সমরকন্দ
মধ্য
উজবেকিস্তানের সমরকন্দ প্রদেশের রাজধানী। খ্রিষ্টাব্দে
ইউনেস্কো ২,৭৫০ বছর পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে
মর্যাদা দিয়েছে।
এই শহরের নাম এসেছে দুটি ভাষার দুটি শব্দের সংমিশ্রণে। প্রাচীন ফারসি ভাষার আসমারা (পাথর বা পাষাণ), আর সোজিয়ান ভাষার কন্দ (কেল্লা বা শহর) থেকে সৃষ্টি হয়েছিল সমরকন্দ। সব মিলিয়ে এর অর্থ দাঁড়ায়
পাথরের কেল্লা বা পাথরের শহর। উজবেক
ভাষায় এর নাম Samarqand/Самарқанд
(সামার্কান্দ্),
তাজিক ভাষায় Самарқанд
স্যাম্যার্কান্দ।
ফারসি ভাষায় سمرقند স্যাম্যার্গ্যান্দ্।
রুশ ভাষায় Самарканд
সামার্কান্দ্।
যতদূর জানা যায় খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দের পূর্বেই সমরকন্দে জনবসতি গড়ে উঠেছিল। সে
সময়ে চীন থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত যে বাণিজ্যপথ (সিল্ক রোড) সৃষ্টি হয়েছিল। সেই
পথের মধ্যে এই জনবসতি থাকায়, একটি সাধারণ জনবসতি একটি সমৃদ্ধ নগরে পরিণত হয়েছিল।
খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে এই শহরটিকে প্রাচীন পারশ্যের সোঘদিয়ানা প্রদেশের রাজধানী করা হয়। এই সময় গ্রিকদের কাছে এই শহরটির নাম ছিল মারাকান্দা।
এই সময় গ্রিকদের কাছে এই শহরটির নাম ছিল মারাকান্দা। মহাবীর
আলেকজান্ডার, ৩২৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে শহরটি
জয় করেন। এই সময় এই শহরটি চীন ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত
হয়। খ্রিষ্টীয় ৮ম শতকের শুরুর দিকে শরহটি আরবদের মুসলিম শাসকদের অধিকারে আসে। ফলে এখানে ইসলামি
সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে এবং কালক্রমে একটি ইসলামি মধ্য এশিয়ার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
১২২০ খ্রিষ্টাব্দে
চেঙ্গিশ খান শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন।
১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে
চেঙ্গিশ খানের মৃত্যুর পর মঙ্গোলিয়ার তত্ত্বাবধায়ক শাসক হিসেবে
অধিষ্ঠিত হন
তোলুই খান
ছিলেন।
এই সূত্রে সমরকন্দ মোঙ্গলীয় শাসনের অধীনেই থেকে। এরপর বংশপরম্পরায় এই নগরীর অধিকারে
রেখেছিল
কুবলাই খান
(১১৬২-১২৬৭ খ্রিষ্টাব্দ)
ও
হালাকু খান
(১২১৮ – ১২৬৫
খ্রিষ্টাব্দ)
১৩৭০ খ্রিষ্টাব্দে
তৈমুর লং
সমরকন্দকে তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী বানান। এই সময়ে শহরটির আবার উন্নতি শুরু হয়।
১৫শ শতক তৈমুরের সাম্রাজ্যের পতন শুরু হলে, উজবেকরা শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং
১৪৯৯ খ্রিষ্টাব্দে উজবেকরা শহরটি দখল করে। এই সময় এটি উজবেক শাসকদের রাজধানীতে
পরিণত হয়। উজবেক শাসকেরা ১৬শ শতকে তাদের রাজধানী বোখারায় সরিয়ে নিলে সমরকন্দের
গুরুত্ব কমে যায়। ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সমরকন্দ বোখারা-শাসকের অধীনে চলে আসে। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়া এই শহরটি দখল করে।
এই সময় থেকে নগরীটি আবার
গুরুত্ব পেতে শুরু করে।