বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম: জয় বাণী বিদ্যাদায়িনী।
জয় বাণী বিদ্যাদায়িনী।
জয় বিশ্বলোক-বিহারিণী॥
সৃজন-আদিম-তমো অপসারি'
সহস্রদল কিরণ বিথারি
আসিলে মা তুমি গগন বিদারি'
আলোক-মরাল-বাহিনী॥
ভারতে ভারতী মূক তুমি আজি,
বীণাতে উঠিছে ক্রন্দন বাজি,
ছিন্ন চরণ-শতদলরাজি
কহিছে পীড়ন-কাহিনি॥
ঊর মা আবার কমলাসীনা,
করে ধরো পুন সে রুদ্রবীণা,
নব সুর তানে বাণী পরাধীনা জাগাও অমৃত-ভাষিণী॥
- ভাবসন্ধান: বিদ্যাদেবী সরস্বতীর সরস্বতীর (বাণী) অনন্য আবাহন-গীত।
এ গানে দেবী শুধু বিদ্যার নন, বরং
তার চেয়ে বেশি অজ্ঞানতার অন্ধকার বিনাশকারী এক বিপ্লবী শক্তির প্রতীক।
গানটির শুরুতে কবি
বিশ্বলোকের বিদ্যাদায়িনী এই দেবীর জয়গান করেছেন। সৃষ্টির শুরুতে
আদিম অন্ধাকার অপসারণ কর, জ্ঞানালোকের সহস্রদল মেলে
আবির্ভূতা হয়েছিলেন। তিনি এসেছিলেন অজ্ঞানতার অন্ধকার
জগতের বুকে তাঁর সহস্র জ্ঞান-পাঁপড়ির
আলোকে আকাশ বিদীর্ণ করে ।
এখানে 'আলোক-মরাল-বাহিনী', হলো
জ্ঞানালোকের শুভ্র মরাল (হংস
বিশেষ)। প্রতীকী অর্থে জ্ঞানের বাহন।
পরাধনী ভারতে বাণী ছিল রুদ্ধ। সেখানে ভারতীও (সরস্বতী)
ছিলেন বাকরুদ্ধা। তাঁর সে বীণাতে ধ্বনিত হয়েছিল
বেদনার্ত সুর। ছিন্ন পদ্মদলের মতো পরাধীনতার পীড়ন-কাহিনি। সবশেষে কবি দেবীকে এক নতুন রূপে কল্পনা করেছেন। তিনি দেবীর হাতে কেবল কোমল বীণা নয়, বরং
'রুদ্রবীণা'র সন্ধান করেছেন। দেবী কবি প্রার্থনা করছেন- যেন দেবী পুনরায় তাঁর সেই মহিমান্বিত আসনে অধিষ্ঠিত হন. তাঁর বীণার নতুন সুরে যেন পরাধীন ও শৃঙ্খলিত ভারতবাসী জেগে ওঠেন।
পরাধীনতার সকল গ্লানি মুছে দেবী যেন আবার হয়ে ওঠেন জগৎকল্যাণী 'অমৃত-ভাষিণী।
- রচনাকাল ও স্থান:: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় না। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) মাসে প্রকাশিত
'চন্দ্রবিন্দু' সঙ্গীত-সংকলনে গানটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময়
নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩২ বৎসর ৪ মাস।
- এর জুড়ি গান ছিল-
- লক্ষ্মী মা তুই ওঠ্ গো আবার] [তথ্য]
- গ্রন্থ:
-
চন্দ্রবিন্দু
- প্রথম সংস্করণ [সেপ্টেম্বর ১৯৩১, আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ।]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, চতুর্থ খণ্ড।
বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮, মে ২০১১।
চন্দ্রবিন্দু। ২। খাম্বাজ-একতালা। পৃষ্ঠা: ১৬৩-১৬৪]
- বনগীতি
- প্রথম সংস্করণ [১৩ অক্টোবর ১৩৩২ (রবিবার ২৭ আশ্বিন ১৩৩৯)।
সরস্বতী বন্দনা। পৃষ্ঠা: ৭২-৭৩]
- নজরুল-রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী। ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮/মে ২০১১।
বনগীতি। ৪৯ সংখ্যক গান। সিন্ধুকাফি-যৎ। পৃষ্ঠা ২০৭]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
১৮৮৬।
রাগ: খাম্বাজ, তাল: একতাল।
পৃষ্ঠা:
৫৬৮]
- পত্রিকা:
- রেকর্ড:
- সুরকার: ধীরেন্দ্রনাথ দাস
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সঙ্গীত বিজ্ঞান প্রবেশিকা।
[পৌষ ১৩৪২ (ডিসেম্বর ১৯৩৫-জানুয়ারি
১৯৩৬)]। সরস্বতী- বন্দনা। মিশ্র খাম্বাজ-দাদরা। সুরকার:
ধীরেন্দ্রনাথ দাস।
[নমুনা]
-
আহসান মুর্শেদ [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি,
তেত্রিশতম খণ্ড, (নজরুল ইন্সটিটিউট, আষাঢ় ১৪১৭। জুন
২০১০)। ১৪ সংখ্যক গান। রেকর্ডে
ধীরেন দাস-এর
গাওয়া সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। সরস্বতী
বন্দনা। ভক্তিমূলক। রাগ: খাম্বাজ। তাল: একতাল। পৃষ্ঠা: ৪৮-৫১][নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। সরস্বতী। প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ:
ভজনাঙ্গ
- রাগ:
খাম্বাজ
- তাল:
- গ্রহস্বর:
- গ [প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়-কৃত
স্বরলিপি]
- গমা [আহসান মুর্শেদ
-কৃত স্বরলিপি]