এই আইনটি ছিল ভারতের প্রথম সিভিল ম্যারেজ আইন, যা ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারমূলক দাবির ফলে পাস হয়। পরবর্তীকালে এটি ১৯৫৪ সালের
Special Marriage Act
দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় (ভারতে), কিন্তু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এর কিছু অংশ এখনও প্রযোজ্য।
‘ব্রাহ্মবিবাহ। গত ১২ শ্রাবণ শুক্রবার ব্রাহ্ম ধর্ম্মের ব্যবস্থানুসারে
শ্ৰীযুক্ত রাজারাম মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের পুত্র শ্রীযুক্ত হেমেন্দ্রনাথ
মুখোপাধ্যায়ের সহিত শ্রীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের কন্যার শুভ বিবাহ
অতি সমারোহ পূৰ্ব্বক সম্পন্ন হইয়া গিয়াছে। বঙ্গদেশে ব্রাহ্মধর্ম্মানুযায়ী
বিবাহের এই প্রথম সূত্রপাত হইল। বিবাহ সভায় লোকের বিস্তর সমারোহ হইয়াছিল। আর
আহ্লাদের বিষয় এই যে প্রায় দুই শত ব্রাহ্ম সভাস্থ হইয়া যথা-বিধানে কাৰ্য্য
সম্পাদন করিয়াছিলেন। যথা-নিয়মে পাত্রের অভ্যর্থনা হইলে পর ব্রহ্ম-বিষয়ক একটী
সঙ্গীত সহকারে ব্রহ্মোপাসনা আরম্ভ হইল। চতুর্দ্দিক নিস্তব্ধ হইল; জন-কোলাহল আর
কিছুমাত্র রহিল না—কেবল ব্রহ্মনামের মঙ্গল-ধ্বনি উঠিতে লাগিল। তৎপরে কন্যাদান
কার্য্য সম্পন্ন হইলে উপাচার্য্য শ্ৰীযুক্ত আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ মহাশয়
দম্পতীকে…উপদেশ করিলেন।’
ব্রাহ্মসমাজে ব্রাহ্মরীতিতে প্রথম বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল ১৮৬১ খ্রিষ্টব্দের ২৬ জুলাই। এই বিবাহটি ছিল মহর্ষি
দেবেন্দ্রনাথ
ঠাকুরের দ্বিতীয় কন্যা
সুকুমারী
দেবীর সাথে হেমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়-এর। তৎকালীন 'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা'র নথিপত্র অনুযায়ী এটিই ছিল ব্রাহ্ম সমাজের ইতিহাসে সম্পূর্ণ ব্রাহ্মরীতি বা 'অনুষ্ঠান পদ্ধতি' মেনে প্রথম বিবাহ।
তত্ত্ববোধিনী
শ্রাবণ ১৭৮৩ শক [পৃষ্ঠা: ৬৭-৬৮]
এই বিবাহের বিস্তারিত বিবরণ
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সূত্রে উল্লৈখ পাওয়া যায়,
ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'স্বর্ণকুমারী দেবী' গ্রন্থে।
[দেখুন:
বিবরণ]