সরস্বতী-বীণা
ঊর্ধ্বক্রমবাচকতা
{ততযন্ত্র |
বাদ্যযন্ত্র |
ডিভাইস |
যন্ত্র |
যন্ত্রীকরণ |
মনুষ্য-সৃষ্টি |
এককঅংশ |
দৈহিক-লক্ষ্যবস্তু |
দৈহিক সত্তা |
সত্তা | }
প্রাচীন ভারতীয় ঘাত ততযন্ত্র বিশেষ। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে- কাব্যকলার দেবী
সরস্বতী। এই দেবীর মূর্তির সাথে যে বীণা নামক যন্ত্রটি দেখা যায়, তার আদলে সৃষ্ট বীণাই সরস্বতী বীণা নামে অভিহিত করা হয়। ধারণা করা হয় এটি প্রাচীন ভারতের কিন্নরী বীণা বিবর্তিত রূপ।
এই বীণাটিকে অনেক সময় রঘুনাথ বীণা নামেও অভিহিত করা হয়। এই যন্ত্রটি দক্ষিণ ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পীরা, তাঁদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সর্বাধিক ব্যবহার করে থাকেন।
এর মূল কাঠের কাঠামোটি তৈরি করা হয় কাঁঠাল কাঠ দিয়ে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ ফুট। এর ভিতরে একটি ধ্বনিরঞ্জক ফাঁপা অংশ থাকে। এতে থাকে গোলাপ কাঠের তৈরি ফাঁপা সরু-নল। এতে ২৪টি ছিদ্র থাকে। এই ২৪টি স্থানে ২৪টি কাঁসা বা পিতলের ঘাট থাকে। এই ঘাট নড়ানো যায় না। এই কারণে একে অচল ঠাটের যন্ত্র বলা হয়।
এতে
২×২×২ ইঞ্চি মাপের ছোটো কাঠের ব্রিজ থাকে। এগুলো একটি উতল পিতলের পাতের উপর আটকানো
থাকে। এতে মোট ৭টি ইস্পাতের তার ব্যবহার করা হয়। এর ভিতরে প্রধান তার থাকে ৪টি এবং
চিকারীর তার থাকে ৩টি। একেবারে বামদিকের প্রধান একটি তার বেশি মোটা থাকে। এর মাথার অংশ কাঠের তৈরি
হংসমুণ্ডুর মূর্তি থাকে।
বাদনকালে বাদক সুখাসনে
বসে শরীর থেকে দূরে রেখে বাজিয়ে থাকেন ।
এর প্রধান তার বাজানো হয় মধ্যমা ও তর্জনীর সাহায্যে।
আর চিকারির তার বাজানো হয় কনিষ্ঠা আঙুল দিয়ে।
এ যন্ত্রটি একক বাদনে ব্যবহৃত হয়। কখনো কখনো সহযোগী বাদয্যন্ত্র হিসেবেও ব্যয়হৃত হয়।
উত্তর ভারতে এই যন্ত্রের ব্যবহার দেখা যাব
না। দক্ষিণ ভারতে এর ব্যবহার আছে। এইযন্ত্রের উল্লেখযোগ্য বাদরা হলেন- বীণা ধনম্মল,
জয়ন্তী কুমারেশ, পূণ্যশ্রীনিবাস, রাজেশ বৈদ্য প্রমূখ।