তেমুর খান
(শাসনকাল:১২৯৪-১৩০৭ খ্রিষ্টাব্দ)

মঙ্গোল জাতির অন্যতম যোদ্ধা এবং চীনের রাজা। কুবলাই খানের নাতি ছিলেন। কুবলাইয়ের মনোনীত পুত্র জেনজিন খান ১২৮৫ মৃত্যবরণ করেন। এরপরকুবলাই খান তাঁর নাতি তেমুর খানকে পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেন। উল্লেখ্য তেমুর খান ছিলেন জেনজিন খান কনিষ্ঠ পুত্র। জেনজিন খানের মৃত্যুর পর  ১২৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কুবলাই খানের মৃত্যুর পর তেমুর খান সিংহাসনে বসেন। উল্লেখ্য, তেমুর খানের অন্য নাম ছিল সম্রাট চেংজং।

জাপানের সাথে শান্তি স্থাপন করেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার  মিয়ানমার ভিয়েৎনামের ওপর মঙ্গোলদের করদ রাজ্যের মর্যাদা বজায় রাখতে সক্ষম হন। কুবাই খানের মৃত্যুর পর নাতি তেমুর খান সিংহাসন লাভ করেন। প্রজাদের অবস্থা বিবেচনায় তিনি কয়েকবার কৃষকদের কর মওকুফ করেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডার থেকে সাহায্য পাঠান। তিনি তাঁর বাবার মতো চীনা কনফুসিয়াস মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং চীনা পণ্ডিতদের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়েছিলেন।

তেমুর খান তাঁর শাসনকালে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের বিস্তার নতুন সামরিক অভিযানের চেয়ে কূটনৈতিকভাবে সুসংহত করার দিকে বেশি ঝুঁকেছিলেন। কুবলাই খান জাপানে যে ব্যয়বহুল অভিযান চালিয়েছিলেন, তেমুর তা বন্ধ করে দেন। তিনি ভিয়েৎনামের সাথেও একটি শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

১২৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মিয়ানমারের পাগান রাজা কিয়াওসোয়া তেমুর খানের বশ্যতা স্বীকার করেন। তেমুর তাঁকে 'মায়ানমারের রাজা' হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

১৩০১ খ্রিষ্টাব্দে মিয়ানমারের শান ভাইদের বিদ্রোহ দমনের জন্য তিনি শেষবারের মতো একটি মঙ্গোল বাহিনী পাঠিয়েছিলেন। যদিও সেই অভিযান খুব একটা সফল হয়নি, এরপর থেকে তিনি মিয়ানমারে আর বড় কোনো আক্রমণ চালাননি।

তেমুর খানের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য ছিল পশ্চিমের অন্যান্য মঙ্গোল খানাতগুলোর (যেমন: গোল্ডেন হোর্ড, ইলখানাত) সাথে বিবাদ মিটিয়ে ফেলা।

১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মধ্যস্থতায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং তিনি মঙ্গোল সাম্রাজ্যের সর্বজনীন নেতা হিসেবে স্বীকৃত হন।

তেমুর খান সব ধর্মের প্রতি উদার ছিলেন। তাঁর শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা পেলেও খ্রিষ্টান, মুসলিম এবং তাও মতাদর্শের মানুষরা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালন করতে পারতেন।

তেমুর খান ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তাঁর একমাত্র পুত্র এবং উত্তরাধিকারী দেশি তাঁর আগেই মারা যান। ১৩০৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যে পুনরায় উত্তরাধিকার নিয়ে কোন্দল শুরু হয়।
 

সূত্র :