সাইবেরিয়া
Sibaria
রাশিয়ার
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এক সুবৃহৎ অঞ্চলের নাম সাইবেরিয়া। প্রশাসনিকভাবে সাইবেরিয়া শব্দটি রাশিয়ায় দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। একটি হলো ভৌগোলিক বিশাল অঞ্চল, আর অন্যটি হলো নির্দিষ্ট একটি প্রশাসনিক জেলা বা ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট।
১. সাইবেরিয়া ভৌগোলিক অঞ্চল:
সাইবেরিয়ার আয়তন প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার, যা রাশিয়ার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৭৭ শতাংশ।
এবং পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ১০ শতাংশ জুড়ে
রয়েছে এই অঞ্চল। এটি কানাডা বা পুরো ইউরোপ মহাদেশের চেয়েও বড়। এর মূল ভিত্তি হলো-
সাইবেরিয়ান ক্র্যাটন ।
ভৌগোলিক সীমানা:
- পশ্চিমে: উরাল পর্বতমালা
- পূর্বে:
প্রশান্ত মহাসাগর
- উত্তরে: উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক মহাসাগর
- দক্ষিণে: কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া এবং চীনের সীমান্ত
ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
জলবায়ু: সাইবেরিয়া এর চরমভাবাপন্ন শীতের জন্য পরিচিত। এখানে বিশ্বের শীতলতম জনপদ 'ওইমিয়াকন' অবস্থিত । যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস -৫০°C এর নিচে নেমে যায়।
খনিজ সম্পদ: এই অঞ্চলটি খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং হীরার বিশাল ভাণ্ডার।
রাশিয়ার মোট সম্পদের একটি সিংহভাগ এখান থেকে আসে।
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল: রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৮৫% এবং তেলের ৮০% আসে সাইবেরিয়া (বিশেষ করে পশ্চিম সাইবেরিয়ার টিউমেন ওব্লাস্ট) থেকে।
- কয়লা: সাইবেরিয়ার কুজনেতস্ক বেসিন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কয়লা খনি অঞ্চল। রাশিয়ার মোট কয়লার ৮০% এখানে মজুত।
- মূল্যবান ধাতু ও হীরা: রাশিয়ার পূর্ব দিকে অবস্থিত সাখা প্রজাতন্ত্রে পৃথিবীর অন্যতম সেরা হীরা উৎপাদনকারী খনিগুলো অবস্থিত। এছাড়া এখানে প্রচুর পরিমাণে সোনা, প্লাটিনাম, নিকেল এবং কপার পাওয়া যায়।
বনজ সম্পদ ও কাঠ শিল্প: সাইবেরিয়ার বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন বনাঞ্চল 'তাইগা'। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান কাঠের উৎস।
রাশিয়ার মোট বনজ সম্পদের প্রায় ৪০% সাইবেরিয়ায় অবস্থিত। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে কাঠ ও মণ্ড বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
ভারী শিল্প ও উৎপাদন:
সোভিয়েত আমল থেকেই সাইবেরিয়াকে শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল।
ধাতু শিল্প: নিকেল এবং অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে সাইবেরিয়া বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। ক্রাসনোয়ারস্ক ও ব্রাটস্ক শহরে বিশ্বের বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম শোধনাগারগুলো অবস্থিত।
জলবিদ্যুৎ: সাইবেরিয়ার শক্তিশালী নদীগুলো (যেমন: ইয়েনিসেই ও আঙ্গারা) ব্যবহার করে বিশাল বিশাল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভারী শিল্পকে সস্তায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
কৃষি :
যদিও সাইবেরিয়ার উত্তরাংশ চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত, তবে এর দক্ষিণাঞ্চল কৃষি ক্ষেত্রে বেশ উন্নত।
দক্ষিণ সাইবেরিয়ায় প্রচুর পরিমাণে গম, বার্লি, ওটস এবং রাই চাষ হয়।
পশুপালন: এই অঞ্চলে গরু এবং ঘোড়া পালন করা হয়। উত্তরের তুন্দ্রা অঞ্চলে হরিণ পালন স্থানীয় অর্থনীতির বড় অংশ।
উল্লেখযোগ্য প্রাণী: সাইবেরিয়ার প্রাণীরা সাধারণত ঘন পশম এবং চর্বির স্তরের অধিকারী হয় যাতে তারা হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে।
এই জাতীয় উল্লেখযোগ্য প্রাণীগুলো হলো-
(Siberian Tiger/Amur Tiger): এটি বিশ্বের বৃহত্তম বিড়াল প্রজাতির বাঘ। বর্তমানে এরা মূলত সাইবেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে বাস করে।
সাইবেরিয়ান হাস্কি
(Siberian Husky):
এই বিখ্যাত কুকুরগুলো মূলত সাইবেরিয়ার চুকচি উপজাতিরা স্লেজ টানার জন্য ব্যবহার করত।
রেইনডিয়ার
(Reindeer): সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আদিবাসীদের জীবনের প্রধান উৎস হলো রেইনডিয়ার। এরা প্রচণ্ড ঠান্ডায় তুষারের ওপর দিয়ে অনায়াসে চলতে পারে।
বাদামী ভাল্লুক
(Brown Bear): সাইবেরিয়ার তাইগা বনাঞ্চলে প্রচুর বাদামী ভাল্লুক দেখা যায়।
সাইবেরিয়ান সারস
(Siberian Crane): এই তুষার-সাদা পাখিগুলো শীতকালে ভারত ও বাংলাদেশে পরিযায়ী পাখি হিসেবে আসত (বর্তমানে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম)।
সেবল
(Sable): এর মূল্যবান ঘন পশমের জন্য এটি সারা বিশ্বে পরিচিত। একসময় একে 'সোনালী পশম' বলা হতো।
উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ: সাইবেরিয়ার
উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ পাওয়া যায় তাইগা বনাঞ্চলে।
- কনিফার বা সরলবর্গীয় বৃক্ষ: সাইবেরিয়ার বেশিরভাগ বন পাইন, স্প্রুস এবং ফার গাছে ঢাকা। এদের সরু পাতা এবং মোচাকৃতি গঠন তুষারপাত সহ্য করতে সাহায্য করে।
- সাইবেরিয়ান লার্চ
(Siberian Larch):
এটি একটি বিশেষ ধরনের গাছ যা প্রচণ্ড ঠান্ডায় বেঁচে থাকতে পারে এবং শীতকালে এর পাতা ঝরিয়ে দেয়। এর কাঠ অত্যন্ত শক্ত এবং পচনরোধী।
- বার্চ গাছ
(Birch Tree): রাশিয়ার জাতীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই সাদা ছালের গাছটি সাইবেরিয়ার ল্যান্ডস্কেপের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- মস এবং লাইকেন
(Mosses and Lichens): তুন্দ্রা অঞ্চলে যেখানে বড় কোনো গাছ জন্মানো সম্ভব নয়, সেখানে মাটির ওপর এই ছোট ছোট উদ্ভিদগুলো জন্মায়। এগুলো রেইনডিয়ারের প্রধান খাবার।
সাইবেরিয়ার নদী: সাইবেরিয়ার বিশাল ভূখণ্ড বিশ্বের কিছু
বড়বড় নদী রয়েছে। সাইবেরিয়ার নদীগুলোতে শীতকালে বরফের স্তর এতটাই পুরু হয় যে মানুষ সেখানে বরফ কেটে মাছ ধরে এবং নদীকেই মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহার করে যাতায়াত করে। একে বলা হয় 'উইন্টার রোডস' (Winter Roads)।
এখানকার নদীগুলো মূলত দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে উত্তর মহাসাগরে
পতিত হয়েছে। সাইবেরিয়ার প্রধান তিনটি নদী ব্যবস্থাকে একত্রে "গ্রেট সাইবেরিয়ান রিভার্স" বলা হয়।
এগুলো হলো-
- ওব নদী
(Ob River): এটি পশ্চিম সাইবেরিয়ার প্রধান নদী। এর প্রধান শাখা নদী হলো ইর্তিশ। এটি তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- ইয়েনিসেই নদী
(Yenisei River): এটি সাইবেরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী নদী। এটি মঙ্গোলিয়া থেকে শুরু হয়ে উত্তর মহাসাগরে গিয়ে মেশে। এর ওপর রাশিয়ার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অবস্থিত।
- লেনা নদী
(Lena River):
এটি পূর্ব সাইবেরিয়ার প্রধান নদী। লেনা নদীর মোহনায় একটি বিশাল ব-দ্বীপ রয়েছে, যা সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। এটি সম্পূর্ণ রাশিয়ার সীমানার ভেতরে থাকা দীর্ঘতম নদী।
সাইবেরিয়ার হ্রদ: সাইবেরিয়ায় বেশ
কিছু হ্রদ রয়েছে। এগুলো হলো-
- বৈকাল হ্রদ (Lake Baikal): এটি কেবল সাইবেরিয়ার নয়, বরং পৃথিবীর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক বিস্ময়।
বৈকাল হলো বিশ্বের গভীরতম হ্রদ (গভীরতা প্রায় ১,৬৪২ মিটার)।
পৃথিবীর উপরিভাগের মোট স্বাদু পানির প্রায় ২০% এই একটি হ্রদেই জমা আছে।
এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম হ্রদ (প্রায় ২,৫-৩ লক্ষ বছর পুরনো)।
এর অনন্য জীববৈচিত্র্যের জন্য এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- তাইমির হ্রদ (Lake Taymyr) এটি রাশিয়ার ক্রাসনোয়ারস্ক ক্রাই অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি সুদূর উত্তরের বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।
এটি বছরের প্রায় ৯ মাসই বরফে ঢাকা থাকে।এখানে প্রচুর পরিমাণে আর্কটিক অঞ্চলের মাছ (যেমন: চার, সিগ) পাওয়া যায়।
- চানি হ্রদ (Lake Chany): এটি পশ্চিম সাইবেরিয়ার নোভোসিবিরস্ক অঞ্চলে অবস্থিত একটি অগভীর কিন্তু বিশাল লোনা পানির হ্রদ।
এটি সাইবেরিয়ার স্থানীয় মৎস্য শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্র।
এখানে কয়েকশ প্রজাতির পাখি বাস করে, যা প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
- উবসু-নূর (Uvs Nuur) এটি মূলত মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার (তুভা প্রজাতন্ত্র) সীমান্তে অবস্থিত।
এই হ্রদটি এক অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে যেখানে একদিকে মরুভূমি এবং অন্যদিকে তুষারাবৃত পাহাড় দেখা যায়।
এটি একটি অত্যন্ত লবণাক্ত হ্রদ এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অংশ।
- তেলিতস্কয় হ্রদ (Lake Teletskoye): আলতাই পর্বতমালায় অবস্থিত এই হ্রদটিকে প্রায়ই "ছোট বৈকাল" বলা হয়।
এটি রাশিয়ার অন্যতম সুন্দর হ্রদ হিসেবে পরিচিত। এর স্বচ্ছ পানি এবং চারপাশের উঁচু পাহাড় পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
এটি সাইবেরিয়ার অন্যতম গভীর হ্রদ (প্রায় ৩২৫ মিটার)।
- থার্মোকার্স্ট হ্রদ
(Thermokarst Lakes):
সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে (বিশেষ করে ইয়াকুতিয়া অঞ্চলে) হাজার হাজার ছোট ছোট হ্রদ দেখা যায়- যেগুলোকে 'থার্মোকার্স্ট হ্রদ' বলা হয়।
চিরস্থায়ী বরফ গলে গিয়ে নিচু জায়গায় পানি জমে এই হ্রদগুলো তৈরি হয়।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের হ্রদের সংখ্যা বাড়ছে, যা থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রভাব ফেলছে।
সাইবেরিয়ার জলাভূমি: হ্রদের পাশাপাশি সাইবেরিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম জলাভূমি— ভাস্যুগান জলাভূমি
(Vasyugan Swamp)। এটি পশ্চিম সাইবেরিয়ায় অবস্থিত এবং আয়তনে সুইজারল্যান্ডের চেয়েও বড়! এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান কার্বন শোষণকারী অঞ্চল হিসেবে কাজ করে।
২. সাইবেরিয়ান ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট
(Siberian Federal District)
রাশিয়া বর্তমানে ৮টি প্রধান ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে বিভক্ত। এর মধ্যে সাইবেরিয়ান ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট হলো মূল প্রশাসনিক ইউনিট, যার সদর দপ্তর বা প্রশাসনিক কেন্দ্র হলো নভোসিবির্স্ক
(Novosibirsk)।
প্রতিটি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টের প্রধান হিসেবে একজন 'প্রেসিডেন্সিয়াল এনভয়'
(Presidential Envoy) থাকেন, যাকে সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেন। তিনি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে আঞ্চলিক সরকারগুলোর সমন্বয় করেন।
এই ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত প্রধান অঞ্চলগুলো হলো-
- রিপাবলিকসমূহ: আলতাই প্রজাতন্ত্র, তুভা প্রজাতন্ত্র, খাকাসিয়া।
- ক্রাই : আলতাই ক্রাই, ক্রাসনোয়ারস্ক ক্রাই।
- ওব্লাস্ট : ইরকুটস্ক, কেমেরোভো, নভোসিবির্স্ক, ওমস্ক, তোমস্ক।
সাইবেরিয়ায় হোমো গণের
প্রাণীর আবির্ভাব
সাইবেরিয়ায় মানুষের প্রথম বসতি স্থাপনের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন এবং বৈচিত্র্যময়। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী, এটিই সেই অঞ্চল যেখান থেকে মানুষ প্রথম আমেরিকা মহাদেশে পা রেখেছিল।
কালের বিচারে একে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- আদি প্রস্তর যুগ: বিজ্ঞানীদের মতে, সাইবেরিয়ায় মানুষের বসবাস শুরু হয়েছিল কয়েক লক্ষ বছর আগে।
-
হোমো ইরেক্টাস: প্রায় ৮ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ বছর আগে আদি মানুষ (হোমো ইরেক্টাস) সাইবেরিয়ার আলতাই অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
-
ডেনিসোভান মানব: সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালার ডেনিসোভা গুহায় এক বিশেষ প্রজাতির আদি মানুষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যারা নিয়ান্ডারথালদের সমসাময়িক ছিল। প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার বছর আগে তারা এখানে বাস করত।
- আধুনিক মানুষের আগমন: প্রায় ৪৫,০০০
খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে আধুনিক মানুষ
সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া শুরু করে।
ওমস্ক অঞ্চলে পাওয়া একটি মানুষের হাড়
(Ust'-Ishim man)
প্রমাণ করে যে ৪৫ হাজার বছর আগে সেখানে আধুনিক মানুষের বসতি ছিল।
চরম ঠান্ডায় টিকে থাকার কৌশল
শিখে গিয়েছিল। প্রায় ৩০,০০০ বছর আগে যখন তীব্র তুষারপাত
শুরু হয়
(LGM - Last Glacial Maximum), তখন
মানুষ সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তর-পূর্ব সাইবেরিয়ার ইয়ানা নদীর তীরে প্রায় ২৭,০০০ থেকে ৩০,০০০
খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে শিকারিরা
বসতি স্থাপন করেছিলম এমন নমুনা পাওয়া গেছে। এটিই ছিল সেই সময়ে মানুষের
সবচেয়ে উত্তর দিকের বসতি। এরা মূলত ম্যামথ,
রেইনডিয়ার এবং গণ্ডার শিকার করে জীবনধারণ করত। হাড় ও পাথর দিয়ে তারা শক্তিশালী
অস্ত্র তৈরি করতে শিখেছিল।
বৈকাল হ্রদের কাছে অবস্থিত মাল'তা এবং বুরেত স্থানে প্রায় ২৪,০০০ বছর আগের বিশেষ 'ভেনাস মূর্তি' এবং মজবুত ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
প্রায় ৫,০০০ বছর আগে, আফনাসেভো ও আন্দ্রোনোভো
অঞ্চল তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের উন্নত সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
৩০,০০০
খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে একদল মানুষ বেরিং স্থলসংযোগ পার হয়ে
মানুষ আমেরিকায় পৌঁছেছিল। এরই ছিল আমেরিকা মহাদেশের আদিবাসী।