অঙ্গ
জনপদ
[অভিধান
অঙ্গ]
খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকের প্রাচীন ভারতের ষোড়শ মহাজনপদের একটি অন্যতম জনপদ।
বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুর ও মুঙ্গের জেলায় এই মহাজনপদ গঠিত হয়েছিল।
ঋগ্বেদ
অঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায় না। অথর্ববেদে অঙ্গবাসীদের ব্রাত্য জাতি নামে অভিহিত করা
হয়েছে। এ সময় অঙ্গবাসীরা শোণ ও গঙ্গা নদীর অববাহিকায় বসবাস করতো।
পাণিনি অঙ্গ দেশকে বঙ্গ, কলিঙ্গ ও পুণ্ডেরকে ভারতের মধ্যদেশের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে
উল্লেখ করেছেন।
খ্রিষ্টাপূর্ব ৫০০ অব্দের ভিতরে রচিত হয়েছিল লোককাহিনি ও পৌরাণিক
উপাখ্যানের সমন্বয়ে মহাকাব্য 'রামায়ণ'। রামায়ণে কথিত হয়েছে যে
[১.২৪.১৩-১৪], বিশ্বামিত্র মুনি রামচন্দ্রকে একটি স্থান নির্দেশ করে বলেছিলেন
যে,
কামদেব
মহাদেবের ক্রোধে এইস্থানেই অঙ্গ পরিত্যাগ করিয়া
অনঙ্গ নামপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। সেখান থেকে এই রাজ্যের নামকরণ করা হয়েছিল অঙ্গ। রাজা দশরথের অন্তরঙ্গ মিত্র ছিলেন অঙ্গরাজ লোমপদ। তিনি ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির
সাহায্যে যজ্ঞানুষ্ঠান করেন ও নিজকন্যা শান্তার সহিত মুনির বিবাহ দেন।
গৌতমবুদ্ধের (জন্ম: ৫৬৭-৫৬৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ, মৃত্যু ৪৮৭-৪৮৩
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) আবির্ভাবের পূর্বে অঙ্গুত্তর নিকায়ে প্রাপ্ত তালিকায় প্রাচীন ভারতের ষোলটি মহাজনপদের মধ্যে
'অঙ্গ'-এর
উল্লেখ রয়েছে। মহাপরিনিব্বান সূত্ত থেকে জানা যায়- অঙ্গদেশে আশি হাজার গ্রাম ছিল।
এর দুটি প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রের নাম ছিল- আপণ ও অশ্বপুর।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দের দিকে মহাভারতে উল্লেখ আছে যে,
বলি
রাজের অনুরোধে ঋষি
দীর্ঘতমা মহিষী সুদেষ্ণার
গর্ভে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।
এই পাঁচটি সন্তান হলেন−অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র ও সুহ্ম।
বলি
রাজা তাঁর রাজত্বকে এই পাঁচজন ক্ষেত্রজ পুত্রকে পাঁচটি অঞ্চল শাসনের অধিকার প্রদান
করেন। এই পুত্রদের নামে রাজ্যগুলোর নাম হয়েছিল অঙ্গদেশ, বঙ্গদেশ, কলিঙ্গদেশ,
পুণ্ড্রদেশ ও সুহ্মদেশ।
গৌতমবুদ্ধের গৃহত্যাগের সময়ে অঙ্গরাজ্য
মগধের অন্তর্ভুক্ত
ছিল। এই সময়
বিম্বিসার ছিলেন অঙ্গ-মগধের রাজা। অজাতশত্রু যুবরাজ অবস্থায় অঙ্গের শাসনকর্তা ছিলেন।
গৌতমবুদ্ধ ও
মহাবীরেরর
জীবনের একাধিক ঘটনার সহিত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় চম্পা উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই
পুণ্যতীর্থস্থান।
মহাভারতে বলা হয়েছে- দুর্যোধন
কর্ণকে অঙ্গরাজ্যের অধিপতি করেছিলেন।
এই রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল চম্পা (চম্পাপুরী, চম্পানগরী)।
বর্তমান
ভারতের ভাগলপুরের সন্নিকটে এই নগরীর ধ্বাংসবশেষ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
এর উত্তরের সর্ব-পশ্চিম সীমানায় ছিল গঙ্গা ও সরজু নদীর মিলনস্থল। চম্পা নদী পূর্বে অঙ্গ ও পশ্চিমে মগধের মধ্যে সীমানা। চম্পা নদী ও গঙ্গার মিলনস্থলের গঙ্গার ডান তীরে অবস্থিত চম্পানগরীই ছিল প্রাচীন অঙ্গ-এর রাজধানী। দীর্ঘ নিকায়ে ভারতের ছয়টি প্রধান নগরের মধ্যে চম্পাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সে সময়কার
চম্পা নগরী ছিল সমৃদ্ধশালী বাণিজ্য কেন্দ্র।
হরি বংশের মতে- [১.৩১.৪৯] অঙ্গদেশের রাজধানীর নাম ছিল মালিনী। অঙ্গ রাজার বংশজাত
চম্প রাজার নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছিল চম্পা।
প্রাচীন ভারতের শিল্পসমৃদ্ধ এবং
বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল।
খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে ও সপ্তম শতাব্দীতে ভারতভ্রমণকালে
চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন চম্পা বা চান্-পোতে এসেছিলেন।