বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: যুগ যুগ ধরি' লোকে-লোকে মোর
যুগ যুগ ধরি' লোকে-লোকে মোর
প্রভুরে খুঁজিয়া বেড়াই;
সংসারে গেহে, প্রীতি ও স্নেহে
আমার স্বামী বিনে নাই সুখে নাই॥
তাঁর চরণ পাবার আশা ল'য়ে মনে
ফুটিলাম ফুল হয়ে কত বার বনে,
পাখি হয়ে তাঁর নাম
শত বার গাহিলাম
তবু হায় কভু তাঁর দেখা নাহি পাই॥
গ্রহ-তারা হয়ে খুঁজেছি আকাশে,
দিকে দিকে ছুটেছি মিশিয়া বাতাসে,
পর্বত হয়ে নাম
কোটি যুগ ধিয়ালাম,
নদী হয়ে কাঁদিলাম খুঁজিয়া বৃথাই॥
-
ভাবসন্ধান: পরমসত্তাকে লাভের জন্য জীবাত্মার আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন এবং তার এই অনুসন্ধান যুগ-যুগান্তরের। জড় ও জীবজগতের নানা রূপ ধারণ করে, প্রকৃতির সর্বত্র বিচরণ করেও সে পরম প্রভুর সাক্ষাৎ পায় না। এই ভাবাদর্শে রচিত এই গানে-
সাধক যুগের পর যুগ ধরে, লোক থেকে লোকান্তরে, জীবাত্মা যে তার পরম প্রভুর সন্ধান করে চলেছে,
সেই অভিব্যাক্তিই উপস্থাপিত হয়েছে।
সাধক সংসার, গৃহ, আত্মীয়তা, প্রীতি ও স্নেহ—কোনো কিছুতেই সে প্রকৃত সুখ খুঁজে পায় না। কারণ তার অন্তরের গভীরতম আকাঙ্ক্ষা একমাত্র সেই চিরকাঙ্ক্ষিত প্রভুকে লাভ করা। তাঁকে না পেলে তার কোনো পার্থিব প্রাপ্তিই সম্পূর্ণ হয় না।
প্রভুর চরণ লাভের আশায় জীবাত্মা বারবার পৃথিবীতে এসেছে এবং ফুল হয়ে বনে ফুটেছে- অর্থাৎ সৌন্দর্য ও সুগন্ধের মধ্য দিয়ে প্রভুর কাছে নিজেকে নিবেদন করতে চেয়েছে। আবার পাখি হয়ে তাঁর নাম গেয়েছে—প্রকৃতির সুর ও গানের মধ্য দিয়ে প্রভুর স্মরণ করেছে। কিন্তু এত সাধনা ও আকুলতার পরও তার প্রভুর প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ ঘটেনি।
তাই তার অনুসন্ধান আরও বিস্তৃত হয়েছে।
গ্রহ-তারা হয়ে আকাশে সে প্রভুর সন্ধান করেছে; বাতাসের সঙ্গে মিশে দিকে দিকে ছুটেছে- অসীম বিশ্বপ্রকৃতির সর্বত্র তাঁকে খুঁজে ফিরেছে। আবার পর্বত হয়ে কোটি যুগ ধ্যান করেছে—অটল ও স্থির সাধনায় তাঁর অপেক্ষায় থেকেছে। শেষে নদী হয়ে কেঁদে কেঁদে তাঁর সন্ধান করেছে; কিন্তু বাহ্যজগতে যতই অনুসন্ধান করুক, কাঙ্ক্ষিত প্রভুকে খুঁজে পায়নি।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় না।
১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪২) মাসে , এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ
করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ১ মাস।
-
গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
১৬৬]
-
রেকর্ড:
এইচএমভি। ১৯৩৫ জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪২)। এন ৭৩৭৭। শিল্পী: শঙ্করা মিশ্র
-
স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
সুধীন দাশ।
[নজরুল-সঙ্গীত
স্বরলিপি, সপ্তম খণ্ড নজরুল ইন্সটিটিউট ১১
জ্যৈষ্ঠ,
১৩৯৯ বঙ্গাব্দ/ ২৫শে মে, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ। ২৪ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ১০৮-১১০]
[নমুনা]
- সুরকার: নজরুল ইসলাম।
- পর্যায়:ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। অন্বেষণ
- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্য