ক্যাম্ব্রয়ান-পূর্ব মহাকাল
(৪৬০-৫৪. কোটি খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দ)
Precambrian Supereon

পৃথিবী ভূতাত্ত্বিক কালবিভাজনের দুটি কালের মধ্যে ক্যাম্ব্রিয়ান-পূর্ব মহাকালকে আদি মহাকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ভূতত্ত্ববিদগণ ভূত্বকের এই স্তরবিন্যাসগুলোর পরীক্ষা করা শুরু করেন। ১৮৩৫ সালে ইংরেজ ভূতত্ত্ববিদ এ্যাডাম সেজুয়িক (Adam Sedgwick) এই ভূত্বকের পাথুরে স্তরগুলোর সৃষ্টিকালকে ক্যাম্ব্রিয়ান (Cambrian) নামে অভিহিত করেন। এরপর পৃথিবীর পাথুরে অঞ্চলের নিম্নভাগের বৈশিষ্ট্য বিচার করে, তিনি সিদ্ধান্ত দেন যে, পাথুরে স্তরগুলো সৃষ্টির আগের সময়ের নাম ক্যাম্ব্রিয়ান-পূর্ব হওয়া উচিৎ।

ভূতাত্ত্বিক গবেষণার প্রথম দিকে ধারণা করা হয়েছিল যে, ৪০০ কোটি
 খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দের ভিতরে প্রাণের বিকাশ ঘটে নি। তাই প্রিক্যাম্ব্রিয়ান মহাকাল-এর প্রথম ভাগের নাম দেওয়া হয়েছিল অজীবীয় কাল (Azoic) সে সময়ের বিজ্ঞানীদের কাছে জীবের আদি নমুনা ছিল না। পরে যখন দেখা গেল  পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা হয়েছিল ৪১৫ থেকে ৪০০ কোটি পূর্বাব্দে। এই কারণে পরে এর নামকরণ করা হয় ক্রিপ্টোজোয়িক (Cryptozoic) বা লুকায়িত জীবনকাল। আরও বিস্তারিত গবেষণার সূত্রে ক্রিপ্টোজোয়িক কালকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। ভাগ দুটি হলো-  প্রাণ-সৃষ্টি কাল (Archeozoic) এবং আদি প্রাণ-বিকাশ কাল (Proterozoic)

বর্তমানে পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দুটি মহাকালে ভাগ করা হয়। এই মহাকাল দুটি হলো-

আন্তর্জাতিক ভূস্তর কমিশন (International Commission on Stratigraphy) র মতে ক্যাম্ব্রীয়-পূর্ব (Precambrian)-এর সময় সীমা- ৪৬০ কোটি থেকে ৫৪ কোটি ১০ লক্ষ পূর্বাব্দ। এই মহাকালকে তিনটি কালে বিভাজিত করা হয়েছে। এই কাল তিনটি হলো

১. হেডিন কাল :  ৪৬০ কোটি বৎসর থেকে ৪০০ কোটি বৎসর।
২.
আর্কিয়ান কাল: ০ কোটি বৎসর থেকে ২৫০ কোটি বৎসর
৩.
প্রোটেরোজোইক: ২৫০ কোটি বৎসর থেকে ৫৪. কোটি বৎসর

          দেখুন: আন্তর্জাতিক ভূস্তর কমিশনের সময়-তালিকা


সূত্র: