দোলে প্রাণের কোলে প্রভুর নামের মালা।
সকাল সাঁঝে সকল কাজে জপি সে নাম নিরালা॥
সেই নাম বসন-ভূষণ আমারি
সেই নামে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারি,
সেই নাম লয়ে বেড়াই কেঁদে'
সেই নামে আবার জুড়াই জ্বালা
সেই নামেরই নামাবলী গ্রহ-তারা রবি-শশী দোলে গগন-কোলে।॥
মধুর সেই নাম প্রাণে সদা বাজে,
মন লাগে না সংসার-কাজে,
সে নামে সদা মন মাতোয়ালা॥
আদর-সোহাগ, মান-অভিমান আপন মনে তার সাথে
কাঁদায়ে কাঁদি, পায়ে ধ'রে সাধি,
কভু করি পূজা, কভু বুকে বাঁধি,
আমার স্বামী সে ভুবন-উজালা॥
এই গানে ভক্ত কবির হৃদয়ে প্রভু তথা পরমসত্তার নামের প্রতি গভীর প্রেম, নির্ভরতা ও আত্মনিবেদনের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। ভক্তের কাছে পরমসত্তা নামই জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ, আশ্রয় এবং আনন্দের উৎস। তাঁর জীবন সকাল-সন্ধ্যা, কর্মে ও চিন্তায় সর্বদা প্রভুর নামস্মরণে পরিপূর্ণ।
প্রভুর নামই তাঁর অলংকার ও পরিচয়- কবি এই দর্শন মান্য করেন। এই নামই তাঁর হৃদয়ের ক্ষুধা-তৃষ্ণা মেটায় এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর করে শান্তি এনে দেয়। কখনও তিনি সেই নাম স্মরণ করে অশ্রু বিসর্জন করেন, আবার সেই নামের মধ্যেই সান্ত্বনা ও প্রশান্তি খুঁজে পান। তাঁর বিশ্বাস, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড—গ্রহ, নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রও যেন সেই পরম নামের মহিমায় পরিচালিত হচ্ছে।
পরমসত্তার নামের মাধুর্য ভক্তের অন্তরে নিরন্তর অনুরণিত হয়। ফলে তাঁর মন সংসারের ক্ষণস্থায়ী বিষয় থেকে সরে গিয়ে তাঁরই নামের ধ্যানে নিমগ্ন থাকে। সেই নামের প্রেমে তাঁর মন সর্বদা মাতোয়ারা হয়ে থাকে।
গানের শেষাংশে ভক্ত ও প্রভুর সম্পর্ককে
অত্যন্ত অন্তরঙ্গ রূপে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি কখনও প্রভুর সঙ্গে অভিমান করেন,
কখনও সোহাগ করেন, কখনও কান্না করে তাঁর শরণ নেন, আবার কখনও পূজা করে তাঁকে হৃদয়ে
ধারণ করেন। প্রভু তাঁর কাছে কেবল উপাস্য নন, তিনি জীবনের স্বামী, প্রিয়তম এবং
সমগ্র জগতের আলোকদাতা।