অঙ্গ
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে এই নামে একাধিক চরিত্র পাওয়া যায়। যেমন-
১. হিন্দু পুরাণসমূহের মতে- অঙ্গ নামে একজন প্রাচীন রাজর্ষি ছিলেন। অধিকাংশ পুরাণে বলা হয়েছে- স্বায়ম্ভব মনুর বংশের উল্মুকে ঔরসে পুষ্করিণী গর্ভে অঙ্গ জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

[বায়ু পুরাণ: ৬২, ৭৪, ৯২-৯৩, ১০৭]
[বিষ্ণু পুরাণ: ১.১৩.৬]
[মৎস্য পুরাণ: ৪.৪৪, ১০.৩.৪]
[পদ্ম পুরাণ: ২৮.১৯-২২]

২. জনৈক রাজর্ষি। ভাগবত পুরাণের মতে [৪.১৩, ১৭--১৮, ২৪-৪৯] একবার অঙ্গ একটি অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। সেই যঞ্জের আহুতি দেবতার গ্রহণ করতে ব্যর্থ হন। পুরোহিতরা এর কারণ জানার জন্য একটি সভা আহ্বান করেন।  কোনো কারণ না পেয়ে- ঋষিরা মত দেন যেন- পূর্বকৃত পাপের কারণে তিনি অপুত্রক রয়েছেন। পুত্রলাভের পর, যজ্ঞ করলে দেবতারা আহুতি গ্রহণ করবেন। পরে তিনি বিষ্ণুর আরধনা করে পুত্র লাভ করেছিলেন।

পদ্মপুরাণের [ভূমি, ৩২.২২-৭৫]  মতে -  বিষ্ণুর পরম ভক্ত অঙ্গ পুত্র লাভের আশায় সুমেরু পর্বতে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। বিষ্ণু নানা চেষ্টা করে তাঁর তপস্যা ভঙ্গ করতে না পেরে, অবশেষে তাঁকে দেখা দেন। এই সময়, তপস্যার কারণে তাঁর দেহ ক্ষীণ দশায় পৌঁছেছিল। বিষ্ণুর কাছে তিনি একটি ইন্দ্রতুল্য পুত্রের বর চাইলেন। বিষ্ণু সে প্রার্থনা মঞ্জুর করে- তাঁকে একটি পুণ্যবতী কন্যাকে বিবাহের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

মৃত্যুর কন্যা সুনীথাকে অঙ্গ বিবাহ করেছিলেন। এই স্ত্রীর গর্ভে তাঁর বেণ নামক এক পুত্রের জন্ম হয়।
উক্ত পুত্রের দৌরাত্মে অতীষ্ট হয়ে- ইনি বিষয়বিবাগী হয়ে গৃহত্যাগ করেছিলেন। তিনি বিষ্ণুর আরাধনা করেই অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।

মৎস্য পুরাণ মতে [৪.৪৫]- বেণের পৌত্র ছিলেন পৃথু। এই পৃথুর ঔরসে বিষণার গর্ভে যে পুত্রের জন্ম হয়েছিল- তাঁর নাম ছিল অঙ্গ।

৩. দেবীভাগবত পুরাণ মতে- [১০.৯.১০২] ষষ্ঠ মন্বান্তরে  অধিপতি চাক্ষুষ মনুর পিতার নাম ছিল অঙ্গ।
৪. মহাভারতের অনুশাসন পর্বে [১৩.১৫৪.১.৬] বর্ণিত জনৈক রাজর্ষি। তিনি একবার ব্রাহ্মণদের দক্ষিণা হিসেবে পৃথিবীকে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই কারণে পৃথিবী ভীত হয়ে তাঁর সত্ত ত্যাগ করে ব্রহ্মলোকে চলে যান। সে সময়ে প্রজাপতি কশ্যপ ত্রিশ হাজার বছর পৃথিবীর রূপ ধরে ছিলেন।

৫. মহাভারতের অনুশাসন পর্বে [১৩.১৪৭.২৩] বর্ণনা মতে- বিষ্ণু জগতের কল্যাণের জন্য
স্বায়ম্ভুব মনুর পুত্র হিসেবে অঙ্গ নামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

. মহভারত। চতুরধিকশততম অধ্যায়। ক্ষেৎত্রজ পুৎত্রোৎপাদনের বিবিধ দৃষ্টান্ত। দীর্ঘতমা ঋষির জন্মবৃত্তান্ত। স্ত্রীজাতির প্রতি দীর্ঘতমার শাপ। অঙ্গরাজাদির জন্ম-বর্ণন

মহাভারতে উল্লেখ আছে যে, বলি রাজের অনুরোধে ঋষি দীর্ঘতমা মহিষী সুদেষ্ণার গর্ভে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। এই পাঁচটি সন্তান হলেন−অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র ও সুহ্ম। বলি রাজা তাঁর রাজত্বকে এই পাঁচজন ক্ষেত্রজ পুত্রকে পাঁচটি অঞ্চল শাসনের অধিকার প্রদান করেন। এই পুত্রদের নামে রাজ্যগুলোর নাম হয়েছিল অঙ্গদেশ (অঙ্গ মহাজনপদ), বঙ্গদেশ, কলিঙ্গদেশ, পুণ্ড্রদেশ ও সুহ্মদেশ।

৭. মৎস্য পুরাণ মতে- [৪৮.১০২] বলির পুত্রের নাম ছিল অঙ্গ। এর বংশধারায় জন্মজেয়ের পুত্রের নাম রাখা হয়েছিল অঙ্গ। ধারণা করা হয়, এই অঙ্গ কর্ণকে পুত্ররূপে গ্রহণ করেছিলেন।