লিচ্ছবি
খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম-ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রাচীন ভারতের ষোড়শ মহাজনপদের একটি অন্যতম জনপদের বৃজ্জি সংঘের অন্তরগত একটি জনগোষ্ঠী। এদের রাজধানী  ছিল বৈশালী। বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের মুজাফফরপুর জেলায়  গঙ্গা নদীর তীরে  বৈশালী  নগরী অবস্থান ছিল।

শাসন ব্যবস্থা (গণতন্ত্রের আদি রূপ):  লিচ্ছবিরা গণতান্ত্রিক বা প্রজাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত ছিল। এখানে একক কোনো রাজা বংশপরম্পরায় শাসন করতেন না। পরিবর্তে, অনেক ক্ষুদ্র শাসক বা 'রাজা' মিলে একটি পরিষদ গঠিত হতো। কথিত আছে যে বৈশালীতে ৭,৭০৭ জন রাজা (শাসক) ছিলেন যারা 'সাঁথাগার' বা সাধারণ সভায় মিলিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। তাদের বিচার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং বহু স্তরে বিভক্ত, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি না পায়, এদিকে বিশেষ নজর রাখা হতো।

ধর্ম:
এই রাজ্যে বৌদ্ধ জৈন ধর্মের বিকাশ ঘটেছিল প্রত্যক্ষভাবে গৌতম বুদ্ধ ও মহাবীরের প্রভাবে।

সামরিক শক্তি
লিচ্ছবিরা ছিল সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের একতা ছিল অটুট। অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যের সমন্বয়ে যখন বৃজ্জি সংঘ গড়ে ওঠে, তখন মগধ রাজা অজাতশত্রু লিচ্ছবিদের ভয়ে এই সংঘকে আক্রমণ করতে সাহসী হন নি। রাজা অজাতশত্রু দীর্ঘ ১৬ বছর যুদ্ধের পর কৌশলে বিভেদ সৃষ্টি করে লিচ্ছবিদের পরাজিত করেন।

তবে এই পরাজয়ের পরও তাদের গুরুত্ব শেষ হয়ে যায় নি। কয়েক শতাব্দী পর গুপ্ত সাম্রাজ্যের উত্থানের সময়ও লিচ্ছবিদের প্রভাব ছিল। গুপ্ত সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত প্রথম লিচ্ছবি রাজকুমারী কুমারদেবীকে বিবাহ করে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেছিলেন।