সরোদ
Sarod
ধাতব তারযুক্ত ঘাটবিহীন
ঘাত শ্রেণির তত
বাদ্যযন্ত্র।
যন্ত্রটি অনুষঙ্গী যন্ত্র এবং একক-বাদন যন্ত্র
হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সরোদের মূল কাঠামো হিসেবে থাকে কাঠের তৈরি চারফুট লম্বা এবং এক
ফুট চওড়া একটি পাটাতন থাকে। একে বলা হয় সরোল। এর উপরিভাগে থাকে একটি ইস্পাতের পাত।
একে পলা হয় 'পটার'। এই যন্ত্রের একপার্শ্বে থাকে অর্ধ গোলাকার লাউয়ের খোল। এর
উপরে চামড়ার ছাওনি থাকে আর ছাওনির উপরে থাকে তার ধারণের উপযোগী সোয়ারি বা ব্রিজ।
খোলের নিচেরে দিকে থাকে তার আটকানোর উপযগী আঙটা। মূল কাষ্টপাতের উপরে তার
আটকানোর অংশ থাকে। তারকে সটান রাখার জন্য একধরনের চাবি থাকে। সাধারণত একে বলা হয়
কান।
সরোদে তার থাকে ২১ট তারের ভিতরে আটটি মূল তার, ২টি চিকারী
এবং ১১টি চিকারীর তার থাকে। সেতারের মতো এত কোনো ঘাট নেই। তাই হাতের আন্দাজে এর
স্বরস্থান নির্ণয় করতে হয়। তারে পৃথক বস্তু দ্বারা আঘাত হেনে ধ্বনি তৈরি করা হয়।
কোনো কোনো মতে- যন্ত্রটি তৈরি হয়েছিল
প্রাচীন ভারতীয় চিত্রবীণা ও রবাব এবং সুরশৃঙ্গার বাদ্যযন্ত্রে সমন্বয়ে।
শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর, তাঁর যন্ত্রকোষ গ্রন্থে এই যন্ত্রের উল্লেখ করেছেন 'শারদীয়
বীণা বা শরদ'। কারো কারো মাতে সরোদ মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের আফগান রুবাব নামক
যন্ত্র থেকে উদ্ভূত। ধারণা করা হয়, অষ্টাদশ শতাব্দীর
মধ্যভাগে `রবাব' যন্ত্রটি প্রথম আনেন ঘোড়ার
ব্যবসায়ী এবং যন্ত্রসঙগীত শিল্পী মোহাম্মাদ হাশমী খান বাঙ্গাস।
তিনি প্রথম মধ্যপ্রদেশের রেবার মহারাজার সভা বাদক হন। তার নাতি গোয়ালিয়রের রাজসভার বাদক গুলাম আলী খান দাদার রবাব যন্ত্রটিকে সরোদে রূপান্তর করেন।
এরপর সরোদের চূড়ান্ত সংস্করণ করেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন
খান।
মাইহার রাজসভা থাকার সময়টিতে তিনি সরোদ এর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনিই এই যন্ত্রটিকে সংস্কার, জনপ্রিয় ও পরিচিত করে তোলেন। পরে তাঁর ভাই আরেক কিংবদন্তী ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ যন্ত্রটিকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যান।
সরোদের দুটি ঘরানা রয়েছে।
এর একটি হলো- মাইহার ঘরানা এবং গোয়ালিওর–বাঙ্গাস ঘরানা। গোয়ালিওর–বাঙ্গাস আমজাদ আলী খান এর গড়নে টিক কাঠ এবং নিকেল প্লেটেড স্টিল ব্যবহার করেন। ছাউনি তে ছাগলের চামড়া। মাইহার ঘরানায় তারের আছে ভিন্ন বিন্যাস। পরিবেশন রীতিতে তো
ভিন্নতা আছেই। সেই গুরু গম্ভীর আলোচনা থাক।
সূত্র:
- যন্ত্রকোষ। শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর। কলকাতা ১৭৯৭ শকাব্দ