রেকর্ড
[রেকর্ড অভিধান]
[রেকর্ডের ইতিহাস]
[ভারতবর্ষে রেকর্ডের ইতিহাস ]

বলতে ভবিষ্যতে ব্যবহার, সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে তথ্য, উপাত্ত, শব্দ কিংবা চিত্রকে স্থায়ীভাবে ধারণ করে রাখার মাধ্যমকে বোঝায়। সাধারণ অর্থে রেকর্ড বলতে যে কোনো সংরক্ষিত তথ্যকে বোঝালেও শব্দপ্রযুক্তি ও সঙ্গীতের ক্ষেত্রে রেকর্ড বলতে মূলত এমন একটি মাধ্যমকে বোঝায়, যাতে শব্দ ধারণ করে পরবর্তীকালে তা পুনরায় শ্রবণ করা যায়।

মানবসভ্যতার আদিযুগ থেকেই মানুষ বিভিন্ন উপায়ে তথ্য সংরক্ষণের চেষ্টা করেছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগে গুহার প্রাচীরে চিত্র ও সাংকেতিক চিহ্ন অঙ্কনের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণের প্রচলন ছিল। পরবর্তীকালে মাটির ফলক, পাথরের ফলক, প্যাপিরাস, পার্চমেন্ট, তালপাতা, কাগজ, ধাতব পাত প্রভৃতি উপাদানে লিখিত তথ্য সংরক্ষণের রীতি গড়ে ওঠে। এগুলো ছিল মূলত দৃশ্যমান তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যম।

শব্দ সংরক্ষণের ইতিহাস শুরু হয় উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি উদ্ভাবক
Édouard-Léon Scott de Martinville ফোনোটোগ্রাফ (Phonautograph) উদ্ভাবন করেন। এই যন্ত্রে শব্দতরঙ্গকে কাগজের ওপর রেখাচিত্র আকারে ধারণ করা গেলেও তা পুনরায় শোনানো সম্ভব ছিল না। ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন উদ্ভাবক থমাস আলভা এডিসন ফোনোগ্রাফ (Phonograph) উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রথম শব্দ ধারণ ও পুনরুৎপাদনের কার্যকর ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তাঁর ব্যবহৃত মোমের সিলিন্ডারকে সিলিন্ডার রেকর্ড বলা হতো।

১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান-আমেরিকান উদ্ভাবক এমিল বার্লিনার সমতল চাকতিভিত্তিক গ্রামোফোন রেকর্ড উদ্ভাবন করেন। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল ছাঁচ
(pressing) ব্যবহার করে একই মূল রেকর্ড থেকে অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন। এর ফলে রেকর্ড উৎপাদনের ব্যয় অনেক কমে যায় এবং গ্রামোফোন রেকর্ড দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সিলিন্ডার রেকর্ডের ব্যবহার প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে ডিস্ক রেকর্ডই বিশ্বের প্রধান শব্দসংরক্ষণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীকালে রেকর্ড প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন ঘটে।

শেলাক
(Shellac) নির্মিত ৭৮ RPM রেকর্ডের পর আসে দীর্ঘ-বাদনক্ষম ৩৩⅓ RPM লং প্লে (LP) রেকর্ড এবং ৪৫ RPM সিঙ্গল রেকর্ড। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে চৌম্বক টেপ, কমপ্যাক্ট ডিস্ক (CD), ডিজিটাল অডিও ডিস্ক এবং পরবর্তীকালে ডিজিটাল ফাইলভিত্তিক শব্দসংরক্ষণ প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটে। তবুও ভিনাইল রেকর্ড এখনও সঙ্গীতপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ মর্যাদা বহন করে।

বাংলা ভাষায় 'রেকর্ড' শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামোফোন রেকর্ডের সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও প্রযুক্তিগত অর্থে রেকর্ড বলতে কেবল গ্রামোফোন ডিস্ক নয়, শব্দ সংরক্ষণের সকল মাধ্যমকেই বোঝায়।

রেকর্ডের প্রকার : শব্দ ধারণের মাধ্যম অনুসারে রেকর্ডকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
রেকর্ডিং পদ্ধতি : যান্ত্রিক রেকর্ডিংয়ে শব্দতরঙ্গের কম্পনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সূচ (Stylus) রেকর্ডের পৃষ্ঠে খাঁজ (groove) অঙ্কন করে। এই খাঁজের মধ্যেই শব্দের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। যান্ত্রিক রেকর্ডিংয়ের খাঁজ অঙ্কনের দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে— রেকর্ডের ঘূর্ণনগতি : রেকর্ড সঠিকভাবে বাজানোর জন্য নির্দিষ্ট ঘূর্ণনগতির প্রয়োজন হয়। এই গতি ঘূর্ণন প্রতি মিনিট (Revolutions per Minute) বা RPM এককে প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক যুগে বিভিন্ন নির্মাতা বিভিন্ন ঘূর্ণনগতির রেকর্ড তৈরি করতেন; ফলে এক কোম্পানির রেকর্ড অন্য কোম্পানির যন্ত্রে সঠিকভাবে বাজানো যেত না। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিকভাবে কয়েকটি মান নির্ধারিত হয়। রেকর্ডের আকার:
সিলিন্ডার রেকর্ড ও ডিস্ক রেকর্ডের বিচারে আকারের পার্থক্য রয়েছে। যেহেতু সিলিন্ডার রেকর্ডে, একটি সিলিন্ডারকে পাতলা টিনের পাত দ্বারা মোড়ানো হতো, তাই এর পরিমাপের জন্য দৈর্ঘ্য ও ব্যাসের পরিমাপটা মুখ্য বিষয় ছিল। কিন্তু থালার মতো ডিস্ক রেকর্ডর পরিমাপ করা হয় এর ব্যাসের দ্বারা।

রেকর্ডের উপাদান
তথ্যসূত্র
  • Gelatt, Roland. The Fabulous Phonograph: From Tin Foil to High Fidelity. 2nd ed. New York: Macmillan Publishing Co., 1977. (First published 1955.)
  •  Read, Oliver, and Walter L. Welch. From Tin Foil to Stereo: Evolution of the Phonograph. 2nd ed. Indianapolis: Howard W. Sams & Co., 1976. (First published 1959.)
  • Morton, David L., Jr. Sound Recording: The Life Story of a Technology. Baltimore: Johns Hopkins University Press, 2004.
  • Millard, Andre. America on Record: A History of Recorded Sound. 2nd ed. Cambridge: Cambridge University Press, 2005. (First published 1995.)
  • Koenigsberg, Allen. The Patent History of the Phonograph, 1877–1912. APM Press, 1990.
  • Copeland, Peter. Manual of Analogue Sound Restoration Techniques. London: The British Library, 2008.
  • Andrews, Frank. Recording History: The British Record Industry, 1888–1931. London: Science Museum, 1989.
  • Frow, George L. The Cylinder Phonograph Companion. London: City of London Phonograph and Gramophone Society, 1994. Emerson, Victor H. Phonograph and Graphophone. New York: Harper & Brothers, 1895. The Phonogram. Edison Phonograph Company, 1891–1901.
  • Scientific American. New York: Munn & Co., 1877 and subsequent issues (articles on the phonograph and sound recording).