বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
http://www.ecs.gov.bd/Bangla

নিবন্ধন নম্বর

০০

নিবন্ধন তারিখ

০৩/১১/২০০৮

প্রতীক

কাস্তে

প্রতীক নমুনা

সভাপতি

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

সাধারণ সম্পাদক

মো শাহ আলম

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা

মুক্তিভবন-৬ষ্ঠ তলা, ২, কমরেড মণি সিংহ সড়ক, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

ফোন

৯৫৫৮৬১২, ৯৫৮২৪৮৩

ফ্যাক্স

৯৫৫২৩৩৩

মোবাইল

০১৭১১-৪৩৮১৮১

ইমেইল

cpbmedia@gmail.com

ওয়েব ঠিকানা

www.cpbbd.org

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের একটি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী রাজনৈতিক দল। সংক্ষিপ্ত নাম সিপিবি (কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশ)।

অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকার হিসেবে এই দলটি গড়ে উঠেছে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাক-ভারত বিভাজনের পূর্বে ভারতবর্ষের অখণ্ড অবস্থায় ছিল। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাক-ভারত বিভাজনের পরপরই  বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির অধীনে পূর্ববঙ্গে (নববগঠিত পূর্ব পাকিস্তান) কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি আঞ্চলিক কমিটি (জোনাল কমিটি) গঠন করা হয়। এই জোনাল কমিটিই ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হওয়ার আগে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। ১৯৪৭ সালে গঠিত জোনাল কমিটির নেতারা ছিলেন-

১. খোকা রায় (সুধীন রায়)- সম্পাদক
২. মণি সিংহ
৩. নেপাল নাগ
৪. ফনী গুহ
৫. শেখ রওশন আলী
৬. মুনীর চৌধুরী
৭. চিত্তরঞ্জন দাস

পাক-ভারত বিভাজনের পর, ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কলকাতায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে কংগ্রেসে আগত পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা স্বতন্ত্রভাবে এক বৈঠকে মিলিত হন এবং ৯ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে ছিলেন-

১. সাজ্জাদ জহির- সাধারণ সম্পাদক এবং পলিটব্যুরোর সদস্য
২. খোকা রায় (পলিটব্যুরোর সদস্য)
৩. কৃষ্ণ বিনোদ রায় (পলিটব্যুরোর সদস্য)
৪. মণি সিংহ
৫. নেপাল নাগ
৬. মনসুর হাবিব
৭. জামালউদ্দিন বুখারী
৮. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
৯. মোহাম্মদ আতা।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই মার্চ অনুষ্ঠিত প্রতিনিধিদের বৈঠকে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করা হয়। একই সাথে পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সদস্যরা ছিলেন

১. খোকা রায়- সম্পাদক
২. মণি সিংহ
৩. নেপাল নাগ
৪. বারীন দত্ত
৫. মনসুর হাবিব
৬. কৃষ্ণ বিনোদ রায়
৭. ফনী গুহ
৮. প্রমথ ভৌমিক
৯. অবনী বাগচী
১০. মুকুল সেন
১১. মারুফ হোসেন
১২. পূর্ণেন্দু দস্তিদার
১৩. ইয়াকুব মিয়া
১৪. আব্দুল কাদের চৌধুরী
১৫. অমূল্য লাহিড়ী।

এই দল গঠনের পর, নেতাদের মধ্যে নানা রকম মত-পার্থক্যের কারণে, দলটি দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনজন কমরেডকে নিয়ে একটি অস্থায়ী প্রাদেশিক কমিটি গঠন করা হয়। এঁরা ছিলেন- ১. শেখ রওশন আলী - সম্পাদক, ২. আলতাব আলী, ৩. আব্দুল বারী (রেল শ্রমিক)।

১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক সভায় একটি নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়। সেই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন-

১. মণি সিংহ- সাধারণ সম্পাদক

সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য
২. বারীণ দত্ত
৩. নেপাল নাগ
৪. সুখেন্দু দস্তিদার
৫. খোকা রায়

সাধারণ সদস্য
৬. শেখ রওশন আলী
৭. শহীদুল্লাহ কায়সার
১০. শচীন বোস।

প্রথম কংগ্রেস (১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দ)
এই কংগ্রেসে প্রাদেশিক সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটি নির্বাচিত করা হয়। এই কমিটির নেতারা ছিলেন- ১. মণি সিংহ - সাধারণ সম্পাদক এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা ছিলেন ২. খোকা রায়, ৩. নেপাল নাগ, ৪. বারীণ দত্ত, ৫. অনিল মুখার্জী সদস্যরা ছিলেন ৬. শহীদুল্লাহ কায়সার, ৭. সুখেন্দু দস্তিদার, ৮. মোহাম্মদ তোয়াহ, ৯. আমজাদ হোসেন, ১০. অমিয় দাস, ১১. কুমার মিত্র, ১২. মোহাম্মদ ফরহাদ।

১১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সম্মেলনে মিলিত হয়ে প্রতিনিধি কমরেডগণ এই প্রাদেশিক সম্মেলনকে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেস হিসেবে ঘোষণা করেন। ‘পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি’র কেন্দ্রীয় কমিটি নির্ধারণ করেন। কমিটির নেতারা হলেন, ১. বারীণ দত্ত- সাধারণ সম্পাদক এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন- ২. খোকা রায়, ৩. অনিল মুখার্জি, ৪. মোহাম্মদ ফরহাদ সদস্যরা হলেন ৫. মণি সিংহ, ৬. জ্ঞান চক্রবর্তী, ৭. আমজাদ হোসেন, ৮. বরুণ রায়, ৯. নুরুল ইসলাম মুন্সি, ১০. মান্নান (ছদ্মনাম), ১১. হামিদ (ছদ্মনাম।

বাংলাদেশের কমুনিষ্ট পার্টি
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দলটি বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন-কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ গেরিলা বাহিনীর প্রায় ১৯ হাজার মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল। উল্লেখ্য, কমরেড মণি সিংহ মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ কমুনিস্ট পার্টি হিসেবে পরিচিতি গ্রহণ করে। বর্তমানে এই দলটির সংক্ষেপিত নাম সিপিবি।

১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সিপিবি ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তবে কোনো আসনেই জয় লাভ করতে পারে নি।

দ্বিতীয় কংগ্রেস (১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে))
এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৪-৯ ডিসেম্বর। পূর্-পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির বিচারে এটা ছিল ছিল দ্বিতীয় কংগ্রেস। কিন্তু বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির বিচারে এটা ছিল প্রথম কংগ্রেস। এই কংগ্রেসে কমরেড মণি সিংহকে সভাপতি ও কমরেড ফরহাদকে সাধারণ সম্পাদক করে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই ফেব্রুয়ারি মার্চ দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ করে। এই নির্বাচনে দলটি ৮টি আসনে অংশগ্রহণ করে, কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারে নি।

তৃতীয় কংগ্রেস (১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে)
এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৪-২৮ ফেব্রুয়ারিতে। এ সম্মেলনে কমরেড মণি সিংহকে সভাপতি ও কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদকে সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নিবার্চির করা হয়।

১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দলটি অংশগ্রহণ করে ৫টি আসন লাভ করেছিল। এদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ২৫৯,৭২৮।

চতুর্থ কংগ্রেস (১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ)
১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ ৭-১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় পার্টির চতুর্থ কংগ্রেস। এই সম্মেলনে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদকে সাধারণ সম্পাদক ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিককে সহ-সাধারণ সম্পাদক করে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কংগ্রেসের মাধ্যমেই গঠন করা হয় কন্ট্রোল কমিশন।

১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা মার্চ বাংলাদেশের লটি চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল।

পঞ্চম কংগ্রেস
১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ৩-৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম কংগ্রেস। এ কংগ্রেসে সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিককে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নাহিদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের পর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জুন সিপিবির বিশেষ জাতীয় সম্মেলন (বিশেষ কংগ্রেস) অনুষ্ঠিত হয়। এই কংগ্রেসে সহিদুল্লাহ চৌধুরীকে সভাপতি ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

দলটি  পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এ অংশগ্রহণ করে ৫টি আসন লাভ করেছিল।

ষষ্ঠ কংগ্রেস
১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে ৭-৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ কংগ্রেস। কংগ্রেসে সহিদুল্লাহ চৌধুরীকে সভাপতি ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

সপ্তম কংগ্রেস
১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ৭-৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় সিপিবির সপ্তম কংগ্রেস। কংগ্রেসে মনজুরল আহসান খানকে সভাপতি ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে।

অষ্টম কংগ্রেস
২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ৬-৯ মে অষ্টম কংগ্রেস পার্টির অষ্টম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসে পুনরায় মনজুরুল আহসান খানকে সভাপতি ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়।

নবম কংগ্রেস
২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭-৯ আগস্ট নবম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় রাজধানী মহানগর নাট্যমঞ্চে। কংগ্রেসে পুনরায় মনজুরুল আহসান খানকে সভাপতি ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়।

দশম কংগ্রেস
২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১১-১৩ অক্টোবর দশম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে। কংগ্রেসে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সভাপতি ও সৈয়দ আবু জাফর আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

একাদশ কংগ্রেস
২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৮-৩১ অক্টোবর সর্বশেষ একাদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এই কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এরপর মহানগর নাট্যমঞ্চে কংগ্রেসের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসে পুনরায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সভাপতি ও সৈয়দ আবু জাফর আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে সৈয়দ আবু জাফর আহমদ স্বাস্থ্যগত কারণে অব্যাহতি নিলে মোঃ শাহ আলম দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
 


সর্বশেষ তথ্য সংযোজন: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮।