ইউনিকর্ন
বানান্ বিশ্লেষণ : ই+উ+ন্+ই+ক্+অ+র্+ন্+অ
উচ্চারণ:
iu.ni.kɔrn (ইউ.নি.কর্ন্)
শব্দ-উৎস: প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার শব্দমূল
(PIE root)- oi-no (one, unique)>one+ cornus "horn" (PIE root ker- "horn; head"). > প্রাচীন ল্যাটিন unicornis (adj.) যার একটি লেজ আছে> প্রাচীন ল্যাটিন unicornus (Vulgate), ইউনিকোর্নাস নামক প্রাণী> প্রাচীন ফরাসি unicorne> ইংরেজি unicorn> বাংলা ইউনিকর্ন

পদ: বিশেষ্য
অর্থ: গ্রিক পৌরাণিক প্রাণী বিশেষ। ইউনিকর্নের সম্পর্কে প্রথম যায়- গ্রিক চিকিৎসক ও ঐতিহাসিক টিসিয়াসের রচিত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’য়।

সাধারণভাবে এর দৈহিক বর্ণনায় >ভাস্কর্য ও চিত্রকর্মে ইউনিকর্নের যে দৃশ্যমান রূপ দেখা যায়, তাহলো- সুদর্শন সাদা ঘোড়া মতো। কিন্তু এর কপালের মধ্য-উর্ধ্বভাগ থেকে প্যাঁচানো সোজা শিং উত্থিত হয়েছে। এই শিঙের অগ্রভাগ সরু। তবে গ্রন্থভেদে এর নানা রূপের পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন-

পৌরাণিক কাহিনি মতে- ইউকর্ণে রয়েছে অলৌকিক ক্ষমতা। এই কারণে প্রাচীন কাল থেকে অনেকেই ইউনিকর্ণ ধরার চেষ্টা করেছেন। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ এক সময় মনে  করতো এর শিং ছিল - যে কোনো ধরনের রোগ থেকে মুক্তির জন্য অব্যর্থ ঔষধ। এছাড়া অপবিত্র পানিকে পবিত্রকরণ কিংবা ভয়াবহ বিষের প্রতিষেধক ছিল এর শিং। এছাড়া ইউনিকর্নকে  সৌভাগ্য ও উর্বতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

যেহেতু ইউনিকর্ন খুব পবিত্র ও নিষ্পাপ। শুধুমাত্র কুমারীই তাকে আবদ্ধ করতে পারবে। শিকারীরা যেহেতু কোনোভাবেই ইউনিকর্নকে বন্দী করতে পারতো না। তাই কোনো কুমারী মেয়েকে গাছের নিচে বসিয়ে রাখা হতো। ইউনিকর্ন প্রশান্ত মনে কুমারীর কোলে মাথা রেখে বসতো। যখন ঘুমিয়ে পড়তো, তখন শিকারীরা চারপাশে ঘিরে ধরতো এবং আবদ্ধ করতো। ত্রয়োদশ ও চতু্র্দশ শতকে ইউরোপে  প্রচুর রোমান্টিক আখ্যান গড়ে উঠেছিল ইউনিকর্নকে জড়িয়ে।

চীনের কি-লিন নামক একটি পৌরাণিক প্রাণীকে চীন-দেশীয় ইউনিকর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রকৃত ইউনিকর্ণের সাথে এর দৈহিক রূপের পার্থক্য রয়েছে। যদিও গ্রীক উপকথার কাইমেরার সাথেও কি-লিনের মিল বিদ্যমান। কি-লিনের শরীর দেখতে হরিণের মতো কিন্তু মাথাটা সিংহের। সবুজ আঁশ দিকে ঢাকা শরীর। একটা লম্বা শিং মাথার ঠিক মধ্যভাগে স্থিত। জাপানি উপকথায় এরূপ একটি প্রাণীর নাম কিরিন। ধারণা করা হয়, চীনের কি-লিন থেকেই এসেছে বলে মনে করা হয়।

কি-লিনকে শান্তিপ্রিয় এবং অলৌকিক হিসাবে গণ্য করা হয়। সবুজ ঘাসের উপর দিয়ে এর চলার সময় সে  একটা পাতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। কথিত আছে এদের যাতায়াত ছিল অধিকাংশ সময় মেঘ কিংবা পানির উপর দিয়ে। এরা একটি মানুষ ভালো না খারাপ, তা তার দিকে তাকিয়েই বুঝে নিতে পারতো। সাধারণ সময়ে শান্ত থকলেও, মন্দ লোকদের শাস্তি দেবার জন্য তারা নিজের অলৌকিক শক্তি ব্যবহার করতো। এরা ছিল উর্বরতা ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। তারা শিল্পকলায় উঠে এসেছে নবদম্পতির জন্য সন্তান দানকারী হিসাবে।

আফ্রিকার পৌরাণিক কাহিনিতে দুই শিং বিশিষ্ট আবাদা নামক প্রানির কথা জানা যায়। আকারে গাধার মতো এবং শূকরের লেজের মতো লেজ বিদ্যমান। এই শিং নানা রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।

দক্ষিণ আমেরিকার ক্যামহূয়েতো। অনেকটা ইউনিকর্নের কাছাকাছি ধরনের প্রাণী। অনেক সময় একে বর্ণনা করা হয়েছে ষাঁড়ের মতো। ক্যামাহুয়েতোর শিং ছিল অজস্র রোগের প্রতিষেধক। এই কারণে স্থানীয় চিকিৎসকরা এদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। ইউনিকর্নের মতো এদেরও একটা শিং ছিল। পৌরাণিক কাহুনি থেকে জানা যায়, জন্তুটাকে প্রথমে ধরে এনে বন্দী করে রাখা হতো। তারপর খুব সতর্কতার সাথে শিং কেটে নেওয়া হতো। পরে আলগোছে জায়গাটা বেঁধে ছেড়ে দেওয়া হতো বনে। নপুংষকতা দূরীকরণে কিংবা বৃদ্ধ বয়সেও সন্তান জন্মদানে সক্ষমতা অর্জনের জন্য এই শিং ভূমিকা রাখতো বলে চিকিৎসরা বিশ্বাস করতো।