বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা:

শিরোনাম: তবু    মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে।

                

    তবু    মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে।

যদি        পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে।

            যদি থাকি কাছাকাছি,

দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি-

                তবু     মনে রেখো

যদি           জল আসে আঁখিপাতে,

এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,

এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে

                    তবু মনে রেখো

            যদি    পড়িয়া মনে

ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে-

                    তবু মনে রেখো

ক. গীতবিতান-এর প্রেম  (প্রেম বৈচিত্র্য-১২৪) পর্যায়ের ১৫১ সংখ্যক গান
    স্বরবিতান পঞ্চাশত্তম (৫০, শেফালি) খণ্ডের (চৈত্র ১৪১৩ বঙ্গাব্দ) ২১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৭০-৭২।
                          সুরান্তর: ৭৩-৭৪
        

খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:

গ. রচনাকাল ও স্থান: ১২৯৪ বঙ্গাব্দের ১৫ অগ্রহায়ণ তারিখে রবীন্দ্রনাথ 'তবু' শিরোনামে একটি কবিতা রচনা করেন। কবিতাটি মানসী কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।

ঘ. প্রাসঙ্গিক পাঠ: ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি থেকে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠ গানটি প্রকাশিত হয়েছিল।


১২৯৪ বঙ্গাব্দের (১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) ১৫ অগ্রহায়ণ তারিখে রবীন্দ্রনাথ 'তবু' শিরোনামে একটি কবিতা রচনা করেন। পরে তিনি এই কবিতাটিকে গানে পরিবর্তন করে গানে পরিণত করেন।

                                মানসী কাব্যগ্রন্থে গৃহীত কবিতা

                                           
                                            তবু

তবু মনে রেখো, যদি দূরে যাই চলি,

সেই পুরাতন প্রেম যদি এক কালে
হয়ে যায় দূরস্মৃত কাহিনী কেবলি

ঢাকা পড়ে নব নব জীবনের জালে।
তবু মনে রেখো,
 যদি বড়ো কাছে থাকি,

নূতন এ প্রেম যদি হয় পুরাতন,
দেখে না দেখিতে পায় যদি শ্রান্ত আঁখি
 

পিছনে পড়িয়া থাকি ছায়ার মতন।

তবু মনে রেখো, যদি তাহে মাঝে মাঝে
উদাস বিষাদভরে কাটে সন্ধ্যাবেলা,
অথবা শারদ প্রাতে বাধা পড়ে কাজে,

অথবা বসন্ত-প্রাতে থেমে যায় খেলা।

তবু মনে রেখো, যদি মনে প'ড়ে আর
আঁখি প্রান্তে দেখা নাহি দেয় অশ্রুধার।
 

ঙ. স্বরলিপিকার: ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি থেকে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠ গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। এই গানটি অনুসরণে প্রফুল্ল কুমার দাস যে স্বরলিপি করেছিলেন, তা স্বরবিতান পঞ্চাশত্তম (৫০, শেফালি) খণ্ডের (চৈত্র ১৪১৩ বঙ্গাব্দ) ২১ সংখ্যক গানের প্রথম স্বরলিপি হিসেবে স্থান পেয়েছে। সুরান্তরের স্বরলিপিকার দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


চ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী: স্বরবিতান পঞ্চাশত্তম (৫০, শেফালি) খণ্ডে গৃহীত দুটি স্বরলিপির কোনটির সাথেই রাগ তালের উল্লেখ নেই। প্রথম স্বরলিপিটি ত্রিমাত্রিক ছন্দে বিভাজিত হলেও প্রথাগত তালের চিহ্নসমূহ ব্যবহার করা হয় নি। সুরান্তর ৩।৩ ছন্দে দাদরা তালে নিবদ্ধ।
রাগ : বিলাবল। কোমল ধৈবত যুক্ত বিলাবলের একটি প্রকার। [রবীন্দ্রসঙ্গীতে রাগ-নির্ণয়। ভি.ভি. ওয়াঝলওয়ার। রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান। সংগীত-শিক্ষায়তন। বৈশাখ ১৩৯০। পৃষ্ঠা : ৭৩]

গ্রহস্বর: সা। [উভয় স্বরলিপি]