বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: মম মধুর মিনতি শোন ঘনশ্যাম গিরিধারী
মম মধুর মিনতি শোন ঘনশ্যাম গিরিধারী
কৃষ্ণমুরারী, আনন্দ ব্রজে তব সাথে মুরারি॥
যেন নিশিদিন মুরলী-ধ্বনি শুনি
উজান বহে প্রেম-যমুনারি বারি
নূপুর হয়ে যেন হে বনচারী
চরণ জড়ায়ে ধরে কাঁদিতে পারি॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে একজন ভক্তের শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর প্রেম, আকুলতা ও চিরসান্নিধ্যের প্রার্থনা
উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে ভক্ত অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাঁর প্রিয় আরাধ্য ঘনশ্যাম গিরিধারী শ্রীকৃষ্ণের কাছে নিজের মধুর মিনতি নিবেদন করছেন। তিনি কৃষ্ণকে কৃষ্ণমুরারী ও আনন্দময় ব্রজের অধিপতি রূপে স্মরণ করেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের জন্য ব্যাকুল হয়েছেন।
ভক্তের একান্ত কামনা- যেন তিনি দিনরাত কৃষ্ণের মুরলীর মধুর ধ্বনি শুনতে পান। সেই বাঁশির সুর তাঁর হৃদয়ে এমন গভীর প্রেমের জোয়ার সৃষ্টি করে যে, তা যেন যমুনার জল উজান বেয়ে প্রবাহিত হওয়ার মতো অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে। অর্থাৎ কৃষ্ণপ্রেমের শক্তিতে তাঁর অন্তর স্বাভাবিক জাগতিক সীমা অতিক্রম করে এক অনির্বচনীয় আনন্দলোকে পৌঁছাতে চায়।
গানের শেষাংশে ভক্তের আত্মসমর্পণের আকুলতা আরও গভীর হয়ে উঠেছে। তিনি কামনা করেন, যেন তিনি নূপুর হয়ে বনচারী কৃষ্ণের চরণে জড়িয়ে থাকতে পারেন।
তাঁর পরম বাসনা- যেন কৃষ্ণের পদযুগল আঁকড়ে ধরে প্রাপ্তির আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে
ক্রন্দসী হয়ে উঠতে পারেন। এখানে নূপুর হওয়ার ইচ্ছা আসলে প্রভুর চরণসান্নিধ্যে চিরকাল
সান্নিধ্য পাওয়ার প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে গানটি হয়ে উঠেছে- ভক্তিরূপী প্রেম, আত্মসমর্পণ ও
কৃষ্ণের চিরসান্নিধ্য লাভের জন্য প্রার্থনা-সঙ্গীত।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় নি। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ
১৩৪৬) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল।
এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২২২৬। গান
৮৬৬]
- রেকর্ড:
এইচএমভি। জুলাই ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দ (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৬)। এন ১৭৩১৯। শিল্পী:
জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী। সুর: নজরুল ইসলাম] [সূত্র: রেকর্ড বুলেটিন, জুলাই ১৯৩৯,
পৃষ্ঠা ১৫]