পতিসর
বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার একটি গ্রাম। গ্রামটি আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ১৪ কি.মি পূর্ব-দক্ষিণ দিকে নাগর নদীর তীরে অবস্থিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির কালীগ্রাম পরগণার সদর দফতর ছিল।

জমিদারি দেখাশোনা উপলক্ষে পিতার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসরে প্রথম আসেন ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দ।

১৩০২ বঙ্গব্দের [১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে] অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিকে  কলকাতা থেকে তিনি উত্তর বঙ্গে আসেন। ৭ অগ্রহায়ণে ইন্দিরাদেবীকে লেখা চিঠির সূত্রে জানা যায়- রবীন্দ্রনাথ এই দিনে নৌকায় পতিসরে যাচ্ছেন। পতিসরে এসে পৌঁছেছিলেন ৯ অগ্রহায়ণে। এরপর কতদিন রবীন্দ্রনাথ পতিসরে ছিলেন এ নিয়ে বিভ্রান্তি ঘটেছে। ইন্দিরাদেবী লেখা চিঠি, রবীন্দ্রনাথের বর্ণনা, কাছারীগুলোর অর্ডার খাতা অনুসারে রবীন্দ্রনাথের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। পতিসর, সাজাতপুর, শিলাইদহ, নদীবক্ষ ইত্যাদি নিয়ে এই বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন।

১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথই পতিসরে সমবায় ভিত্তিক কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। নোবেল পুরস্কারে পাওয়া টাকার বড় অংশ জমা করেন এই ব্যাংকে।

১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জানুয়ারি পতিসরের প্রজারা রবীন্দ্রনাথকে সম্বর্ধনা দেন।
১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে পতিসরে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে এই বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জুলাই পুণ্যাহ উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ শেষবারের মত পতিসরে আসেন।