বিষয়: নজরুলসঙ্গীত
শিরোনাম:
আমি
সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
আমি
সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
তুমি সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি॥
আসিয়াছি সুন্দর ধরণীতে
সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে
রূপ-সুন্দর দেবতার পায় অঞ্জলি দেই বাণী॥
রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি'
ওগো সুন্দর বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাঁশি ।
পরিয়া
তোমার রূপ-অঞ্জন
ভুলেছে নয়ন রাঙিয়াছে মন
উছলি' উঠুক মোর
সঙ্গীতে সেই আনন্দখানি॥
-
ভাবসন্ধান: পরম সত্য, পরম সুন্দরই পরমসত্তা। এই
পরমসৌন্দর্যের বন্দনা এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে। সেই
পরমসুন্দরে কাছে কবি অতি নগণ্য। কবি তা জানেন, তাই তাঁর গান গেয়েই নিজেকে ধন্য মনে
করেন তিনি। কবি ভাবেন, তাঁর সৃষ্ট এই সুন্দর পৃথিবীতে রিনি এসেছেন, সকল সৌন্দর্য
উপভোগের জন্য। তাই সৌন্দর্যে অধিষ্ঠাতা দেবতারূপী পরম সত্তার পায়ে গানে গানে তাঁর
বাণীর অঞ্জলি দেন কবি।
কবির কাছে সকল সৌন্দর্যই তীর্থভূমি। সৌন্দর্যের পূজারি কবি রূপের
তীর্থের
তীর্থ-পথিক হয়ে যুগান্তরের পথ
ধরে বার বার ফিরে আসেন। তাঁরই নামের বাঁশি বাজিয়ে জান অবিরাম। এই পরমসুন্দর তাঁর
চোখে যে সৌন্দর্যের কাজল পরিয়ে দিয়েছেন, তারই পরশ-মোহে কবি মোহিত, সৌন্দর্যে রঞ্জিত
হয়েছে তাঁর মন। কবির কামনা সেই সৌন্দর্য সঙ্গীতের আনন্দধারা তাঁর চিত্তকে উদ্বেলিত
করে তুলুক।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৩৪১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)
মাসে গানটি
গানের
মালা
প্রথম সংস্করণে এবং
মোহাম্মদী পত্রিকার আশ্বিন ১৩৪১
(সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের
বয়স ছিল ৩৫ বৎসর ৪ মাস।
-
গ্রন্থ:
-
গানের মালা
- প্রথম সংস্করণ [আশ্বিন
১৩৪১ বঙ্গাব্দ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)।
১। বেহাগ-দাদরা]
- নজরুল রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংকলন ষষ্ঠ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, জুন ২০১২। গানের মালা।
১। বেহাগ-দাদরা। পৃষ্ঠা ১৯৩]
- পত্রিকা: মোহাম্মদী। আশ্বিন ১৩৪১ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর
১৯৩৪)।
- রেকর্ড:
-
স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত।
সাধারণ। পরমসত্তা। সুন্দর। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: রাগাশ্রয়ী