তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে।
যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে।
যদি থাকি কাছাকাছি,
দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি-
তবু মনে রেখো॥
যদি জল আসে আঁখিপাতে,
এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,
এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে–
তবু মনে রেখো॥
যদি পড়িয়া মনে
ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে-
তবু মনে রেখো॥
ক. গীতবিতান-এর
প্রেম (প্রেম
বৈচিত্র্য-১২৪) পর্যায়ের ১৫১ সংখ্যক গান।
স্বরবিতান পঞ্চাশত্তম (৫০, শেফালি) খণ্ডের (চৈত্র ১৪১৩ বঙ্গাব্দ) ২১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা:
৭০-৭২।
সুরান্তর: ৭৩-৭৪
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
প্রথম সংস্করণ [সিটি বুক সোসাইটি, ১৩১৫ বঙ্গাব্দ।
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ [বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৩৩৮। কাব্যগ্রন্থাবলী (১৩০৩ বঙ্গাব্দ) 'গান' অংশ থেকে গৃহীত হয়েছে । পৃষ্ঠা: ১১৪-১১৫] [নমুনা]
মানসী
প্রথম সংস্করণ
[আদি
ব্রাহ্মসমাজ যন্ত্র, কালিদাস চক্রবর্তী কর্তৃক মুদ্রিত। ১০ পৌষ ১২৯৭ বঙ্গাব্দ।
শিরোনাম: তবু।
পৃষ্ঠা: ২৯] [নমুনা]
দ্বিতীয় সংস্করণ
[ইন্ডিয়ান
প্রেস লিমিটেড, ১৩২৮ বঙ্গাব্দ। শিরোনাম: তবু।
পৃষ্ঠা: ২৬-২৭] [নমুনা]
স্বরলিপি-গীতিমালা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ)। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরকৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিল।
শতগান, ১৭ সংখ্যক গান, মিশ্র-একতালা। সরলাদেবী [সুবর্ণ সংস্করণ, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ] সরলাদেবী-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত। পৃষ্ঠা: ৬৪-৬৬।
প্রবাহিণী (অগ্রহায়ণ, ১৩৩২ বঙ্গাব্দ)।
বাঙালীর গান (১৩১২ খ্রিষ্টাব্দ)
সঙ্গীতসার, তৃতীয় ভাগ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ)
কাব্যগ্রন্থ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ)
গ. রচনাকাল ও স্থান: ১২৯৪ বঙ্গাব্দের ১৫ অগ্রহায়ণ তারিখে রবীন্দ্রনাথ 'তবু' শিরোনামে একটি কবিতা রচনা করেন। কবিতাটি মানসী কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
ঘ. প্রাসঙ্গিক পাঠ: ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি থেকে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠ গানটি প্রকাশিত হয়েছিল।
১২৯৪ বঙ্গাব্দের (১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) ১৫ অগ্রহায়ণ তারিখে রবীন্দ্রনাথ 'তবু' শিরোনামে
একটি কবিতা রচনা করেন। পরে তিনি এই কবিতাটিকে গানে পরিবর্তন করে গানে পরিণত করেন।
মানসী কাব্যগ্রন্থে গৃহীত কবিতা
তবু
তবু মনে রেখো, যদি দূরে যাই চলি,
সেই
পুরাতন প্রেম যদি এক কালে
হয়ে যায় দূরস্মৃত কাহিনী কেবলি—
ঢাকা পড়ে নব নব জীবনের জালে।
তবু মনে রেখো,
যদি বড়ো কাছে থাকি,
নূতন এ প্রেম যদি হয় পুরাতন,
দেখে না দেখিতে পায় যদি শ্রান্ত আঁখি—
পিছনে পড়িয়া থাকি ছায়ার মতন।
তবু মনে রেখো, যদি তাহে মাঝে
মাঝে
উদাস বিষাদভরে কাটে সন্ধ্যাবেলা,
অথবা শারদ প্রাতে বাধা পড়ে কাজে,
অথবা বসন্ত-প্রাতে থেমে যায় খেলা।
তবু মনে রেখো, যদি মনে প'ড়ে আর
আঁখি
প্রান্তে দেখা নাহি দেয় অশ্রুধার।
ঙ. স্বরলিপিকার: ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি থেকে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠ গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। এই গানটি অনুসরণে প্রফুল্ল কুমার দাস যে স্বরলিপি করেছিলেন, তা স্বরবিতান পঞ্চাশত্তম (৫০, শেফালি) খণ্ডের (চৈত্র ১৪১৩ বঙ্গাব্দ) ২১ সংখ্যক গানের প্রথম স্বরলিপি হিসেবে স্থান পেয়েছে। সুরান্তরের স্বরলিপিকার দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
চ.
সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
স্বরবিতান পঞ্চাশত্তম (৫০, শেফালি) খণ্ডে গৃহীত দুটি স্বরলিপির
কোনটির সাথেই রাগ তালের উল্লেখ নেই। প্রথম স্বরলিপিটি ত্রিমাত্রিক ছন্দে বিভাজিত
হলেও প্রথাগত তালের চিহ্নসমূহ ব্যবহার করা হয় নি। সুরান্তর ৩।৩ ছন্দে দাদরা তালে
নিবদ্ধ।
রাগ : বিলাবল।
কোমল ধৈবত যুক্ত বিলাবলের একটি প্রকার। [রবীন্দ্রসঙ্গীতে
রাগ-নির্ণয়। ভি.ভি. ওয়াঝলওয়ার। রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান।
সংগীত-শিক্ষায়তন। বৈশাখ ১৩৯০। পৃষ্ঠা : ৭৩]
গ্রহস্বর: সা। [উভয় স্বরলিপি]