অঞ্চলটি গঠন করেছে।
১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড সুয়েস উত্তর গোলার্ধের এই প্রাচীন ভূখণ্ডের নাম দেন 'আঙ্গারাল্যান্ড' বা সংক্ষেপে 'আঙ্গারা'।
মহা-মহাদেশের টাইমলাইন ও সাইবেরিয়ার অবস্থান
- আর্কটিকা (প্রায় ২৫০ কোটি বছর আগে): এটি কানাডিয়ান শিল্ড, সাইবেরিয়ান ক্র্যাটন এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গঠিত ছিল।
- কলম্বিয়া বা নুনা (প্রায় ২১০ থেকে ১৮০ কোটি বছর আগে): লরেনশিয়া ও বাল্টিকার সাথে সাইবেরিয়া যুক্ত ছিল।
- রোডিনিয়া (প্রায় ১১০ থেকে ৭৫ কোটি বছর আগে): এই মহা-মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সাইবেরিয়া। প্রায় ৭৫ কোটি বছর আগে এর ভাঙন শুরু হয়।
- প্যানোটিয়া (প্রায় ৬৩ থেকে ৫৭ কোটি বছর আগে): এটি একটি স্বল্পস্থায়ী মহা-মহাদেশ ছিল। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন এটি পূর্ণতা পাওয়ার আগেই ভেঙে গিয়েছিল।
- বিভাজন (প্রায় ৫৪ থেকে ৪৮ কোটি বছর আগে): প্যানোটিয়া ভেঙে যাওয়ার পর লরেনশিয়া, বাল্টিকা, সাইবেরিয়া এবং গণ্ডোয়ানা আলাদা হয়ে যায়।
- কার্বোনিফেরাস যুগ (প্রায় ৩৬ থেকে ৩০ কোটি বছর আগে): সাইবেরিয়ান ক্র্যাটন 'কাজাখস্তানিয়া' নামক ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়।
- প্যাঙ্গিয়া (প্রায় ৩৩ থেকে ২০ কোটি বছর আগে): পৃথিবীর সব ভূখণ্ড মিলে যখন 'প্যাঙ্গিয়া' গঠিত হয়, তখন প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে সাইবেরিয়া ও বাল্টিকার সংঘর্ষ ঘটে।
সাইবেরিয়ান ট্র্যাপস: এই সংঘর্ষের ফলে বিশাল অগ্নুৎপাত ঘটে যা 'সাইবেরিয়ান ট্র্যাপস' নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণবিলুপ্তি (Great Dying) ঘটিয়েছিল।
- জুরাসিক যুগ (প্রায় ২০ থেকে ১৪ কোটি বছর আগে): প্যাঙ্গিয়া ভাঙতে শুরু করলে সাইবেরিয়া 'লরেশিয়া'র অংশে থেকে যায়।
- ক্রিটেশিয়াস যুগ (প্রায় ১৪ থেকে ৬ কোটি বছর আগে): সাইবেরিয়া লরেশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বর্তমান ইউরেশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, আজ থেকে প্রায় ২৫ কোটি বছর পর সাইবেরিয়া বিষুবরেখার কাছে চলে আসতে পারে এবং 'প্যাঙ্গিয়া আলটিমা' নামক নতুন মহা-মহাদেশের অংশ হবে।
গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ও ভূপ্রকৃতি
উরাল পর্বতমালা: প্রায় ৩০ থেকে ২৫ কোটি বছর আগে বাল্টিকা (পূর্ব ইউরোপ) এবং সাইবেরিয়ান ক্র্যাটনের সংঘর্ষের ফলে এই দীর্ঘ পর্বতমালাটি তৈরি হয়। এটিই এশিয়া ও ইউরোপের সীমানা হিসেবে পরিচিত।
প্রায় ২৫ কোটি বছর আগের সেই বিশাল লাভা প্রবাহে সাইবেরিয়ার প্রায় ২০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঢেকে গিয়েছিল, যা আজও ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।