মন্টেভিডিও
স্প্যানিশ Montevideo
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত উরুগুয়-এর রাজধানী। এবং রাজধানী, প্রধান বন্দর এবং অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র।

নামকরণ:
Montevideo নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। প্রচলিত একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্প্যানিশ নাবিকেরা উপকূলের একটি পাহাড় দেখেৰ “Monte VI de Este a Oeste” (পূর্ব থেকে পশ্চিমে ষষ্ঠ পাহাড়) কথাটি ব্যবহার করেছিলেন, যা পরে মন্টেভিডিও নামে পরিচিত হয়।

ভৌগোলিক অবস্থান:
দক্ষিণ উরুগুয়ে, রিও দে লা প্লাতার উত্তর তীরে অবস্থিত।
ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক: আয়তন: ৫৩০ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা: মহানগর এলাকাসহ প্রায় ২০ লক্ষের বেশি
ভাষা: স্প্যানিশ।

ইতিহাস: মন্টেভিডিও শহরের প্রতিষ্ঠা ১৭২৬ খ্রিষ্টাব্দে। বুয়েনোস আইরেস
-এর স্পেনীয় গভর্নর ব্রুনো মরিসিও দে সাবালা (Bruno Mauricio de Zabala) এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নিকটবর্তী ব্রাজিল থেকে পর্তুগিজদের দক্ষিণমুখী বিস্তার ও আধিপত্য প্রতিহত করা এবং রিও দে লা প্লাতা অঞ্চলে স্পেনের অবস্থান শক্তিশালী করা। ১৮শ ও ১৯শ শতকের শুরুতে মন্টেভিডিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পেনপর্তুগালের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একাধিকবার শহরটির কর্তৃত্ব পরিবর্তিত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য পর্তুগিজ ও পরে ব্রাজিলীয় প্রভাবও প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯শ শতকের প্রথমার্ধে দক্ষিণ আমেরিকায় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মন্টেভিডিও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পর মন্টেভিডিও চুক্তি অনুসারে ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে উরুগুয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। উরুগুয়ে তখন আর্জেন্টিনাব্রাজিল -এর মধ্যে একটি বাফার রাষ্ট্র (নিরপেক্ষ রাষ্ট্র) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং মন্টেভিডিও হয় এর রাজধানী। স্বাধীনতার পর মন্টেভিডিও দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরীতে পরিণত হয়। রিও দে লা প্লাতার উপকূলে এর কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে সহায়তা করে। ১৯শ শতকের শেষভাগ ও ২০শ শতকের প্রথমভাগে ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী, বিশেষ করে 

স্পেনইতালি থেকে আগত মানুষ, মন্টেভিডিওতে বসতি স্থাপন করেন। তাঁদের আগমনে শহরের সংস্কৃতি, ভাষা, স্থাপত্য ও সামাজিক জীবনে ইউরোপীয় প্রভাব গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।