বিদেহ
প্রাচীন ভারতের রাজ্য বিশেষ।

খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০-৬০০ অব্দের ভিতরে রচিত শুক্ল যজুর্বেদের অন্তর্গত 'বৃহদারণ্যক উপনিষদ'-এর এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এই উপনিষদটি যজুর্বেদের শতপথ ব্রাহ্মণের শেষ অংশ। এখানে বিদেহরাজ জনককে একজন আদর্শ 'ব্রহ্মজ্ঞানী' রাজা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এই উপনিষদের তৃতীয় অধ্যায়ের শুরুতেই বিদেহরাজ জনক কে উল্লেখ করা হয়েছেল সর্বাপেক্ষা বিদান হিসেবে।

বিষ্ণু পুরাণ ও ভাগবত পুরাণ) অনুসারে, রাজা নিমি একটি বিশাল যজ্ঞ করতে চেয়েছিলেন এবং ঋষি বশিষ্ঠকে প্রধান পুরোহিত হতে অনুরোধ করেন। কিন্তু বশিষ্ঠ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় নিমি অন্য ঋষিদের নিয়ে যজ্ঞ শুরু করেন। এতে বশিষ্ঠ ক্ষুব্ধ হয়ে নিমিকে অভিশাপ দেন যে তিনি 'দেহহীন' হয়ে যাবেন। রাজা নিমিও পাল্টা অভিশাপ দেন এবং এর ফলে রাজা নিমি মৃত্যুবরণ করেন বা দেহত্যাগ করেন।

রাজা নিমির মৃত্যুর পর যজ্ঞ শেষ করার জন্য ঋষিরা তাঁর দেহকে সুগন্ধি তেলের মাধ্যমে সংরক্ষণ করেন। যজ্ঞ শেষে দেবতারা নিমিকে পুনরায় জীবিত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নিমি আর রক্ত-মাংসের শরীরে ফিরে আসতে রাজি হননি। তিনি চেয়েছিলেন মানুষের চোখের পাতায় বা বায়ুভূত অবস্থায় অবস্থান করতে। যেহেতু তিনি তাঁর 'দেহ'  ছাড়াই আত্মিক শক্তিতে অবস্থান করছিলেন, তাই তাঁর নাম হয় 'বিদেহ' (দেহবিহীন)। তাঁর নাম থেকেই তাঁর শাসিত রাজ্যের নাম হয় বিদেহ।

বিদেহ রাজ্যের কালানুক্রমিক ইতিবৃত্ত