প্রাচীন ভারতের ষোড়শ মহাজনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ব্যতিক্রমী এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা।
খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দী
বিদেহ রাজ্যের পতনের পর এই সংঘটি আটটি ভিন্ন বংশ বা কুলের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।
এরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আধিপত্য বিস্তারের জন্য একত্রিত হয়ে একটি রাজ্য সংঘ গঠন করে। এই সংঘটির নামকরণ করা হয়েছিল বজ্জি সংঘ। এর মধ্য দিয়ে বিদেহরাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে
এবং বজ্জি সংঘের সাথে মিশে যায়। এই সংঘের রাজ্যগুলো ছিল- সাধারণভাবে যে আটটি গোষ্ঠীর নাম পাওয়া যায়, সেগুলো হলো—
-
লিচ্ছবি: সবচেয়ে প্রভাবশালী ও নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠী।
এই রাজ্যের রাজধানী ছিল বৈশালী।
- বিদেহ: প্রায়
বিলুপ্ত বিদেহ রাজ্য
- জ্ঞাত্রিক: মহাবীরের বংশ
- বৃজ্জি: মূল বজ্জি জনগোষ্ঠী
- উগ্র
- ভোগ
- ঐক্ষ্বাকু
এই সময় মগধের রাজা
অজাতশত্রু
তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করতে শুরু করেন। তাঁর রাজ্য বিস্তারে
প্রধান বাধা ছিল বজ্জি সংঘ। অজাতশত্রু জানতেন যে সামনাসামনি যুদ্ধে বজ্জি সংঘকে হারানো কঠিন। তাই তিনি তাঁর মন্ত্রী বসস্কর-কে পাঠিয়ে বজ্জি নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেন।
পরে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮৪ থেকে ৪৬৮ অব্দের মধ্যে দীর্ঘ ১৬ বছর যুদ্ধ চলে। এই যুদ্ধে অজাতশত্রু প্রথমবারের মতো 'রথমুশল' (গদার মতো ঘূর্ণায়মান অস্ত্রযুক্ত রথ) এবং 'মহাশিলকণ্টক' (বিশাল পাথর ছোঁড়ার যন্ত্র) ব্যবহার করেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মগধের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির কাছে বজ্জি সংঘ পরাজিত হয় এবং এটি মগধ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।