ভাবসন্ধান: এই গানে শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ রূপ, আনন্দময় নৃত্য ও তাঁর লীলামাধুর্যের চিত্ররূপ
উপস্থাপিত হয়েছে। বৈষ্ণব ভাবধারার মাধুর্য ও আনন্দ রস-এ রচিত এই গানে কৃষ্ণকে নন্দের দুলাল, শ্যামসুন্দর, মদনমোহন ও গোপাল রূপে বন্দনা করা হয়েছে।
গানের শুরুতেই কবি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন- হরি নাচছেন, নন্দদুলাল নাচছেন। তিনি শ্যামবর্ণ, অপরূপ সুন্দর, এমন মোহনীয় যে তাঁর সৌন্দর্য কামদেবকেও পরাভূত করে। তিনি নবীন কিশোর কানাইয়া, যিনি গোপাল রূপে ব্রজের সকলের হৃদয় জয় করেছেন।
ময়ূরপুচ্ছখচিত মুকুট পরে গিরিধারী কৃষ্ণ তাঁর ঐশ্বরিক নৃত্য পরিবেশন করছেন। তাঁর সেই নৃত্যের ছন্দ ও সৌন্দর্যে চারদিকে আনন্দের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। তাঁর প্রতিটি ভঙ্গি, প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সৃষ্টির মধ্যে নতুন প্রাণ ও উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করছে।
কৃষ্ণের এই আনন্দময় নৃত্যে শুধু প্রকৃতিই নয়, গোপী ও সখারাও আনন্দে অংশগ্রহণ করছে। বাঁশিওয়ালা হরি তাঁর বাঁশির সুর, নৃত্যের ছন্দ এবং প্রেমময় উপস্থিতির মাধ্যমে সমগ্র বৃন্দাবনকে আনন্দময় করে তুলেছেন। তাঁর পায়ের নূপুরের রুনুঝুনু ধ্বনি যেন সেই আনন্দের সংগীত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই গানে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনের লীলাময় রূপ, তাঁর নৃত্যের সৌন্দর্য এবং ভক্তহৃদয়ে সৃষ্ট আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। কৃষ্ণ এখানে শুধু একজন নৃত্যশিল্পী নন; তিনি প্রেম, আনন্দ ও সৌন্দর্যের চিরন্তন উৎস, যাঁর উপস্থিতিতে সমগ্র ব্রজধাম আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে।
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর
(ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪০) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি যোগেশ চৌধুরী 'মীরাবাঈ'
নাটক প্রকাশ করে। গানটি এই নাটকের মীরা চরিত্রের গান হিসেবে প্রথম প্রচারিত হয়। এই সময়
নজরুল ইসলামের বয়স ছিল
৩৪ বৎসর ৩ মাস।
গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২১৩০। নাটিকা :
মীরাবাঈ। পৃষ্ঠা: ৬৪২]
বেতার: মীরা-গীত-উৎসব
(গীতি-আলেখ্য) [বৃহস্পতিবার। ৬ আগষ্ট ১৯৩৬। ১২ শ্রাবণ ১৩৪৩)। সময়: ৬,৫০-৮.১৪] শিল্পী: রেবা সোম
সূত্র:
বেতার জগৎ। ৭ম বর্ষ ১৫শ সংখ্যা। পৃষ্ঠ: ৬৬৮
The Indian Listener. Vol I. No15. 22 July 1936. page
754