পানামা স্থলযোজক
Isthmus of Panama
পৃথিবীর একটি মহাদেশের নাম। এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ।
উত্তর
আমেরিকা ও
দক্ষিণ আমেরিকা
মহাদেশের সংযোগকারী একটি সরু ভূখণ্ড। এটি মূলত পানামা প্রজাতন্ত্রের মধ্যে অবস্থিত।
ভূ বিজ্ঞানীদের মতে- এই ভূখণ্ডটির উত্তপত্তি হয়েছিল ৩ লক্ষ খ্রিষ্টপূর্ব্দের দিকে।
ধারণা করা হয়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে এই স্থলযোজক
তৈরি হয়েছিল।
প্রথমাবস্থায়
উভয় মহাদেশের মধ্যে সাগর জলের ভিতর আগ্নেয়গিরির লাভা জমে দ্বীপমালা সৃষ্টি হয়েছিল।
পরে দ্বীপগুলো ধীরে ধীরে যুক্ত হয়ে স্থলভাগে পরিণত হয়। এছাড়া নদী ও সমুদ্রস্রোতের বহন করা পলি
দ্বীপগুলোর মধ্যবর্তী ফাঁক পূরণ করেছিল।
পূর্ব-পশ্চিম বরাবর এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ মাইল।
বিশ্ব জলবায়ুর পরিবর্তন
এই স্থলযোজকটি গঠিত হওয়ার আগে দুই মহাসাগরের পানি অবাধে মিশতে পারত। কিন্তু এটি গঠিত হওয়ার পর, উপসাগরীয় প্রবাহ
আট্লান্টিক মহাসাগর
স্রোত বাধা পেয়ে উত্তর দিকে ঘুরে যায়, যা ইউরোপের আবহাওয়াকে অনেক উষ্ণ করে তোলে।
অনেক বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই স্রোত পরিবর্তনের কারণেই উত্তর গোলার্ধে
বরফযুগের
সূচনা হয়েছিল।
স্থলযোজকটি তৈরি হওয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রাণীদের মধ্যে বিশাল বিনিময় ঘটে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আর্মাডিলো, স্লথ ও ওপোসাম উত্তর দিকে চলে যায়।
উত্তর আমেরিকা থেকে ঘোড়া, হাতি (ম্যামথ), বিড়ালজাতীয় প্রাণী এবং কুকুর দক্ষিণ দিকে পাড়ি জমায়।
এই স্থলযোজকের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটি (মাত্র ৩০ মাইল বা ৪৮ কিমি চওড়া) ব্যবহার করে ১৯১৪
খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয় পানামা খাল।
এই খাল কাটার আগে জাহাজগুলোকে আমেরিকা মহাদেশের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে হলে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত (হর্ন অন্তরীপ) ঘুরে প্রায় ১২,০০০ মাইল পাড়ি দিতে হতো। এই খালটি সেই দূরত্ব কমিয়ে মাত্র ৫,০০০ মাইল করে দিয়েছে।
এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ।
উল্লেখ্য পানামা এমন একটি জায়গা যেখানে একই দিনে আটলান্টিক মহাসাগরে সূর্যোদয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরে সূর্যাস্ত দেখা
যায়।
খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১২০০০ অব্দের দিকে আদি মানবগোষ্ঠীগুলো উত্তর আমেরিকা থেকে
দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবেশ করেছিল।