এদের দেহ প্রসারিত। দেহের সম্মুখভাগ চোঙ্গাকৃতির এবং লেজ বরাবর কিছুটা চাপা। দেহ-ত্বক ক্ষুদ্র, লম্বা ও ডিম্বাকৃতির অাঁইশ দ্বারা আবৃত। দেহ কঙ্কালে কশেরুকা ১০০ থেকে ১১০টি থাকে।

মাথা গোলাকার, থুতনী পৃষ্ঠীয় দিকে চ্যাপ্টা। সম্মুখ নাসারন্ধ্র থুতনীর উপর একটি সরু নালীর মতো থাকে। পশ্চাৎ নাসারন্ধ্র চোখের সম্মুখে গর্তের মতো। এদের উর্ধ্ব এবং নিম্ন ঠোঁট সুস্পষ্ট এবং উর্ধ্বচোয়াল অপেক্ষা নিম্ন চোয়াল দীর্ঘতর ও বহির্গত। উর্ধ্ব চোয়ালের দাঁতগুলি অনুদৈর্ঘ্য সারিতে বিন্যস্ত। মধ্য সারির দাঁতগুলি অধিকতর বড়, কিন্তু বাইরের দুটি সারি একটি দাঁতবিহীন খাঁজ দ্বারা মধ্য সারি থেকে পৃথক। এই খাঁজ পিছন থেকে ডোরার শেষ পর্যন্ত প্রসারিত।

পৃষ্ঠীয় পাখনা পায়ু অপেক্ষা ফুলকা রন্ধ্রের অনেক নিকটে থাকে। বক্ষপাখনা গোলাকার। শ্রোণী পাখনা নেই।

প্রাপ্তবয়স্ক বামোশ স্বাদু পানিতে থাকে। সাধারণত জলাশয়ের তলদেশে বাস করে। ডিম পাড়ার সময় এরা সমুদ্রে যায়। ডিম ফুটে পোণা বের হয়ে আসার পর এরা সমুদ্রের অগভীর অংশে চলে আসে। এরপর নদীর পানি যে স্থানে সাগরে পতিত হয়, সেই স্থানের দিকে পোণাগুলো চলে আসে। অপরিণত অবস্থায় মাছগুলি সমুদ্রমোহনায় অর্ধ-লবণাক্ত পরিবেশে থাকে। মাছগুলো কিছুটা বড় হলে, এরা নদীর নিম্নভাগ অতিক্রম করে স্বাদু পানিতে চলে আসে। এরপর মাছগুলো প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নদীর স্বাদু পানিতেই কাটায়। কিন্তু প্রজননকালে এরা সমুদ্রে চলে যায়। কারণ নদীতে এই মাছের যৌনগ্রন্থি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় না। শীতকালে এরা নদী থেকে মোহনার দিকে যায়। যেখানে তাদের যৌনগ্রন্থি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে প্রজননের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায়। ডিম পাড়া শেষে বড় মাছগুলো আবার স্বাদু পানিতে চলে আসে। কিন্তু জীবনের শেষাংশে এরা চিরতরে সমুদ্রে চলে যায়।

এরা ছোটো কাঁকড়া, ব্যাঙ  এবং ছোটো মাছ বা মাছের পোণা আহার করে।

খাদ্য হিসেবে এই মাছটির ব্যাপক চাহিদা আছে। বাংলাদেশের বাজারে মূলত তাজা মাছ বিক্রি করা হয়। এই মাছ জীবিত অবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণে বাংলাদেশে জাপান, সিঙ্গাপুর এবং হংকং এ রপ্তানি করা হয়।