নেপচুন
বানান বিশ্লেষণ :
ন্+এ+প্+অ+চ্+উ+ন্+অ।
উচ্চারণ: nep.cʃun
(নেপ্.চুন্)
শব্দ-উৎস: ল্যাটিন
Neptunus
(রোমান
সমুদ্র দেবতা)>ইংরেজি Neptune>বাংলা
নেপচুন।
পদ:
বিশেষ্য
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা {
|
গ্যাসীয় দানব গ্রহ |
প্রধান গ্রহ |
মহাকাশীয় বস্তু
|
প্রাকৃতিক লক্ষ্যবস্তু
|
সমগ্র |
দৈহিক
লক্ষ্যবস্তু
|
দৈহিক সত্তা
|
সত্তা
|}
~|
ঊর্ধ্বতন-গ্রহ |
প্রধান গ্রহ |
মহাকাশীয় বস্তু
|
প্রাকৃতিক লক্ষ্যবস্তু
|
সমগ্র |
দৈহিক
লক্ষ্যবস্তু
|
দৈহিক সত্তা
|
সত্তা
|
~|
বহির্গ্রহ
|
প্রধান গ্রহ |
মহাকাশীয় বস্তু
|
প্রাকৃতিক লক্ষ্যবস্তু
|
সমগ্র |
দৈহিক
লক্ষ্যবস্তু
|
দৈহিক সত্তা
|
সত্তা
|
সৌরজগৎ-এর একটি গ্রহ। সূর্যের দিক থেকে এর অবস্থান অষ্টম। সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী। রোমান সমুদ্র দেবতা নেপচুনের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবে, এই গ্রহটিকে চোখে দেখার আগেই ধারণা করা হয়েছিল, ইউরেনাসের পরে একটি গ্রহ রয়েছে। এই অনুমানের কথা প্রথম প্রকাশ করেন আরবেইন লি ভিরিয়ার (Urbain Le Verrier)। এবং তিনিই প্রথম এর নামকরণ করেন নামকরণ করেন নেপচুন। অবশ্য ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে গ্যালিলিওর গ্রহ সম্পর্কিত চিত্রাঙ্কন দেখে মনে হয়, তিনিও এই গ্রহটিকে দেখেছিলেন। গ্যালিলিও প্রথম দেখেন ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে ডিসেম্বর। পরে আবার তিনি দেখতে পান ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে জানুয়ারি। কিন্তু দুই বারই তিনি একে নহ্মত্র হিসেবে বিবেচনা করে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেন।
১৮৪৬ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর জোহান গ্যালে (Johann Galle)
এই গ্রহটি পর্যবেক্ষেণ করে শনাক্ত করেন।
সূর্য্য থেকে দূরতের ৪৫৫ কোটি কিলোমিটার। নেপচুনের বার্ষিক গতি ১৬৪.৭৯ বছর। আহ্নিক গতি ১২ঘন্টার মত।
এর দিনের দৈর্ঘ ১৬ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড। আয়তন ৬.২৫৪*১০১৩। ভর
১.০২৪৩*১০২৬ কেজি।
মহাকাশ যান ভয়েজার-২
১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ অগাষ্ট নেপচুনের এলাকায় প্রবেশ করে।
৩টা ৫১মিনিট ৩৬ সেকেন্ড : নেপচুনের নিকটে পৌঁছায়। ভয়েজার-২ থেকে এর কেন্দ্রের দূরত্ব ছিল ২৯,২৪০ কিলোমিটার।
৪টা ৫১মিনিট : নেপচুনের-এর লারিসা নামক উপগ্রহ অতিক্রম করে। ভয়েজার-২ থেকে এর দূরত্ব ছিল ৬০,১৮০ কিলোমিটার।
৫টা ২৯মিনিট : নেপচুনের-এর প্রোটেয়ুস নামক উপগ্রহ অতিক্রম করে। ভয়েজার-২ থেকে এর দূরত্ব ছিল ৯৭,৮৬০ কিলোমিটার।
৯টা ২৩মিনিট : নেপচুনের-এর ট্রাইটোন নামক উপগ্রহ অতিক্রম করে। ভয়েজার-২ থেকে এর দূরত্ব ছিল ৩৯,৮০০ কিলোমিটার।
১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ অক্টোবর ভয়েজার ২ সৌরজগৎ
থেকে মহাকাশের পথে রওনা দেয়। এই মহাকাশ যান থেকে প্রেরিত তথ্যানুসারে জানা যায়, এর
বায়ুমণ্ডলের ৮০ ভাগ হাইড্রোজেন, ১৯ ভাগ হিলিয়াম ও মিথেন) বাকি অংশ
নাইট্রোজেন। এর কেন্দ্রীয় অংশ পাথর দিয়ে গঠিত। উপরিতল বরফে ঢাকা। মিথেনের আধিক্যের
কারণে এই গ্রহকে দূর থেকে নীল রঙের দেখায়। কেন্দ্রের তাপমাত্রা ৫০০০ ডিগ্রি
সেলসিয়াস হলেও, উপরিতলের তাপমাত্রা -২১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর উপরিতলে শক্তিশালী
বায়ুপ্রবাহ লক্ষ্য করা যায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা এর উপরিতলের বাতাসের গতি প্রায় ২১০০
কিলোমিটার/ঘন্টা। এই গ্রহকে ঘিরে রয়েছে হাল্কা বলয়। এর উপগ্রহের সংখ্যা ১৩টি। এর
ভিতরে সবচেয়ে বড় উপগ্রহের নাম টাইটান।
তথ্যসূত্র :