটি ভাঙা গান।
মূল গানটি
তিনি পেয়েছিলেন সরলাদেবী'র (রবীন্দ্রনাথের বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর কন্যা) কাছ থেকে।
সরলাদেবী তাঁর জীবনের ঝরাপাতা (দ্বিতীয় দে'জ সংস্করণ এপ্রিল ২০০৯, বৈশাখ
১৪১৬) গ্রন্থে এ বিষয়ে লিখেছেন— 'মহীশূরে যখন গেলুম সেখান থেকে এক অভিনব ফুলের সাজি
ভরে আনলুম। রবিমমার পায়ের তলায় সে গানের সাজিখানি খালি না করা পর্যন্ত, মনে বিরাম
নেই। সাজি থেকে এক একখানি সুর তুলে নিলেন তিনি, সেগুলিকে মুগ্ধচিত্তে নিজের কথা
দিয়ে নিজের করে নিলেন—তবে আমার পূর্ণ চরিতার্থ হল। "আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে", "এস সে
গৃহদেবতা", "এ কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ", চিরবন্ধু চিরনির্ভর" প্রভৃতি আমার আনা সুরে
বসান গান।'
দ্রষ্টব্য :
উল্লেখ্য উপরের গানের তালিকার "এস
সে গৃহদেবতা"
পঙক্তিটি হবে "এস
হে গৃহদেবতা"।
গ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
স্বরলিপিকার: কাঙ্গালীচরণ সেন-কৃত স্বরলিপিটি সুরভেদ হিসাবে স্বরবিতান-২৭'এর ৭৬ পৃষ্ঠায় দেখানো হয়েছে। স্বরবিতান-২৬'এ গৃহীত মূল স্বরলিপিটি কার তা জানা যায় না।
সুর ও তাল:
রাগ-আনন্দভৈরবী। তাল-কাহারবা। [স্বরলিপি-২৭ মূল স্বরলিপি]
তাল-কাওয়ালি। কাঙ্গালীচরণ সেন। [সুরভেদ/ছন্দোভেদ। স্বরলিপি-২৭]
রাগ: আনন্দ-ভৈরবী। তাল: কাহরবা। [রবীন্দ্রসংগীত : রাগ-সুর নির্দেশিকা । সুধীর চন্দ। (প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬)। পৃষ্ঠা: ৩৯]।
বিষয়াঙ্গ: ব্রহ্মসঙ্গীত
গ্রহস্বর-সা।