ইন্দুবালা'দেখতে দেখতে আবার সেই জন্মাষ্ঠমীর দিন এলো।...গান চলছে। বাজনা চলছে।...ওস্তাদজী এসে আমায় চুপি চুপি জিজ্ঞেস করলেন, 'গাইবে?'...রাজী হয়ে গেলাম।...কিন্তু গাইব কী? চারপাশে যাঁরা বসে আছেন তাঁরা কেউ হেঁজিপেজি নন। গহরজান, আগ্রাওয়ালি মালকা, নূরজাহান,...হুশনা, জানকীবাঈ, মৈজুদ্দিন...ভয়ে ভয়ে ইমন খেয়াল শুরু করলাম গান শেষ হতে শুধু যে বাহবাই পেলাম তা নয়, অনেকে মিলে আরও গাইতে অনুরোধ করলেন।...ঠুমরি শেষ করে ওঠার উদ্যোগ করছি, গহরজানের আদেশে থেকে যেতে হল। তিনি আরও গান শোনাবার ফরমায়েশ করলেন।...ভয়ে আনন্দে আরও দুখানা গান পরপর গাইলাম।'১৯১৬ ক্রিষ্টাব্দে গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে প্রকাশিত হয় ইন্দুবালার প্রথম রেকর্ড। গান দু'টি ছিল
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে 'দি রামবাগান ফিমেল কালী থিয়েটারে' অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর
আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর থেকে গানের পাশাপাশি বিভিন্ন নাটকে ও সিনেমায় তিনি
অভিনয় করেছিলেন। তিনি প্রথমে স্টার থিয়েটারে যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও মদনমোহন
থিয়েটার এবং মিনার্ভা থিয়েটারেও কাজ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি হিন্দি ও
পার্সি থিয়েটারেও অভিনয় করেন। সিনেমায় তাঁর প্রথম অভিনয় 'যমুনা পুলিনে' ছবিতে। এরপর
তিনি মোট ৪৮টি ছবিতে অভিনয় করেন। উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে ছিল 'নলদময়ন্তী',
'মীরাবাঈ', 'চাঁদসদাগর', 'বিল্বমঙ্গল' ইত্যাদি। এর মধ্যে বাংলা হিন্দি, উর্দু,
পঞ্জাবি ও তামিল ভাষার ছবিও ছিল।
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সেন্টার (পরবর্তী কালে যা অল ইন্ডিয়া
রেডিও নামে পরিচিত হয়) সম্প্রচার শুরু করে। এর দ্বিতীয় দিনেই ইন্দুবালা সঙ্গীত
পরিবেশন করতেন। পরবর্তী ৫০ বছরের জন্য তিনি কলকাতা বেতারের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন।
১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ইন্দুবালা কুড়ি হাজার টাকায়
একটি দোতলা বাড়ি ২১ নং যোগেন দত্ত লেনে। এর মাকে নিয়ে জীবনকৃষ্ণ বাবুর আশ্রিত ১৪
দয়াল মিত্র লেনের আশ্রয় ছেড়ে চলে আসেন। আমৃত্যু তিনি এই বাড়িতেই কাটান।
১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মহীশূর রাজ-দরবারের সভা-গায়িকা নির্বাচিত হন। সে সময় সফল
গায়িকা হিসেবে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে।
সম্মাননা:
১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দিল্লী সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান।
১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে এইচএমভি তাঁকে 'গোল্ড ডিস্ক' দিয়ে সম্মানীত করে। এই বৎসরেই পান
রবীন্দ্রসদন থেকে স্বীকৃতি।
১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে আকাশবাণীর (কলকাতা) পঞ্চাশ
বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রদত্ত সম্মান স্মারক প্রদান করে।
১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্দুবালার কণ্ঠে বাংলা
গান
গান দুটির রেকর্ড নম্বর পি ১১৬৬১। রেকর্ড নম্বরের কালানুক্রম অনুসারে পি ১১৬৩২
রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৩৬) মাসে। এই
বিচারে পি ১১৬৩২ রেকর্ডের গান দুটিকে নজরুলের গান কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
তথ্যসূত্র:
ইন্দুবালা/বাঁধন সেনগুপ্ত। দীপ প্রকাশন
The record news.
2008