বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম :
কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদায়-বেলা
কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদায়-বেলা,
মোছ মোছ আঁখি-লোর যদি ভাঙিল মেলা॥
কেন মেঘের স্বপন আন মরুর চোখে,
ভু’লে দিয়ো না কুসুম যারে দিয়েছ হেলা॥
যবে শুকাল কানন এলে বিধুর পাখি,
ল’য়ে কাঁটা-ভরা প্রাণ এ কি নিঠুর খেলা।
যদি আকাশ-কুসুম পেলি চকিতে কবি,
চল চল মুসাফির, ডাকে পারের ভেলা॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি তাঁর জীবনের অন্তিম মুহূর্তে দাঁড়িয়ে
অতীতের অপূর্ণ প্রেম, অবহেলা ও বঞ্চনার স্মৃতি স্মরণ করে গভীর অভিমান প্রকাশ
করেছেন। তিনি অনুভব করছেন, তাঁর জীবনযাত্রার শেষপ্রান্ত এসে গেছে; তাই বিদায়ের
এই লগ্নে হঠাৎ করে ভালোবাসার ফুলমালা বা সান্ত্বনার অশ্রু তাঁর কাছে অর্থহীন বলে
মনে হয়। তিনি প্রশ্ন করেন—যখন সারা জীবন উপেক্ষা ও অবহেলাই পেয়েছেন, তখন শেষ
মুহূর্তে এই ভালোবাসার প্রকাশ কেন?
কবি তাঁর
জীবনকে মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসার স্নিগ্ধতা
অনুপস্থিত ছিল। তাই তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যে হৃদয়কে একদিন শুষ্ক ও নির্জন করে
রাখা হয়েছে, তার চোখে আজ কেন মেঘের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে? যাকে একসময় ফুলের মতো
কোমল ভালোবাসা দিয়েও অবহেলা করা হয়েছে, তার কাছে শেষবেলায় মমতার প্রদর্শন
যেন আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে।
পরবর্তী স্তবকে কবি স্মরণ করেন, যখন তাঁর
জীবনের বাগান শুকিয়ে গিয়েছিল, যখন তিনি নিঃসঙ্গতা ও দুঃখে ক্লান্ত ছিলেন, তখন
প্রিয়জন তাঁর পাশে আসেনি। অথচ আজ, জীবনের সায়াহ্নে, সেই প্রিয়জন বেদনাবিধুর পাখির
মতো ফিরে এসেছে। কিন্তু এই প্রত্যাবর্তন আর কোনো আনন্দ বয়ে আনে না; বরং তা
অতীতের ক্ষত ও কাঁটাভরা স্মৃতিকে আরও জাগিয়ে তোলে। তাই কবি একে নিয়তির নির্মম
পরিহাস বলে মনে করেন।
শেষ স্তবকে কবি উপলব্ধি করেন যে, তাঁর
জীবনের যাত্রা প্রায় শেষ। যদি হঠাৎ করেও বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত প্রেম বা
স্বপ্নের পূর্ণতা এসে ধরা দেয়, তবুও আর তা গ্রহণ করার সময় নেই। তিনি এখন একজন
পথিক, যাকে ‘পারের ভেলা’ ডাকছে। এখানে ‘পারের ভেলা’ মৃত্যুর আহ্বান বা অনন্তের
পথে যাত্রার প্রতীক। তাই তিনি সকল অপূর্ণতা, অভিমান ও সংসার-মোহ পেছনে ফেলে শেষ
যাত্রার জন্য প্রস্তুত হন।
- রচনাকাল ও স্থান:
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার, ১৯ অগ্রহয়ণ ১৩৩৫), মুর্শিদাবাদের নিমতিতা'য় গানটি রচিত হয়েছিল। এই সময়
নজরুলের বয়স ছিল ২৯
বৎসর ৬ মাস।
- পত্রিকা: সওগাত। মাঘ ১৩৩৫ (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ১৯২৯)।
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- গ্রন্থ:
- বুলবুল
- দ্বিতীয় সংস্করণ [চৈত্র ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ। নতুন সংযোজন ২।
ভীমপলশ্রী-কাহারবা]
- নজরুল-রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ফাল্গুন ১৪১৩। ফেব্রুয়ারি ২০০৭। বুলবুল।
গান ৪৪। দেশ-গীতাঙ্গী। পৃষ্ঠা: ১৮৩-১৮৪]
-
নজরুল গীতিকা।
- প্রথম সংস্করণ। সেপ্টেম্বর ১৯৩০। ভাদ্র ১৩৩৭।
গজল। ২২। ভীমপলশ্রী-আদ্ধা কাওয়ালী। পৃষ্ঠা ৮১]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। তৃতীয় খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ঢাকা জুন ২০১২। নজরুল গীতিকা।
৬৭। গজল। ভীমপলশ্রী-আদ্ধা কাওয়ালী। পৃষ্ঠা: ২১৬]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৭০৮]
- রেকর্ড:
- এইচএমভি। জানুয়ারি ১৯৩১ (১৭ পৌষ-১৭ মাঘ ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ)। পি ১১৬৮২। শিল্পী ইন্দুবালা
- টুইন। ফেব্রুয়ারি ১৯৩৮ (মাঘ-ফাল্গুন ১৩৪৪)। এফটি ১২২৮৯৮। ইন্দুবালা
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: প্রেম
- সুরাঙ্গ:
গজল