পটুয়াখালী জেলা
বাংলাদেশের
বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা।
স্থানাঙ্ক: ২২.৩৫৮০১৪° উত্তর ৯০.৩৩২৫০৮° পূর্ব
ভৌগোলিক অবস্থান: উত্তরে বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ভোলা জেলা ও তেঁতুলিয়া নদী এবং পশ্চিমে বরগুনা জেলা অবস্থিত।
আয়তন ৩,২২১.৩১ বর্গ কিলোমিটার
প্রশাসনিকভাবে পটুয়াখাল। জেলা ৮টি উপজেলা নিয়ে
গঠিত। এগুলো হলো- পটুয়াখালী সদর, বাউফল, গলাচিপা, কলাপাড়া মির্জাগঞ্জ, দুমকি,
দশমিনা ও রাঙ্গাবালী
পটুয়াখালী ইতিহাস:
ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে বর্তমান পটুয়াখালী শহরের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত নদীটি (তৎকালীন ভরনী বা ভাড়ানী খাল) ব্যবহার করে পর্তুগিজ জলদস্যুরা এ অঞ্চলে লুণ্ঠন ও অত্যাচার চালাত। স্থানীয় লোকেরা এই পর্তুগিজ হানাদারদের 'নটুয়া' বলত। তাদের যাতায়াতের সুবাদে খালটি 'নটুয়ার খাল' নামে পরিচিত হয়, যা পরবর্তীতে বিবর্তিত হয়ে 'পটুয়ার খাল' এবং পরিশেষে পটুয়াখালী নাম ধারণ করে।
প্রাচীনকালে পটুয়াখালী অঞ্চলটি বিখ্যাত চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৮৬৮ সালে বাকেরগঞ্জ জেলার অধীন পটুয়াখালীতে একজন মুনসিফসহ একটি দেওয়ানি আদালত স্থাপন করা হয়। সে সময় বর্তমান পটুয়াখালী শহর ছিল জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা। নদীর তীরে ছোট ছোট হাট বসত। শহরের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত লাউকাঠী গ্রামে পটুয়াখালী অঞ্চলের প্রধান জমিদারদের তহসিল কাচারিগুলো স্থাপিত ছিল।
১৮৭১ সালে পটুয়াখালীতে একটি ফৌজদারি আদালত স্থাপন করা হয়। ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠার পর শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বাজার গড়ে ওঠে।
১৮৭২ সালে পটুয়াখালীতে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় বা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৭৩ সালে মাদারীপুর মহকুমা বাকেরগঞ্জ জেলা থেকে পৃথক করে ফরিদপুর জেলার
অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং একই সময়ে পটুয়াখালী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০৪ সালে হাসপাতালের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা আহসানুল্লাহ হাসপাতাল ভবন নির্মাণের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেন। তাঁর স্ত্রীর নামানুসারে হাসপাতালটির নামকরণ করা হয় ‘বেগম হাসপাতাল’।
এর ফলে পটুয়াখালী প্রশাসনিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা হিসেবে বিকশিত হতে শুরু করে।