গ্রহ
planet

মহাকাশীয় বস্তু বিশেষ।
মহাকাশে একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের মহাকাশীয় বস্তু আবর্তিত হয়। কিন্তু এর সবগুলোই গ্রহ নয়। কোনো মহাকাশীয় বস্তুকে গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কয়েকটি শর্তের বিচারে।

সৌরজগতের অন্তর্গত গ্রহের বিচারে, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে
International Astronomical Union তিনটি শর্তের ভিত্তিতে গ্রহের একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। এই শর্ত তিনটি ব্যাখ্যা-সহ নিচে তুলে ধরা হলো।

২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে
International Astronomical Union (IAU) -এর প্রাগ সভায় গ্রহের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এখনও আধিকারিক এবং বর্তমান সংজ্ঞা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে (২০২৫-২০২৬ সাল পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন হয়নি)। এই সংজ্ঞা অনুসারে একটি বস্তুকে গ্রহ বলা হবে যদি সে নিম্নলিখিত তিনটি শর্ত পূরণ করে:
১. সূর্যের চারদিকে কক্ষপথে থাকতে হবে (It must orbit the Sun) । অর্থাৎ, বস্তুটি সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করবে (এবং কোনো গ্রহের উপগ্রহ বা অন্য কোনো বস্তুর উপগ্রহ নয়)।
২. নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণের কারণে প্রায় গোলাকার আকার ধারণ করতে হবে
(It must have sufficient mass for its self-gravity to overcome rigid body forces so that it assumes a hydrostatic equilibrium — nearly round shape)। অর্থাৎ, বস্তুটির ভর এত বেশি হতে হবে যাতে নিজের মাধ্যাকর্ষণ বল দিয়ে এটি একটি প্রায় গোলাকার (hydrostatic equilibrium) আকারে পরিণত হয়। ৩. তার কক্ষপথের আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার করতে হবে (It must have cleared the neighbourhood around its orbit) । অর্থাৎ, বস্তুটির কক্ষপথে তার চেয়ে অনুরূপ আকারের বা ভরের অন্য কোনো বস্তু থাকবে না। এটি তার কক্ষপথের প্রভাবশালী বস্তু হবে এবং অন্যান্য বস্তুকে গ্রাস করেছে বা বিতাড়িত করেছে।
গ্রহের তৃতীয় সূত্রানুসারে, প্লুটোকে গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কিনা, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তর্ক বিতর্ক চলছিল। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্রহের সংজ্ঞা নির্ধারিত হলে, প্লুটো প্রধান গ্রহের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। পাশের চিত্রে প্লুটোর যে কক্ষপথ দেখানো হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, চ্যারন নামক উপগ্রহের প্রভাবে প্লুটো নিজের অক্ষ পরিত্যাগ করে ছোটো একটি চক্র তৈরি করে আবর্তিত হচ্ছে। ফলে সূর্যকে প্রদক্ষিণের জন্য একটি কেন্দ্র তৈরি হয়েছে, আবার একই সাথে নিজের ক্ষুদ্র চক্রের জন্য একটি কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। প্লুটোর এই বৈশিষ্ট্যের সূত্র ধরে শুধু প্লুটো নয়, সৌরজগতের প্লুটোর মতো আরও কিছু গ্রহকে নতুন করে নাম দেওয়া হয়, বামন গ্রহ। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সৌরজগতের বামনগ্রহগুলো এরিস, প্লুটো

২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন সৌরজগতের গ্রহগুলোর আকার ও ভরের বিচারে একটি সূত্র প্রণয়ন করেছে। এই সূত্রানুসারে বর্তমানে সৌর জগতের গ্রহের সংখ্যা ৮টি। এগুলো হলো-  বুধ, শুক্র, পৃথিবী , মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন

এছাড়া সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তনশীল যে মহাকশীয় বস্তু রয়েছে, তাদের ভিতরে যেগুলকে গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না সেগুলো হলো-  ধূমকেতু, গ্রহাণুপুঞ্জ, অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র বস্তু (সেরেস, পালাস, জুনো, ভেস্তা এবং প্লুটো) ইত্যাদি। ৮টি গ্রহকে মোট দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। ভাগ দুটি হলো
পৃথিবীসদৃশ-গ্রহ (terrestrial planets) : সংখ্যা ৪
সূর্য থেকে পর চারটি গ্রহকে এই নামে অভিহিত করা হয়। এই গ্রহগুলোর গাঠনিক উপাদান পাথর ও বিভিন্ন ধরনের ধাতব পদার্থ। এই গ্রহ চারটি হলো- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, এবং মঙ্গল

গ্যাসীয় দানব-গ্রহ (Jovian planet, gas giant) :
সংখ্যা ৪
মঙ্গল গ্রহের পরে দুঋই বিশালাকার গ্রহ রয়েছে। এই গ্রহদুটির প্রধান উপাদান জমাটবদ্ধ গ্যাস। এই গ্যাসপিণ্ডের প্রধান অংশ হিসাবে আছে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, মিথেন, এ্যামিনিয়া এই ৪টি গ্রহ হলো বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন

দূরবর্তী ক্ষুদ্রগ্রহসমূহ :
নেপচুনের কক্ষপথের পরেই রয়েছে কুইপার বলয় (Kuiper belt)। উল্লেখ্য এই বলয়টি অনেকটি গ্রহাণুপুঞ্জের বলয়ের মতো। তবে এই বলয়ে পাথরের পরিবর্তে রয়েছে অসংখ্য ছোটো ছোটো বরফের তৈরি বস্তুপুঞ্জ। তবে এই বস্তুপুঞ্জগুলোর মূল উপাদান পানি, মিথেন এবং এ্যামোনিয়ার সংমিশ্রণে সৃষ্ট বরফ। এগুলোর নাম- সেরেস, পালাস, জুনো, ভেস্তা এবং প্লুটো।
২০২৪ < খ্রিষ্টাব্দে কিছু বিজ্ঞানী (যেমন Jean-Luc Margot এবং অন্যান্য) একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে: সূর্যের পরিবর্তে যেকোনো তারাৱ, ব্রাউন ডোয়ার্ফ, স্টেলার রেমন্যান্টকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে থাকতে পারে (এক্সোপ্ল্যানেটও অন্তর্ভুক্ত)। নির্দিষ্ট ভরের সীমা: ১০²³ কেজি-এর বেশি এবং ১৩ জুপিটার ভরের কম।