কাবা
কাবাঘরের
পাশে অবস্থিত একটি বর্গাকৃতির পাথর রয়েছে। একটি লোহার বেষ্টনীর ভেতর একটি
ক্রিস্টালের বাক্সের ভিতর এই পাথরটি রাখা আছে। এই পাথরটির নাম
মাকামে ইব্রাহিম
এর আভিধানিক অর্থ কালো পাথর। মুসলমানদের কাছে এটি
অতি মূল্যবান ও পবিত্র পাথর হিসাবে স্বীকৃত। হজের সময় তাওয়াফ (কাবা শরিফ সাতবার
চক্কর দেওয়া) শুরুর স্থান হিসাবে এই পাথরটি নির্ধারিত চিহ্ন হিসাবে নির্দেশিত হয়।
কাবাঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, তাওয়াফের জায়গা
থেকে দেড় মিটার উঁচুতে একটি কালো বর্ণের পাথর স্থাপিত আছে। একে বলা হয়
হজরে আসওয়াদ।
ইতিহাস
ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে, এই ঘরটি প্রথম তৈরি করেছিলেন হজরত আদম (আঃ)।
কোরআন-এর
সুর ইমরানের
৯৬ সংখ্যক
আয়াতে বলা
হয়েছে — ' নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে,
সেটাই হচ্ছে এ ঘর,
যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়
।'
আদিতে কাবা ছিল একটি কালো বর্ণের উল্কাপিণ্ডকে ঘিরে চারটি দেওয়াল বিশিষ্ট ঘনাকৃতির
স্থাপনা। এর কোনো ছাদ ছিল না। স্থানীয় অধিবাসীরা এই উল্কাপিণ্ডকে ভক্তি করতো। তারা
মনে করতো আকাশ থেকে দেবতারা এই পবিত্র পাথর প্রেরণ করেছে।
এর পর দীর্ঘদিন অতিক্রমণের পর এই ঘরটি নষ্ট হয়ে যায় এবং আরবের লোকেরা এই ঘরের কথা
ভুলে গিয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশে এই ঘরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হজরত ইব্রাহিম
(আঃ) তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আঃ)।
সুরা বাকারা'র ১২৭ সংখ্যক আয়াতে এই সম্পর্কে বলা হয়েছে
— ' স্মরণ
কর যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল
কা
বাগৃহের
ভিত্তি স্থাপন করছিল।
তারা দোয়া করেছিলঃ পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল করL
নিশ্চয়ই, তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।'
হজরত ইব্রাহিম
(আঃ)-এর নেতৃত্বে নির্মিত কাবাঘরের তত্ত্বাবধান করেছেন পরবর্তী আরবের বিভিন্ন
গোত্র। মক্কায় যেসব গোষ্ঠী বা
সম্প্রদায়ের প্রতিপত্তি ছিল, তাদের দায়িত্ব থাকতো কাবা শরিফ রক্ষণাবেক্ষণের। এ
দায়িত্ব পালনকে তারা সম্মানিত ও গর্বের মনে করতো। এই তত্ত্বাবধানের প্রথম দিকে
দায়িত্ব নিয়েছিল মক্কার জুরহাস সম্প্রদায়।
৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে কাবাঘরকে সংস্কার করেছিলেন মোজার
সম্প্রদায়। হজরত
মুহাম্মদ সাঃ নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে কাবাঘর সংস্কার করে মক্কার বিখ্যাত
কোরাইশ বংশ। কোরাইশরা কাবা শরিফ সংস্কারের পর হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে মতভেদ
দেখা দেয়। এর মীমাংশা করেছিলেন
হজরত মুহাম্মদ সাঃ।
এই গৃহে পরবর্তী সময়ে
হজরে আসওয়াদ
নামক পাথর স্থাপন করা হয়।
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে বন্যায়
কাবাশরিফ
মুসলমানরা প্রথম এই ঘরের সংস্কার করেন ৬০৮ খ্রিষ্টাব্দে। ধারণা করা হয়, এই ঘরটি
তৈরিতে ব্যাবহার করা হয়েছিল লোহিত সাগরের কুলে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বাইজেন্টিয়ান বা
আবসিনিয়ার জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে। এই সময় এই ঘর এবং এর পার্শ্বর্তী অঞ্চলকে
পবিত্র অঞ্চল বা হারাম বলে গণ্য করা হতো। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
মুসলমানরা নামাজ পড়তো জেরুজালেমের আল-আক্সা মসজিদের দিকে মুখ করে। ৬২৩
খ্রিষ্টাব্দে 'মসজিদুল হারাম' তথা কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার নির্দেশ আসে
আল্লার পক্ষ থেকে।সূরা
আল-বাক্বারাহ-র ১৪৪ আয়াতে এই
নির্দেশ পাওয়া যায়। ' নিশ্চয়ই
আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি।
অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহ্লে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ্ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।'
[
সূরা আল-বাক্বারাহ-র ১৪৪]
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় ভয়ানক বন্যা
হয়। এর ফলে
কাবা'র চার পাশ প্লাবিত হয়েছিল।
সূত্র: